পাল্টাপাল্টি গরুর হাট নিয়ে সংঘর্ষের শঙ্কা

আপডেট : ০৩ আগস্ট ২০১৪, ২১:৪৭
কুমিল্লার চান্দিনা ও দেবিদ্বার উপজেলার সীমান্তবর্তী এলাকার এক কিলোমিটারের মধ্যে পৃথক দুটি গরুর হাট গড়ে উঠেছে। হাট দুটোতে সরকারের অনুমোদন না থাকায় পরিচালনা পর্ষদের সদস্যরা তাদের স্ব স্ব বাজার জমাতে পাল্লা দিয়ে চালাচ্ছে প্রচার-প্রচারণার কাজ। বিক্রেতা ও ব্যবসায়ীদের নিজ নিজ বাজারে আনার জন্য জোর প্রয়োগেরও অভিযোগ রয়েছে। পৃথক হাট ২টি উপজেলায় গড়ে উঠলেও ২টি বাজারই দুটি উপজেলার সীমান্তবর্তী এলাকা এবং সপ্তাহের একই দিন (প্রতি শনি ও মঙ্গলবার) হওয়ায় যে কোন মুহূর্তে বড় কোন সংঘাত সৃষ্টি হওয়ার আশঙ্কা বিরাজ করছে। চান্দিনা বাজার থেকে গরু বাজার উচ্ছেদ করার পর ওই বাজারটি স্থানান্তর করা হয় চান্দিনা ও দেবিদ্বার উপজেলার সীমান্তবর্তী এলাকা ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ক সংলগ্ন চান্দিনার কাঠেরপুলে। ওই স্থানে নতুন নামে গড়ে উঠে চান্দিনা মুক্তিযোদ্ধা সংসদ গরু বাজার। ওই স্থানে দেবিদ্বার উপজেলা প্রশাসন এবং সড়ক ও জনপথের বাধায় তৃতীয়বারের মত একই নামে চান্দিনা সাহাপাড়া আবাসিক এলাকায় গড়ে তোলা হয় ওই বাজারটি। সপ্তাহের প্রতি শনি ও মঙ্গলবার পুরাতন ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কটি সম্পূর্ণরূপে বন্ধ করে গড়ে উঠে ওই গরু বাজার। ওই সড়কটি চান্দিনার পূর্বাঞ্চল ও দেবিদ্বার উপজেলার দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চল এলাকার জনগণ ওই সড়কটি দিয়ে চান্দিনা বাজারে প্রবেশ করে থাকে। কিন্তু সেখানে গরু বাজার গড়ে উঠায় জনগণ ও যান চলাচলে বাধাগ্রস্ত হচ্ছে এবং চান্দিনার সাহাপাড়ার অনেক পরিবারের বসবাস অনুপযোগী হয়ে পড়েছে। এদিকে চান্দিনা উপজেলার প্রধান কেন্দ্রবিন্দু ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের চান্দিনা বাস স্টেশন সংলগ্ন দেবিদ্বার উপজেলাধীন বাগুর নতুন ব্রীজ সংলগ্ন অপর একটি গরু বাজার গড়ে উঠেছে। ওই বাজারেও সপ্তাহের প্রতি শনি ও মঙ্গলবার পশুর হাট বসতে শুরু করেছে। পৃথক দুটি বাজারই একই দিন হওয়ায় বাজারের প্রচার-প্রসারে পাল্লা দিয়ে চলছে মাইকিং। কোন কোন মাইকে আসছে ‘বাগুর গরু বাজার উদ্বোধন’ আবার কোন কোন মাইকে শোনা যাচ্ছে ‘মানুষের কথা শোনবেন না, অন্যের কথায় কান দিবেন না, চান্দিনা গরু বাজার-চান্দিনাতেই’। যার ফলে পৃথক দুটি বাজার পাশাপাশি গড়ে উঠায় এবং একই দিন হওয়ায় বিভ্রান্তিতে পড়ছে দূর-দূরান্তের ক্রেতা-বিক্রেতা ও ব্যবসায়ীরা।