গত জুন মাসে বেতন ভাতার চেক ব্যাংকে জমা হওয়ার পরেও উপজেলা প্রশিক্ষণ সমন্বয়ক কর্মকর্তার (টিসি) দায়িত্ব অবহেলার কারণে রিচিং আউট অব দ্য স্কুল (রকস) প্রকল্পের আনন্দ স্কুলের ৮৫ জন শিক্ষকের ৪ মাস ধরে বেতন ভাতা বন্ধ।
কর্মকর্তা শাপলা চাকমা কর্মস্থলে অনুপস্থিত, বেতন ভাতার চেক অনুমোদন না করার কারণে ঐসব বিদ্যালয়ের শিক্ষক শিক্ষিকারা বেতন ভাতা পাচ্ছেন না বলে অভিযোগ করছেন। অপর দিকে শিক্ষকদের অভিযোগ অস্বীকার করে কর্মকর্তা বলছেন বেতন ভাতা বন্ধের জন্য অধিদপ্তরের মৌখিক নির্দেশ পাওয়ার কারণে আপাতত বন্ধ রাখা হয়েছে।
আনন্দ স্কুলগুলোর সূত্রে জানা যায়, উপজেলায় রিচিং আউট অব দ্য স্কুল (রকস) প্রকল্পের অধীনে ১শ’ ৩০টি আনন্দ স্কুল রয়েছে। প্রতিটি বিদ্যালয়ে একজন করে শিক্ষক শিক্ষিকা নিয়োগ দেয়া হয়েছে। ঝড়েপড়া শিশুদের এ প্রকল্পের আওতায় এনে পাঠদান করা মূলত এ প্রকল্পের উদ্দেশ্য। ২০১৩ সাল থেকে শুরু হয়ে ২০১৮ সাল পর্যন্ত এ প্রকল্প চলবে। প্রতিটি শিক্ষক মাসে ৩ হাজার টাকা বেতন বাড়ি ভাড়া ৪শ’ টাকাসহ ৩ হাজার ৪শ’ টাকা পায়। ৮৫ জন শিক্ষকের চার মাসের বেতন ভাতা প্রায় ১২ লক্ষ টাকা বলে জানা যায়।
মধ্য সুয়ারীপাতা আনন্দ স্কুলের শিক্ষক নোয়াশ্বর চাকমা, ভুধছড়া আনন্দ স্কুলের শিক্ষক স্মৃতিময় চাকমা, খুলনাটিলা আনন্দ স্কুলের শিক্ষক সোনিয়া আক্তার জানান, বেতন ভাতা না পেয়ে পরিবার-পরিজন নিয়ে অনেক কষ্টের মধ্যে দিনাতিপাত করছেন। অনেকেই ঈদের আনন্দ করতে পারেনি বলে তারা ক্ষোভ প্রকাশ করেন।
উপজেলা প্রশিক্ষণ সমন্বয়ক শাপলা চাকমা জানান, অন্য উপজেলায় কর্মীদের মধ্যে সমস্যা সৃষ্টি হওয়ায় ২৩ জুলাই অধিদপ্তরের থেকে বেতন ভাতা বন্ধ রাখার নির্দেশ পাওয়ার পরে শিক্ষকদের বেতন ভাতা বন্ধ রাখা হয়েছে। তবে বেতন দেয়ার নির্দেশ পেলে দেয়া হবে।
