সদ্যসমাপ্ত ঈদের পর চুয়াডাঙ্গা পৌরসভা এলাকায় হঠাত্ করেই ডায়রিয়া রোগের প্রকোপ মারাত্মক বৃদ্ধি পেয়েছে। গত ১ থেকে ৩ আগস্ট পর্যন্ত সময়ে চুয়াডাঙ্গা সদর পৌরসভা এলাকার বিভিন্ন মহল্লার ডায়রিয়া আক্রান্ত দুশো জন রোগী সদর হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে।
হাসপাতাল সূত্রে প্রকাশ, গত শুক্রবার সকাল থেকে হঠাত্ করে একের পর এক ডায়রিয়া আক্রান্ত রোগী হাসপাতালে আসতে থাকে। গতকাল রবিবার বিকাল এই রিপোর্ট লেখার সময় পর্যন্ত তিন দিনে হাসপাতালটিতে এসব রোগী ভর্তি হয়েছে। চুয়াডাঙ্গা পৌরসভা এলাকার বিভিন্ন পাড়া-মহল্লার বাড়ি বাড়ি ডায়রিয়া রোগ ছড়িয়ে পড়েছে। হাসপাতালের কর্তব্যরত চিকিত্সক ডাঃ মাসুদ রানা বলেন, এখন বর্ষা মৌসুমে পানি ফুটিয়ে পান করা এবং হাত-মুখ পরিষ্কারভাবে ধুয়ে খাবার খাওয়া অত্যাবশ্যক।
সরেজমিনে দেখা যায়, একশ’ শয্যার এই হাসপাতালটিতে আকস্মিক অতিরিক্ত দুশো জন ডায়রিয়া রোগী ভর্তি হওয়ায় চিকিত্সা প্রদানে চিকিত্সক-নার্সদেরকে হিমশিম খেতে হচ্ছে। কারণ পূর্বেকার ৫০ শয্যার জনবল দিয়েই পরিচালিত হয়ে আসছে এই ১০০ শয্যার হাসপাতালটি।
চুয়াডাঙ্গা পৌরসভার মেয়র রিয়াজুল ইসলাম জোয়ার্দ্দারের নেতৃত্বে পৌরসভার একাধিক টিম বিশুদ্ধ খাবার পানি সরবরাহ নিশ্চিত করতে জরুরি বিশেষ পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে।
চুয়াডাঙ্গার সিভিল সার্জন ডাঃ আজিজুল ইসলাম বলেন, পরিস্থিতি মোকাবেলায় জেলার অন্যান্য উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স থেকে বেশ কয়েকজন ডাক্তার ও নার্সকে জরুরি ভিত্তিতে এই সদর হাসপাতালে ডেপুটেশনে নিয়ে আসা হয়েছে। এই হাসপাতালের চিকিত্সক, নার্স ও স্টাফদের ছুটি বন্ধ করে প্রয়োজনীয় অতিরিক্ত দায়িত্ব পালনের নির্দেশ দেয়া হয়েছে। সিভিল সার্জন আরো বলেন, ডায়রিয়া রোগ চিকিত্সার জন্য প্রয়োজনীয় সকল প্রকারের ওষুধ হাসপাতালের স্টোরে মজুদ আছে। এখনও পর্যন্ত ডায়রিয়া আক্রান্ত চিকিত্সাধীন কোন রোগী মারা যায়নি।
