কাল যেখানে আঁধার ছিল আজ সেখানে আলো
মো. সুজাউদ দৌলা
প্রভাষক বাংলা বিভাগ
রাজউক উত্তরা মডেল কলেজ, ঢাকা।
কবিতা : রৌদ্র লেখে জয়
প্রশ্ন-১। বর্গি কারা? তারা কী করেছিল?
উত্তর: কবি শামসুর রাহমান রচিত ‘রৌদ্র লেখে জয়’ একটি মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক কবিতা। এ কবিতায় কবি বর্গির অন্তরালে পাকিস্তানি হানাদার বাহিনীর নির্মমতার কথাই তুলে ধরেছেন।
বর্গি হচ্ছে মারাঠা দস্যু। অনেক আগে বাংলায় বর্গিরা আক্রমণ চালাত। তারা মানুষ মারত, ধনসম্পদ লুট করে পালিয়ে যেত। কবি শামসুর রাহমান এ কবিতায় পাকিস্তানি সৈন্যদের বর্গি বলেছেন।
বর্গিরা ছিল দস্যু। বাংলার ধন সম্পদের লোভে অনেক আগে বর্গিরা আক্রমণ করত। এদেশের মানুষ মেরে, ঘরবাড়ি জ্বালিয়ে পুড়িয়ে, বাঙালির ধনসম্পদ নিয়ে বর্গিরা পালিয়ে যেত। এ কবিতায় কবি পাকিস্তানিদের বর্গি বলেছেন। কেননা পাকিস্তানি হানাদার বাহিনীও বর্গিদের মতো ১৯৭১ সালে এদেশের মানুষের ওপর আক্রমণ চালায়। হানাদার বাহিনী মানুষের ঘরবাড়ি শহর বন্দর জ্বালিয়ে দেয়। বাঙালির ধন সম্পদ লুট করে।
মূলত, মারাঠাদের মতো পাকিস্তানিরাও এদেশের মানুষের ওপর নির্মম অত্যাচার চালাত।
প্রশ্ন-২। হানাদারদের কথা মানুষ কেন ভুলবে না?
উত্তর: হানাদারেরা রক্তপিপাসু হায়েনার মতো নিরীহ বাঙালির বুকে গুলি চালায়। যা বাংলার মানুষ কখনও ভুলতে পারবে না।
১৯৭১ সালের ২৫শে মার্চ রাতে বাঙালির ওপর গণহত্যা চালায় পাকিস্তানি হানাদার বাহিনী। তারা এদেশের নিরীহ মানুষকে গুলি করে হত্যা করে। নির্যাতন করে মা বোন শিশু সবাইকে। তারা শহর গ্রাম জ্বালিয়ে দেয়। মানুষের ধন সম্পদ লুট করে। হানাদারদের বর্বরতায় এদেশের লাখ লাখ মানুষ ঘরছাড়া হয়। তাই এদেশের মানুষ হানাদারদের কথা কখনও ভুলবে না।
হানাদারদের বীভত্স অত্যাচারের কথা এদেশের মানুষ কখনো ভুলবে না।
প্রশ্ন-৩। ‘কাল যেখানে আঁধার ছিল আজ সেখানে আলো’ — কথাটি ব্যাখ্যা কর।
উত্তর: কবি শামসুর রাহমান তাঁর ‘রৌদ্র লেখে জয়’ কবিতায় বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের কথা বলেছেন।
১৯৭১ সালে বাংলাদেশ স্বাধীনতা লাভ করে। এর আগে এদেশ পাকিস্তানের অংশ ছিল। তখন পাকিস্তানি শাসকরা এদেশের মানুষকে নানাভাবে শোষণ করত। অর্থনীতি, সমাজ, শিক্ষা, সর্বক্ষেত্রে এদেশের মানুষ পাকিস্তানিদের চেয়ে পিছিয়ে ছিল। পাকিস্তানি হানাদার বাহিনী আন্দোলন দমন করতে এদেশের মানুষের ওপর আক্রমণ চালায়। হত্যাযজ্ঞ শুরু করে সারাদেশ জুড়ে। এদেশের মানুষও তাদের ওপর ঝাঁপিয়ে পড়ে। শুরু হয় যুদ্ধ। অনেক রক্তপাত ও প্রাণের বিনিময়ে বাংলার মানুষ অর্জন করে স্বাধীনতা। এদেশের আকাশ থেকে অত্যাচারীর কালো মেঘ সরে দিয়ে নীল আকাশে ছড়িয়ে পড়ে স্বাধীন সূর্যের আলো। কবি এ বিষয়টি বোঝাতে আলোচ্য কথা বলেছেন।
মূলত, আমরা দীর্ঘদিন পরাধীনতার অন্ধকারে থাকলেও এদেশের মুক্তিকামী মানুষ সংগ্রামের মধ্য দিয়ে স্বাধীনতার আলো এনেছে।
গল্প : অপেক্ষা
প্রশ্ন-১। রুমার জন্মদিনের গল্পটি কী?
উত্তর: ‘অপেক্ষা’ গল্পে একজন শহিদ বীর মুক্তিযোদ্ধার দুই মেয়ে রুমা ও রুবার জন্মদিনের গল্প বর্ণিত হয়েছে।
রুমার জন্মদিনের গল্প: রুমা ও রুবা তাদের বাবা-মায়ের দুই আদরের মেয়ে। দুই মেয়ের জন্মদিন সম্পর্কে রাহেলা বানু ও জসীম মিয়া মজার গল্প বলেন। রুমার জন্মদিনের একটা গল্প আছে। শুনে রুমা বায়না ধরল গল্পটি শোনার জন্য। তখন রাহেলা বানু বললেন যেদিন রুমার জন্ম হলো, সে দিন বাড়ির উঠানের শিউলি গাছটায় অনেক শিউলি ফুল ফুটেছিল, এতো শিউলি ফুল আগে কখনো একসঙ্গে ফোটেনি। আর রাহেলা বানুও কখনো এত ফুল একসঙ্গে দেখেনি। সে ফুলের খুশবু চারদিকে ছড়িয়ে পড়েছিল। এটাই রুমার জন্মদিনের গল্প।
মূলত, রুমার যে দিন জন্ম হয়েছিল, সেদিন তাদের উঠানের শিউলি গাছটায় অনেক ফুল ফুটেছিল।
প্রশ্ন-২। রুবার জন্মদিনের গল্পটি কী?
উত্তর: মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক ‘অপেক্ষা’ গল্পে দুই বোন রুমা ও রুবার জন্মদিনের চমত্কার গল্প রয়েছে।
রুবার জন্মদিনের গল্প: যেদিন রুবার জন্ম হয়েছিল, সেদিন জসীম মিয়া বাড়ির বাইরের আম গাছটার নিচে বসেছিলেন। হঠাত্ তিনি মাথার উপরে তাকিয়ে দেখলেন যে, গাছটা আমের বোলে ভরে গেছে। এত বোল জসীম মিয়া আগে কখনো দেখেননি। আমের বোলের গন্ধ চারদিকে ছড়িয়ে পড়েছিল। এটাই রুবার জন্মদিনের গল্প।
মূলত, যেদিন রুবার জন্ম হয়েছিল, সেদিন তাদের বাড়ির বাইরের আম গাছটা আমের বোলে ভরে গিয়েছিল।
প্রশ্ন-৩। রাহেলা বানু দুমুঠো চাল কলসিতে জমিয়ে রাখে কেন?
উত্তর: রাহেলা বানু দেশকে শত্রুর হাত থেকে মুক্ত করার জন্য মুক্তিযোদ্ধাদের সাহায্য করতেন।
যে কারণে জমিয়ে রাখতেন: রাহেলা বানুর স্বামী জসীম মিয়া মুক্তিযুদ্ধে শহিদ হয়েছেন। তিনি ছিলেন মুক্তিবাহিনীর স্থানীয় সংগঠক। জীবিত থাকা অবস্থায় সহযোদ্ধাদের বলেছিলেন যে, যেকোনো বিপদে বা প্রয়োজনে তারা যেন জসীম মিয়ার বাড়িতে যায়। এ কথা জানত রাহেলা বানু। ফলে সব সময় তিনি কলসিতে দুমুঠো চাল জমিয়ে রাখতেন। রান্নার জন্য রুমা আর রুবা লাকড়ি জমিয়ে রাখত চুলার ধারে। রাতে কোনো মুক্তিযোদ্ধা এলে রাহেলা বানু জমানো চাল রান্না করে তাদের খাওয়ান।
রাহেলা বানু মুক্তিযোদ্ধাদের খাওয়াতে ভালোবাসতেন। এ কারণেই তিনি হাঁড়িতে দুমুঠো চাল জমিয়ে রাখতেন।
০০০০০
দোয়েল পাখি রক্ষা করা কর্তব্য
কঙ্কন সরকার
তত্ত্বাবধায়ক,শিশু বান্ধব বিদ্যা নিকেতন, সুন্দরগঞ্জ, গাইবান্ধা
জাতীয় পাখি/ দোয়েল পাখি/ আমার প্রিয় পাখি
সূচনা: যে পাখির শীষ দেয়া গান, সুরেলা কণ্ঠ আমাদের হূদয় মনকে আন্দোলিত করে সেটি হচ্ছে দোয়েল। আমাদের জাতীয় পাখি।
আকৃতি: দেখতে ছোট ধরনের পাখি এটি। পাঁচ থেকে ছয় ইঞ্চির মত লম্বা হয় এরা। সমস্ত দেহ উজ্জ্বল কালো বর্ণের। তবে এদের গলার নীচ থেকে বুক পর্যন্ত এবং ডানা বরাবর সাদা রেখা দেহের সৌন্দর্যকে আরও বাড়িয়ে দিয়েছে। লেজে সাদা ও নীলের মিশ্রণ সত্যিই নয়নাভিরাম। শরীরের তুলনায় লেজ লম্বা।
বাসস্থান : বাড়ীর আশেপাশেই এদের দেখতে পাওয়া যায়। এরা ঘন বন জঙ্গল কিংবা খোলা জায়গায় সব সময় থাকতে ভালোবাসেনা। তাইতো বসতবাড়ীর আশে-পাশে ছোট গাছ কিংবা সবজির মাচায় বাসা বাঁধে। গাছের কোটর, দেয়ালের ফাঁক, ঘরের চালের ফাঁকা জায়গা, সবজির মাচা উল্লেখযোগ্য।
স্বভাব : সুরেলা কণ্ঠের সাথে সাথে কখনও কখনও বিচিত্র আওয়াজ ও অঙ্গভঙ্গি করেও আমাদের আনন্দ দিয়ে থাকে দোয়েল। শীতকালের শুষ্ক আবহাওয়ায় এরা বেশি গান গায়। কখনও কখনও ধ্যানরত ঋষির মত একই স্থানে বসে অনেকক্ষণ বসে গান গায়। লেবুর ডালে কিংবা ঘরের চালে কিংবা সবজি মাচায় বসে লেজ উচিয়ে যখন গান গায় সত্যিই ভাল লাগে।
ডিম ও বাচ্চা : স্ত্রী দোয়েল পাখি এক সাথে দুই থেকে চারটি ডিম পাড়ে। শীতের শেষ থেকে বসন্তের শেষ, এ সময়ের মধ্যেই এরা ডিম পাড়ে। স্ত্রী ও পুরুষ পাখি পালাক্রমে ডিমে তা দিয়ে বাচ্চা ফোটায়। গভীর মমতায় ও আদরে এরা বাচ্চাকে ওম দিয়ে খাবার দিয়ে বড় করে তোলে।
উপকারিতা : এর গান, সৌন্দর্য আমাদের আনন্দ দেয়। আবার ক্ষতিকর পোকামাকড় খেয়ে প্রকৃতির ভারসাম্য রক্ষায় সহযোগিতাও করে।
গানের পাখি : দোয়েলকে গানের পাখি বলে। এর মিষ্টি সুরেলা শিষ মনকে ভরিয়ে তোলে। যখন মিষ্টি সুরে শিষ দিয়ে গান গায় আর লেজটি নাচায় সত্যিই সুন্দর দেখায়। এদের মিষ্টি সুরের গান বিশেষ করে ভোরে এবং পড়ন্ত দুপুরে দেহ মনকে আকর্ষিত করে। কখনও কখনও রাত্রেও দোয়েলের শিষ শোনা যায়।
জীবন সীমা : দোয়েল ১৪/১৫ বছর পর্যন্ত বেঁচে থাকে। এপ্রিল থেকে জুলাই মাসের মধ্যে ডিম পাড়ে। স্ত্রী দোয়েল ৪/৫টি ডিম দেয়। ডিম লালচে বাদামি আভা ও নীলাভ সবুজ ছাপযুক্ত। স্ত্রী দোয়েল তা দিয়ে বাচ্চা ফোটায়।
খাদ্য : পোকা-মাকড় ও কীট পতঙ্গই সাধারণত এদের প্রধান খাবার।
জাতীয় পাখি হিসেবে দোয়েল : আমাদের সবুজ প্রকৃতি আর মানুষের কাছাকাছি মায়াময় পরিবেশের সঙ্গে একেবারে মিশে থাকে এ পাখি। সর্বত্র এদের দেখাও যায় বেশি। এসব কারণেই দোয়েল আমাদের জাতীয় পাখির মর্যাদা পেয়েছে।
প্রাপ্তি স্থান : বাংলাদেশের সর্বত্র এ পাখি দেখতে পাওয়া যায়।
উপসংহার : দোয়েল পাখি অন্যান্য পাখির মতই শোভা বর্ধন এবং প্রকৃতির ভারসাম্য রক্ষায় ভূমিকা রাখে। এজন্য দোয়েল পাখি রক্ষা করা কর্তব্য। এছাড়াও এটি আমাদের জাতীয় পাখি।
রচনা
সুপ্রিয় শিক্ষার্থী, বর্তমানে প্রাথমিক শিক্ষা সমাপনী প্রশ্ন কাঠামোতে নির্দিষ্ট সংখ্যক(২০০) শব্দের মধ্যে রচনা লিখতে হবে। এছাড়াও সংকেত দেয়া থাকবে। তাই,যে বিষয়ে রচনা লিখতে বলবে সে বিষয়টি সম্পর্কে সার্বিক ধারণা তৈরি করে নিতে হবে। প্রথমে নিজের চার পাশের বিষয় যেমন- নিজের পরিবার,মা, বাবা, নিজ গ্রাম, নিজ বিদ্যালয় নিয়ে অনুচ্ছেদ আকারে ভেবে ভেবে লিখতে হবে। এর পর এতে সংকেত সংযোজন করে স্টেপ আকারে সাজিয়ে লিখতে হবে। সংকেতগুলো নিজের ভেতর থেকে তৈরি করতে হবে। এভাবে লেখা অভ্যাস হলে বই এর বিষয় অনুযায়ী লেখা শুরু করতে হবে। তবে রচনাকে আকর্ষণীয় করতে বিভিন্ন উদ্ধৃতি, উক্তি, সংযোজন করলে ভালো। এজন্য বিষয় সম্পর্কিত বিভিন্ন বই পড়তে হবে। শিক্ষার্থীবৃন্দ, তোমাদের জন্য রচনা দেয়া হলো। এগুলো অনুশীলনের মধ্যে নিয়ে আকর্ষণীয় রচনা লিখতে শিখবে। অবশ্য রচনা গুলোতে কিছু কিছু সংকেত অতিরিক্ত সংযোজন করা হলো। কেননা, প্রশ্নপত্রে দেয়া সংকেত অনুযায়ী লিখতে হবে যে। তাই এসব সংকেত জানলে সুবিধা হবে লিখতে। শিক্ষার্থীদের প্রতি পরামর্শ- তোমরা পাঠ্যবই ভালভাবে চর্চা করে এর আলোকে ব্যাকরণ ও রচনা বই পড়বে।
