কচুমুখী চাষে অনেক লাভ

আপডেট : ০৩ আগস্ট ২০১৪, ২১:৩২
শেরপুরের বিস্তীর্ণ চরাঞ্চল ও পাহাড়ি এলাকায় বাণিজ্যিক ভিত্তিতে কচুমুখীর আবাদ হচ্ছে। কম খরচ করে অধিক লাভ পেয়ে স্থানীয় চাষিরা এ কচু আবাদে খুবই আগ্রহী হয়ে উঠছে। দিন দিন বাড়ছে কচুমুখীর আবাদি জমির পরিমাণ। চরাঞ্চলের বেলে দোআঁশ মাটি ও পাহাড়ি টিলার পাদদেশের মাটি এ ফসল উত্পাদনের জন্য খুবই উপযোগী। শেরপুরের নকলা উপজেলার চর অষ্টাধর ও চন্দ্রকোনা, সদরের বেতমারী ঘুঘড়াকান্দি, বলাইর চর, কামারের চর, শ্রীবরদী উপজেলার শিঙ্গাবরুনা ইউনিয়নের জলঙ্গী মাধবপুর, রানী শিমূল ইউনিয়নের মালাকুচা, নালিতাবাড়ি উপজেলার নয়াবিল, পোড়াগাঁও, কাঁকরকান্দি, মণ্ডলিয়া পাড়া ও নন্নী এলাকায় মুখীকচুর চাষ কৃষকদের কাছে জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে। নকলা উপজেলার চরাঞ্চলের প্রায় সর্বত্রই এখন কচুমুখীর আবাদ। কৃষকরা জানান, কচুমুখীর চাষ খুবই লাভজনক। বপনের মাত্র তিন মাসের মধ্যেই ফলন ঘরে তোলা যায়। কাঠা প্রতি (৫ শতাংশ) কচুমুখীর ফলন হয় ১২/১৩ মণ। এক কাঠা জমিতে কচু আবাদ করতে খরচ হয় মাত্র এক/দেড় হাজার টাকা। আর প্রতি মণ কচু বিক্রি হয় ৭/৮ শ’ টাকা। কৃষকরা বলেন, কচু বিক্রি করতেও তেমন কষ্ট হয় না। বাজারে নেয়ার সাথে সাথে পাইকাররা কচু কিনে নিয়ে যায়। এই কচু চাষ করায় চরের জমিতেও এখন তারা তিনটি ফসলের আবাদ করতে পারছেন। কৃষি কর্মকর্তাগণ জানান, বর্ষাকালের সবজি হিসেবে কচুমুখী খুবই জনপ্রিয়। কচুতে পুষ্টির মাত্রাও অনেক। যে কারণে বাজারে এর চাহিদাও প্রচুর। এ সময় বাজারে অন্যজাতের সবজি খুব বেশি থাকে না বলে কচুমুখী বিক্রি করতে তেমন বেগ পেতে হয় না। চর অষ্টাধর উত্তর নারায়ণখোলা গ্রামের কৃষক হাদী মিয়া জানান, গত বছর তিনি ৪ কাঠা জমিতে কচুর আবাদ করে ১০০ মণ ফলন পেয়েছিলেন। ৫/৭ শ’ টাকা মণ দরে কচু বিক্রি করে বেশ লাভবান হয়েছিলেন। এবার তিনি ১০ কাঠা জমিতে কচুর আবাদ করেছেন। নকলা উপজেলা কৃষি অফিস সূত্রে জানা যায়, নকলা উপজেলায় ৩০০ হেক্টর জমিতে কচুমুখীর আবাদ হলেও কেবল চর অষ্টাধর ও চন্দ্রকোনা ইউনিয়নের চরাঞ্চলেই আবাদ হচ্ছে ২০০ হেক্টর জমিতে। উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা আশরাফ উদ্দিন বলেন, চর অষ্টাধর ইউনিয়নের চর বসন্তি, নারায়ণখোলা, চর ভাবনা, শিকদার পাড়া চরে বর্ষাকালীন সবজি হিসেবে মুখীকচুর ব্যাপক আবাদ হচ্ছে। ওইসব এলাকার কৃষকদের দেখাদেখি আশপাশের এলাকাতেও কচু চাষের প্রতি কৃষকরা আগ্রহী হচ্ছে।