রাহেলা বানু মুক্তিযোদ্ধাদের খাওয়াতে ভালোবাসতেন
বাংলা প্রথমপত্র
মো. সুজাউদ দৌলা
প্রভাষক বাংলা বিভাগ
রাজউক উত্তরা মডেল কলেজ, ঢাকা।
গল্প : অপেক্ষা
গতকালের পর
প্রশ্ন-৩। রাহেলা বানু দুমুঠো চাল কলসিতে জমিয়ে রাখে কেন?
উত্তর: রাহেলা বানু দেশকে শত্রুর হাত থেকে মুক্ত করার জন্য মুক্তিযোদ্ধাদের সাহায্য করতেন।
যে কারণে জমিয়ে রাখতেন: রাহেলা বানুর স্বামী জসীম মিয়া মুক্তিযুদ্ধে শহিদ হয়েছেন। তিনি ছিলেন মুক্তিবাহিনীর স্থানীয় সংগঠক। জীবিত থাকা অবস্থায় সহযোদ্ধাদের বলেছিলেন যে, যেকোনো বিপদে বা প্রয়োজনে তারা যেন জসীম মিয়ার বাড়িতে যায়। এ কথা জানত রাহেলা বানু। ফলে সব সময় তিনি কলসিতে দুমুঠো চাল জমিয়ে রাখতেন। রান্নার জন্য রুমা আর রুবা লাকড়ি জমিয়ে রাখত চুলার ধারে। রাতে কোনো মুক্তিযোদ্ধা এলে রাহেলা বানু জমানো চাল রান্না করে তাদের খাওয়ান।
রাহেলা বানু মুক্তিযোদ্ধাদের খাওয়াতে ভালোবাসতেন। এ কারণেই তিনি হাঁড়িতে দুমুঠো চাল জমিয়ে রাখতেন।
প্রশ্ন-৪। লোকজন গোল হয়ে বসে কী করেছিল? তারা কী শুনতে পেল?
উত্তর: লোকজন গোল হয়ে বসে রেডিও শুনছিল। তারা ঢাকা শহরের গণহত্যার কথা শুনতে পেল।
লোকজন গোল হয়ে বসে যা করছিল: রুমা ও রুবার বাবা জসীম মিয়া বাজার থেকে চাল কিনে এনে বাড়ির বারান্দায় ধপাস করে বসে পড়ে। স্ত্রীকে বলে দেশে যুদ্ধ শুরু হয়ে গেছে। এ কথা শুনে রুমা ও রুবা ঘর থেকে দৌঁড়ে বের হয়ে যায়। তারা দেখে যে, আম গাছের নিচে লোকজন গোল হয়ে বসে রেডিও শুনছে। রেডিওতে তখন বিবিসির খবর চলছিল।
লোকজন যা শুনতে পেল: লোকজন আম গাছের নিচে গোল হয়ে বসে রেডিও শুনছিল। বিবিসির সংবাদে তারা ঢাকার গণহত্যার কথা শুনতে পেল। পাকিস্তানি সেনাবাহিনী রাতের অন্ধকারে ঢাকা শহরে গণহত্যা শুরু করেছে। কিছুদিন আগে তারা বঙ্গবন্ধুর ৭ই মার্চের ভাষণে দেশের স্বাধীনতার পূর্বাভাস শুনেছিল। আর আজ তার ফলস্বরূপ গণহত্যার খবর শুনতে পেল।
মূলত, লোকজন আমগাছের তলায় বসে রেডিও শুনছিল। খবরে তারা ঢাকা শহরের গণহত্যার কথা শুনতে পেল।
প্রশ্ন-৫। জসীম কে? কারা, কীভাবে তাকে হত্যা করেছিল?
উত্তর: ‘অপেক্ষা’ গল্পের অন্যতম চরিত্র মুক্তিযোদ্ধা জসীম।
জসীমের পরিচয়: জসীম হলো গ্রামের একজন সাধারণ মানুষ। রুমা ও রুবা নামে তার আদরের দুটি মেয়ে ছিল। স্ত্রী ও মেয়েদের নিয়ে জসীমের ছিল সুখের সংসার। আর তার সবচেয়ে বড় পরিচয় হলো, সে ছিল একজন বীর মুক্তিযোদ্ধা।
যারা জসীমকে হত্যা করে: পাকিস্তানি মিলিটারিরা জসীমকে হত্যা করে।
যেভাবে জসীমকে হত্যা করে: দেশে যুদ্ধ শুরু হলেই জসীম মিয়া যুদ্ধে যোগ দেয়। শহর থেকে আসা ছেলেদের কাছে রাইফেল চালানো শিখে নেয়। তারপর গ্রামে গড়ে তোলে মুক্তিবাহিনী। একদিন মিলিটারিরা বাজারে আগুন দেয়। বিভিন্ন দিকে তারা গুলি চালাতে থাকে। জসীম পড়ে যায় মিলিটারিদের সামনে। একটা গুলি লাগে জসীমের বুকে। এভাবেই জসীম শহীদ হয়।
মূলত, জসীম হলো গ্রামের একজন সাধারণ মানুষ এবং পাকিস্তানি মিলিটারির গুলিতে সে শহীদ হয়।
প্রশ্ন-৬। গভীর রাতে রুমা-রুবাদের বাড়িতে কারা আসত? তারা কাদের সঙ্গে লড়াই করেছিল?
উত্তর: মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক ‘অপেক্ষা’ গল্পে মুক্তিযুদ্ধের সাথে একটি পরিবারের সম্পর্ক বর্ণিত হয়েছে।
গভীর রাতে যারা আসত: রুমা-রুবার বাবা জসীম মিয়া ছিল স্থানীয় মুক্তিবাহিনীর সংগঠক। পাকিস্তানি মিলিটারির হাতে সে শহিদ হয়েছিল। কিন্তু এলাকার মুক্তিযোদ্ধারা জসীমের বাড়িতে যাতায়াত করত। কোনো সাহায্য বা খাবারের প্রয়োজন হলে তারা গভীর রাতে রুমা-রুবাদের দরজায় গিয়ে আওয়াজ করত।
তারা যাদের সঙ্গে যুদ্ধ করেছিল: মুক্তিযোদ্ধারা পাকিস্তানি সৈন্যদের সাথে যুদ্ধ করেছিল। কারণ পাকিস্তানি সৈন্যরা চেয়েছিল দেশ দখল করতে। তারা এদেশে গণহত্যা চালিয়েছিল।
গভীর রাতে রুমা-রুবাদের বাড়িতে পীড়িত ও ক্ষুধার্ত মুক্তিযোদ্ধারা আসত। তারা হানাদার পাকিস্তানি সৈন্যদের সাথে যুদ্ধ করেছিল।
প্রশ্ন-৭। রুমা ও রুবা রাতে ঠিকমতো ঘুমাতে পারে না কেন?
উত্তর: ‘অপেক্ষা’ গল্পের দুই কিশোরী মেয়ে রুমা ও রুবা।
যে কারণে ঠিকমত ঘুমাতে পারে না: রুমা ও রুবার বাবা জসীম মিয়া ছিল মুক্তিযোদ্ধা। তিনি সহযোদ্ধাদেরকে বলেছিলেন যে, যেকোনো প্রয়োজনে তারা যেন জসীম মিয়ার বাড়িতে যায়। এর কিছুদিন পরেই জসীম মিয়া শহীদ হন। কিন্তু প্রায়ই গভীর রাতে মুক্তিযোদ্ধারা আসে। তারা প্রয়োজন সেরে বা খাবার খেয়ে চলে যায়। ফলে রাতেও তারা জেগে থাকে। দরজায় শব্দ হলেই তারা বুঝতে পারে মুক্তিযোদ্ধারা এসেছে। এ কারণেই রুমা আর রুবা রাতে ঠিকমত ঘুমাতে পারে না।
পরিশেষে বলা যায়, ১৯৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধে রুবা ও রুমা মুক্তিযোদ্ধাদের বিভিন্নভাবে সাহায্য ও সহযোগিতা করে।
০০০০
কম্পিউটার
বাংলা দ্বিতীয়পত্র
কঙ্কন সরকার
তত্ত্বাবধায়ক
শিশু বান্ধব বিদ্যা নিকেতন, সুন্দরগঞ্জ, গাইবান্ধা
সূচনা : কম্পিউটারের শাব্দিক অর্থ হিসাবকারী যন্ত্র। তবে আজ কেবল যোগ, বিয়োগ, গুণ, ভাগ প্রভৃতির মধ্যেই এর কার্যকারিতা সীমাবদ্ধ নয়; বিজ্ঞানী বিশেষজ্ঞ থেকে শুরু করে নিতান্ত সাধারণ মানুষের জীবনে কম্পিউটার একটি প্রয়োজনীয় জিনিসে পরিণত হয়েছে।
আবিষ্কার : কম্পিউটার আমাদের কাছে একটি নতুন আবিষ্কার। কিন্তু এর পেছনে বহুকালের বহুজনের অবদান রয়েছে। তবে বৃটিশ গণিতজ্ঞ চার্লস ব্যাবেজই হলেন আধুনিক কম্পিউটারের জনক। তবে পূর্ণাঙ্গ কম্পিউটার তৈরি হয় ১৯৪৬ সালে।
গঠন/কাঠামো : বিভিন্ন শ্রেণির কম্পিউটার রয়েছে। বর্তমানে ল্যাপটপ ও ডেক্সটপ কম্পিউটার ব্যবহূত হচ্ছে। কম্পিউটারের অংশগুলো হচ্ছে: ইনপুট ইউনিট বা সি.পি.ইউ বা সেন্ট্রাল প্রেসেসিং ইউনিট, আউটপুট ইউনিট। ব্যাবেজের কম্পিউটারের গঠন তন্ত্রের ৫টি অংশ হলো- (১) স্টোর (২) মিল (৩) কন্ট্রোল (৪) ইনপুট (৫) আউটপুট। আজকের পরিভাষায় কন্ট্রোল, স্টোর ও মিল কে সম্মিলিতভাবে বলে “সেন্ট্রাল প্রসেসিং ইউনিট” অর্থাত্ “কম্পিউটারের মগজ” অর্থাত্ “ইনপুট” অংশ। যা তথ্য ও নির্দেশ গ্রহণ করে। বাকি হচ্ছে “আউটপুট” যা গণনার ফলাফল প্রকাশ করে। কম্পিউটারে তথ্য ও নির্দেশ প্রবেশ করানোর জন্য বিশেষ ভাষার প্রয়োজন হয় তাকে “প্রোগ্রামিং লেঙ্গুয়েজ” বলে।
ব্যবহার : দৈনন্দিন কাজ, ব্যবসা-বাণিজ্য, শিক্ষাক্ষেত্র, চিকিত্সা ক্ষেত্র, গবেষণা, মহাকাশ গবেষণা, নানা আবিষ্কার, ভিডিও গেম, দাবাখেলা, রোবট, গান শোনা, আর্ট ডিজাইন, প্রাকৃতিক দুর্যোগ বিশ্লেষণ, নির্মাণ সংক্রান্ত, ইন্টারনেট ও ই-মেইল ব্যবহার, যানবাহন চালনা ও টিকিট প্রদানসহ বর্তমানে সব খানেই কম্পিউটার ব্যবহূত হয়। কর্মসংস্থানে এক নতুন মাত্রা যোগ করেছে কম্পিউটার। শিক্ষা ক্ষেত্রে কম্পিউটারাইজড পদ্ধতি চালানোর জোর প্রচেষ্টা অব্যাহত।
উপকারিতা: কম্পিউটারের উপকারিতা ব্যাপক। আজ কাল এমন কোন ক্ষেত্র নেই যেখানে কম্পিউটার ব্যবহার হয় না। যেকোন কাজের সঠিক পরিমাপকতা কম্পিউটার থেকেই পাওয়া সম্ভব। এছাড়াও এর ব্যবহারে সময় ও অর্থের সাশ্রয় ঘটে।
ক্ষতি : কখনো কখনো ব্যবহারের তারতম্যে কম্পিউটার ক্ষতির কারণ হয়ে দাঁড়ায়। ছাত্র-ছাত্রীরা লেখা-পড়া ছেড়ে কম্পিউটারে সময় নষ্ট করে। এছাড়াও কম্পিউটারের আলোক রশ্মি চোখের ক্ষতি করে।
উপসংহার : কম্পিউটার আধুনিক বিজ্ঞান ও
প্রযুক্তির এক বিষ্ময়কর অবদান। তবে ব্যবহারের পার্থক্যে কখনও কখনও ক্ষতির কারণ হয়ে দাঁড়ালেও সব মিলিয়ে কম্পিউটার আধুনিক জীবনে শুভ পরিবর্তন এনেছে। সবার জীবনে কম্পিউটার যেন অপরিহার্য উপাদান হয়ে দাঁড়িয়েছে আজ।
রচনা
সুপ্রিয় শিক্ষার্থী, বর্তমানে প্রাথমিক শিক্ষা সমাপনী প্রশ্ন কাঠামোতে নির্দিষ্ট সংখ্যক(২০০) শব্দের মধ্যে রচনা লিখতে হবে। এছাড়াও সংকেত দেয়া থাকবে। তাই,যে বিষয়ে রচনা লিখতে বলবে সে বিষয়টি সম্পর্কে সার্বিক ধারণা তৈরি করে নিতে হবে। প্রথমে নিজের চার পাশের বিষয় যেমন- নিজের পরিবার,মা, বাবা, নিজ গ্রাম, নিজ বিদ্যালয় নিয়ে অনুচ্ছেদ আকারে ভেবে ভেবে লিখতে হবে। এর পর এতে সংকেত সংযোজন করে স্টেপ আকারে সাজিয়ে লিখতে হবে। সংকেতগুলো নিজের ভেতর থেকে তৈরি করতে হবে। এভাবে লেখা অভ্যাস হলে বই এর বিষয় অনুযায়ী লেখা শুরু করতে হবে। তবে রচনাকে আকর্ষণীয় করতে বিভিন্ন উদ্ধৃতি, উক্তি, সংযোজন করলে ভালো। এজন্য বিষয় সম্পর্কিত বিভিন্ন বই পড়তে হবে। শিক্ষার্থীবৃন্দ, তোমাদের জন্য রচনা দেয়া হলো। এগুলো অনুশীলনের মধ্যে নিয়ে আকর্ষণীয় রচনা লিখতে শিখবে। অবশ্য রচনা গুলোতে কিছু কিছু সংকেত অতিরিক্ত সংযোজন করা হলো। কেননা, প্রশ্নপত্রে দেয়া সংকেত অনুযায়ী লিখতে হবে যে। তাই এসব সংকেত জানলে সুবিধা হবে লিখতে। শিক্ষার্থীদের প্রতি পরামর্শ- তোমরা পাঠ্যবই ভালভাবে চর্চা করে এর আলোকে ব্যাকরণ ও রচনা বই পড়বে।
