পিস্তলটি নূর হোসেনের, গাড়ি শ্যালকের

আপডেট : ০২ আগস্ট ২০১৪, ২২:৫৩
রাজধানীর মালিবাগ রেলক্রসিংয়ে ট্রেনের ধাক্কায় দুমড়ে মুচড়ে যাওয়া প্রাইভেটকার থেকে উদ্ধার হওয়া গুলিভর্তি পিস্তলটি নারায়ণগঞ্জের বহুল আলোচিত সেভেন মার্ডার মামলার প্রধান আসামি কলকাতায় গ্রেফতারকৃত নূর হোসেনের। অস্ত্রের গায়ে থাকা সিরিয়াল নম্বর ও লাইসেন্স নম্বরের সঙ্গে মিলিয়ে পুলিশ বিষয়টি নিশ্চিত হয়েছে। নূর হোসেনের অস্ত্রটি দুর্ঘটনাকবলিত প্রাইভেটকারে কীভাবে গেলো পুলিশ তা খতিয়ে দেখছে। আহত তিন প্রাইভেটকার আরোহীর মধ্যে একজনের পরিচয় নিশ্চিত করে তাকে আটক করতে পেরেছে পুলিশ। গত শুক্রবার বিকালে পৌনে ৫টার দিকে চট্টগ্রাম থেকে ছেড়ে আসা চট্টলা এক্সপ্রেস ট্রেনের সঙ্গে মালিবাগ রেলক্রসিংয়ে একটি কালো প্রাইভেটকারের মুখোমুখি সংঘর্ষ হয়। এতে প্রাইভেটকারটি দুমড়ে মুচড়ে যায়। গাড়িটি নূর হোসেনের শ্যালক নূরে আলমের। প্রাইভেটকার থেকে উদ্ধার হয় ২০ রাউন্ড গুলিসহ একটি অত্যাধুনিক নাইন এমএম স্বয়ংস্ক্রিয় বিদেশি পিস্তল। এ ঘটনায় আহত হন প্রাইভেটকারের তিন আরোহী। আহত তিনজন ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে চিকিত্সা নেয়ার কথা বলেই পালিয়ে যান। এরপর পুলিশ তিন যাত্রীকে ঢাকার বিভিন্ন হাসপাতালে খুঁজতে থাকে। রেলওয়ে পুলিশ প্রধান সহকারী অতিরিক্ত উপ-মহাপুলিশ পরিদর্শক কামরুল আহসান জানান, বিভিন্ন হাসপাতালের আহতদের সন্ধান করতে গিয়ে রাজধানীর এ্যাপোলো হাসপাতালে চিকিত্সাধীন অবস্থায় আনসার আলী ওরফে ইয়ার রহমানকে পাওয়া যায়। তাকে আটক করা হয়েছে। তার গ্রামের বাড়ি বরিশালে। এ ব্যাপারে মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে। মামলা দায়েরের পর আনসার আলী ওরফে ইয়ারকে গ্রেফতার দেখানো হবে। অপরদিকে রেলওয়ে পুলিশের অপর একটি সূত্র জানায়, আনসার আলীর দেয়া প্রাথমিক তথ্যের ভিত্তিতেই অস্ত্রটি নূর হোসেনের বলে পুলিশ জানতে পারে। পরে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ও নারায়ণগঞ্জ জেলা প্রশাসনের নথি যাচাই করে তা নিশ্চিত হয়। আনসার আলী গুরুতর আহত হওয়ায় তাকে বিস্তারিত জিজ্ঞাসাবাদ করা যায়নি। এ্যাপোলো হাসপাতালের নিবিড়ি পরিচর্যা কেন্দ্রে (আইসিইউ) চিকিত্সকদের তত্ত্বাবধানে আছেন তিনি। তার স্বজনরা দাবি করেন, সে ফিদ্ধ-এঙ্গেল নামে একটি প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তা। পুলিশ আনসারের স্বজনদেরও জিজ্ঞাসাবাদ করছে। কমলাপুর রেলওয়ে থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) আব্দুল মজিদ জানান, পিস্তল ও গুলির নম্বরের সঙ্গে নারায়ণগঞ্জের সাত খুনের বহুল আলোচিত আসামি নূর হোসেনের অস্ত্রগোলাবারুদের নম্বরের সঙ্গে মিল আছে। যা থেকে অস্ত্রগোলাবারুদগুলো নূর হোসেনের বলে আমরা নিশ্চিত হয়েছি। পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, রাজধানীর স্কয়ার হাসপাতালে আরেক যাত্রী চিকিত্সার জন্য গেলেও পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে প্রাথমিক চিকিত্সা নিয়ে তিনি পালিয়ে যান। আরেকজনের কোন হদিসই মিলেনি। এ ব্যাপারে কমলাপুর জিআরপি থানায় একটি দুর্ঘটনা, অপরটি অস্ত্রগোলাবারুদের বিষয়ে পৃথক দুইটি মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে। চলতি বছরের ২৭ এপ্রিল নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের প্যানেল মেয়র নজরুল ইসলাম ও আইনজীবী চন্দন সরকারসহ ৭ জনকে অপহরণ করা হয়। ৩ দিন পর নারায়ণগঞ্জের শীতলক্ষ্যা নদীতে ৬ জনের এবং পরদিন অপরজনের লাশ ভেসে উঠে। এ ঘটনায় দায়েরকৃত মামলার অন্যতম আসামি নূর হোসেন বর্তমানে ভারতের কারাগারে বন্দী। জানা যায়, ঘটনার পর পরই নূর হোসেনের অস্ত্রের লাইসেন্স বাতিল করা হয়। সেই বাতিল করা অস্ত্রগুলোরই একটি মালিবাগে ট্রেনের ধাক্কায় দুমড়ে মুচড়ে যাওয়া প্রাইভেটকারে পাওয়া যায়। নূর হোসেনকে দেশে ফেরত আনার প্রক্রিয়া চলছে।