পশ্চিম আফ্রিকার দেশ লাইবেরিয়া, সিয়েরা লিওনসহ বিভিন্ন স্থানে প্রাণঘাতী ইবোলা ভাইরাস ছড়িয়ে পড়ার কারণে সেখানে কর্মরত গৌরনদী ও কালকিনি এলাকার ১২ জন শ্রমিকসহ ২ শতাধিক বাংলাদেশী শ্রমিকের মাঝে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে। প্রাণ ভয়ে এখন তারা ঘর থেকে বাইরে বের হতে পারছেন না। এর ফলে অনেক বাংলাদেশী খাবার সঙ্কটেও পড়েছেন। এমনকি দেশের স্বজনদের সাথে যোগাযোগ না করতে পেরে অসহায় হয়ে পড়েছেন তারা।
খবর নিয়ে জানা গেছে, বরিশালের গৌরনদী উপজেলা ও মাদারীপুরের কালকিনি উপজেলার ১২ জন যুবকের প্রাণঘাতী ইবোলা ভাইরাস আতঙ্কে লাইবেরিয়ায় দিন কাটছে। কেউ তাদের খোঁজ নিচ্ছে না। তারা দেশে ফিরে আসার জন্য বাংলাদেশ সরকারের হস্তক্ষেপ কামনা করছেন।
লাইবেরিয়া প্রবাসী গৌরনদীর বার্থী গ্রামের তারেক বেপারী মুঠোফোনে জানান, চাকরি করার আশায় গত বছরের ডিসেম্বর মাসে তিনি টুরিস্ট ভিসায় লাইবেরিয়ায় যান। ভিসার মেয়াদ বাড়িয়ে নিম্বা জেলার ঘান্তা এলাকায় বসবাস করেন। তিনি বেকার, চাকরির সন্ধান করছেন। এখনও চাকরি পাননি। এদিকে দেশটির সর্বত্র প্রাণঘাতী ইবোলা ভাইরাস ছড়িয়ে পড়ায় আতঙ্কে তার দিন কাটছে। প্রাণের ভয়ে এখন বাসার বাইরে বের হচ্ছেন না। তারেক আরো জানান, দেশটির অনেক লোক এ রোগে মারা গেছে। এ রোগে লক্ষণ হলো প্রথমে জ্বর ও মাথায় যন্ত্রণা হয়। ৪-৫ ঘন্টার মধ্যে বমি ও পাতলা পায়খানা শুরু হয়। এরপর মুখ, নাক ও পায়খানার রাস্তা দিয়ে রক্ত ঝরতে থাকে । এ রোগে আক্রান্ত হলে ২ থেকে ৩ দিনের মধ্যে রোগী মারা যায়। লাইবেরিয়ার ঘান্তা এলাকায় এ রোগে আক্রান্ত হয়ে ২ জন মারা যাওয়ার কথা শোনা যাচ্ছে।
ছোঁয়াছে ও বাতাসে এ রোগ ছড়াচ্ছে। তাই প্রাণের ভয়ে তারা সবাই বাসাবন্দি জীবন-যাপন করছেন। তারা খাদ্য সঙ্কটে পড়েছেন। বাংলাদেশ সরকার তাদের কোন খোঁজ নিচ্ছে না। বিমান চলাচল বন্ধ থাকায় সপরিবারে দেশে ফিরে আসতে পারছেন না বলে তিনি জানান।
