রোজার ঈদের সরকারি ছুটি শেষ। ‘ঈদের পর সরকার বিরোধী আন্দোলন’- বিভিন্ন ইফতার পার্টিতে দেয়া বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার এই বক্তব্যের সূত্র ধরে রাজনৈতিক অঙ্গনের সর্বত্র এখন আলোচনা- কবে কি কর্মসূচি দিতে যাচ্ছে বিএনপি। দলীয় প্রধানের বক্তব্যের ধারাবাহিকতায় দলটির নেতারাও গত দু’দিনে পৃথকভাবে বলেছেন, আগামী সপ্তাহে কর্মসূচির ঘোষণা আসতে পারে। তবে ঈদের পর আন্দোলন এবং কি ধরনের কর্মসূচি দেয়া হবে, সে বিষয়ে তেমন কিছু জানে না বিএনপির নেতৃত্বাধীন জোটের শরিকরা। বলতে গেলে এ বিষয়ে শরিক দলগুলো এক ধরনের অন্ধকারে।
আন্দোলনের বিষয়ে জামায়াতের অন্যতম শীর্ষ নেতা ডা. সৈয়দ আব্দুল্লাহ মোহাম্মদ তাহের সম্প্রতি এই প্রতিবেদককে জানান, বর্তমান সরকারের বিরুদ্ধে জোটের আন্দোলন চলমান প্রক্রিয়া। সেই প্রক্রিয়ায় সাময়িক বিরতি থাকতে পারে, তবে সেটি বন্ধ নেই। ঈদ-পরবর্তী সরকার বিরোধী আন্দোলনের বিষয়ে জোটের বৈঠকে আলোচনার মাধ্যমে কর্মসূচি ঠিক করা হবে। যেহেতু সেই আলোচনাটি এখনও হয়নি, সে কারণে সুনির্দিষ্ট করে কর্মসূচির বিষয়ে জানা বা বলাও সম্ভব নয়। এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, পাঁচ জানুয়ারির নির্বাচনের আগের আন্দোলনের সঙ্গে এবারের আন্দোলনের নিশ্চয়ই কৌশলগত কিছু পার্থক্য থাকবে।
বিএনপির যুগ্ম-মহাসচিব রুহুল কবীর রিজভী গতকাল শনিবার সংবাদ সম্মেলনে বলেছেন, কিছুদিনের মধ্যেই বিএনপির স্থায়ী কমিটির ও ২০ দলীয় জোটের বৈঠক হবে। সেইসব বৈঠকেই আন্দোলনের কর্মসূচি প্রণয়ন করা হবে।
বিএনপি সূত্রে জানা গেছে, ‘ঈদের পর সরকার বিরোধী আন্দোলন’- বলতে খালেদা জিয়া কী ধরনের কর্মসূচির কথা ইঙ্গিত করেছেন তা দলের নেতা-কর্মীদের কাছেও স্পষ্ট নয়। তবে দলের ভেতরের নানান উেসর আলোচনা থেকে তারা এটুকু জানেন, আপাতত শক্ত কোনো কর্মসূচি আসছে না। ঢাকাসহ সারাদেশে বিক্ষোভ মিছিল-সমাবেশ, মানববন্ধন ও গণঅনশনের মতো ‘নরম’ কর্মসূচি দেয়া হতে পারে। ঢাকাসহ এর পার্শ্ববর্তী জেলাগুলোতে কয়েকটি জনসভাও করা হবে। এইসময়ে দল গুছানোর কাজও সারতে চায় দলটি। মূলত: অক্টোবর থেকে শক্ত কর্মসূচিতে যাওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে বিএনপির। তবে অক্টোবরে কোরবানির ঈদ ও হিন্দু ধর্মাবলম্বীদের সবচেয়ে বড় ধর্মীয় উত্সব দুর্গাপূজা থাকার বিষয়টিও মাথায় রাখা হচ্ছে।
কর্মসূচির বিষয়ে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ব্যারিস্টার রফিকুল ইসলাম মিয়া ইত্তেফাককে বলেন, আন্দোলন একটি ধারাবাহিক বিষয়। ধাপে-ধাপে এটিকে চূড়ান্ত পর্যায়ে নেয়া হবে। প্রথম ধাপে হয়তো মিছিল-সমাবেশ, বিক্ষোভ ও অনশনের মতো অহিংস বা শান্তিপূর্ণ কর্মসূচি দেয়া হতে পারে। তবে এতেও যদি সরকার বাধা দেয়, তাহলে উদ্ভূত পরিস্থিতিতে হরতালসহ শক্ত কর্মসূচিও দিতে পারে জোট। এছাড়া সময়ের প্রয়োজনে কর্মসূচিতে পরিবর্তন আসবে বলেও জানান তিনি।
খালেদা জিয়াসহ বিএনপি নেতারা আন্দোলনের কথা বললেও, এ বিষয়ে এক ধরনের গোলকধাঁধায় দলটির জোট শরিকরা। কবে জোটের বৈঠক, কবে নাগাদ কী ধরনের কর্মসূচি দেয়া হবে, সে ব্যাপারে বিএনপির পক্ষ থেকে তাদের আগে থেকে কোনো ধারণাও দেয়া হয়নি। বিএনপির নেতৃত্বাধীন জোটের শরিক ইসলামী ঐক্যজোটের একাংশের চেয়ারম্যান আব্দুল লতিফ নেজামী গতকাল ইত্তেফাককে বলেন, কর্মসূচির বিষয়ে জোট প্রধানকে আমরা এমনিতেই দায়িত্ব দিয়ে রেখেছি। সময় ও প্রেক্ষাপটের আলোকে তিনি যখন যে কর্মসূচি দেবেন, সেটির সঙ্গে আমাদের দ্বিমত থাকবে না। তিনি বলেন, রোজার আগে জোটের যে বৈঠক হয়েছিল, সেখানেই সিদ্ধান্ত হয়েছে-ঈদের পর আন্দোলন শুরু হবে।
জোটের আরেক শরিক এলডিপি সভাপতি ড. কর্নেল অলি আহমদ (অব.) বলেন, আমাদের সবার লক্ষ্য বর্তমান সরকারকে বিদায় করা। সকল দলের অংশগ্রহণে একটি গ্রহণযোগ্য নির্বাচন অনুষ্ঠানে এই সরকারকে বাধ্য করাই আন্দোলনের একমাত্র ও প্রধান টার্গেট। সেই লক্ষ্যে পৌঁছতে যখন যে ধরনের কর্মসূচি দেয়া দরকার, জোট সেটি করবে। এখানে কর্মসূচির বিষয়ে জোটের শরিক কে আগে জানলো, কে জানলো না- সেটি মুখ্য বিষয় নয়।
জোট শরিক জাতীয় গণতান্ত্রিক পার্টি (জাগপা) সভাপতি শফিউল আলম প্রধান বলেন, কর্মসূচির রূপরেখা এখনও চূড়ান্ত হয়নি। তবে আন্দোলনের বিষয়ে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব (মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর) ইতোমধ্যে আমার সঙ্গে একদফা আলাপ করেছেন, সিঙ্গাপুর থেকে ফেরার পর হয়তো আবারও কথা বলবেন।
