এসএসসি পরীক্ষা ২০১৫

আপডেট : ০৪ আগস্ট ২০১৪, ১৯:৪০
মো. আতাউর রহমান সায়েম শিক্ষক (বাংলা) ক-বিভাগ (গদ্য) ১। অনুপমা সমপ্রতি এম.এ. পাশ করার পর চাকরির জন্য চেষ্টা করছে। এরই মধ্যে তার বেশ কয়েকটি বিয়ের সমন্ধ আসল। যে ঘরটি কোন উপঢৌকন চায় নি এবং বরকে আদর্শ মনে হওয়াতে সে মা-বাবাকে বিয়ের সম্মতি জানায়। বিয়ে হওয়ার পর শ্বশুর বাড়িতে অনুপমার প্রতি আদর আকাশচুম্বী। অনুপমাও তার শ্বশুর বাড়ির সবাইকে আপন করে নিয়েছে। ফলে তার সংসার বেশ ভালোই চলছে। (ক) কত টাকা পণে নিরূপমার বিয়ে ঠিক হলো? (খ) ‘শাস্ত্রশিক্ষা নীতিশিক্ষা একেবারে নাই’ বলতে লেখক কী বোঝাতে চেয়েছেন? (গ) উদ্দীপকে ‘দেনাপাওনা’ গল্পের যে বৈসাদৃশ্য দিকটি ফুটে ওঠেছে তা বর্ণনা কর। (ঘ) নিরূপমা অনুপমার মতো অনুকূল পরিবেশ পেলে হয়তো এভাবে অকালে ঝরে যেত না- মন্তব্যটি ‘দেনাপাওনা’ গল্পের আলোকে মূল্যায়ন কর। ২। মালঞ্চ ইউনিয়নের চেয়ারম্যান জনাব আব্দুস সালাম অত্যন্ত সত্ ও ন্যায়পরায়ণ ব্যক্তি। তিনি ইউনিয়নের সবাইকে সমান চোখে দেখেন। এমনকি বাড়ির চাকর ভোলাকেও নিজের ছেলের মতো দেখেন। ভোলাকে সাথে নিয়ে খাবার খান, নিজের ছেলের মত জামা-কাপড় পরতে দেন। এজন্য অনেকে ভুল করে ভোলাকে চেয়ারম্যানের নিকট আত্মীয় বলে মনে করে। ক. মানিক বন্দ্যোপাধ্যায় কত খ্রিস্টাব্দে মৃত্যুবরণ করেন? খ. ‘মমতাদির চোখসজল হয়ে উঠেছিল কেন? গ. ভোলার প্রতি চেয়ারম্যানের আচরণে ‘মমতাদি’ গল্পের কোন বৈশিষ্ট্যটি প্রতিফলিত হয়েছে? বর্ণনাা কর। ঘ. “উদ্দীপকটি ‘মমতাদি’ গল্পেরই মূলভাব প্রকাশ করতে সক্ষম” - মন্তব্যটির যথার্থতা নিরূপণ কর। ৩। একটি পত্রিকার সংক্ষিপ্ত প্রতিবেদন: কমলাপুর রেলওয়ে স্টেশনে খুব গরিব ঘরের জরিনা নামের কুড়ি বছরের এক মা তার কোলের সন্তানকে শীতকালে কনকনে ঠাণ্ডা থেকে রক্ষা করার জন্য পুরানো শাড়ির এক অংশ দিয়ে পেছিয়ে বুকে জড়িয়ে ধরে আছে। এক সহূদয়বান লোক তাকে একটি কম্বল দেয়াতে সে খুশী হয় এবং সে সেটিও তার সন্তানকে আরও উষ্ণ করার জন্য বুকে জড়িয়ে নেয়। (ক) ‘অশন’ শব্দের অর্থ কী? (খ) কাঙালীর মার নাম অভাগী হওয়ার কারণ ব্যাখ্যা কর। (গ) উদ্দীপকের জরিনার মধ্যে ‘অভাগীর স্বর্গ’ গল্পের অভাগীর কোন দিকটির সাদৃশ্যপূর্ণ? ব্যাখ্যা কর। (ঘ) উদ্দীপকটি ‘অভাগীর স্বর্গ’ গল্পের একটি খণ্ড চিত্র মাত্র- মন্তব্যটি বিশ্লেষণ কর। খ-বিভাগ (কবিতা) ৪। বাদশা বাবর কাঁদিয়া ফিরিছে, নিদ নাহি চোখে তাঁর- পুত্র তাঁহার হুমায়ুন বুঝি বাঁচে না এবার আর! চারিধারে তাঁর ঘনায়ে আসিছে মরণ-অন্ধকার। কহিল কাঁদিয়া- হে দয়াল খোদা, হে রহিম রহমান, মোর জীবনের সবচেয়ে প্রিয় আমারি আপন প্রাণ, তাই নিয়ে প্রভু পুত্রের প্রাণ কর মোরে প্রতিদান। (জীবন বিনিময়: গোলাম মোস্তফা) (ক) ‘আমার সন্তান’ কবিতাটি কোন্ কবিতার সম্পাদিত অংশ? (খ) ‘কাঠের সেঁউতী মোর হৈলা অষ্টাপদ’ বলতে কবি কী বোঝাতে চেয়েছেন? (গ) উদ্দীপকে ‘আমার সন্তান’ কবিতার কোন ভাবটি ফুটে ওঠেছে? ব্যাখ্যা কর। (ঘ) উদ্দীপকটি ‘আমার সন্তান’ কবিতার ভাবার্থের দর্পণ- মন্তব্যটি তুমি সমর্থন কর কি? যুক্তি দেখাও। ৫। হে বঙ্গ, ভাণ্ডারে তব বিবিধ রতন;— তা সবে, (অবোধ আমি!) অবহেলা করি, পর-ধন-লোভে মত্ত, করিনু ভ্রমণ পরদেশে, ভিক্ষাবৃত্তি কুক্ষণে আচরি। কাটাইনু বহু দিন সুখ পরিহরি! অনিদ্রায়, অনাহারে সঁপি কায়, মনঃ, মজিনু বিফল তপে অবরেণ্য বরি;— কেলিনু শৈবালে, ভুলি কমল-কানন! (ক) কবি মাইকেল মধুসূদন দত্ত কত খ্রিষ্টাব্দে খ্রিষ্টধর্মে দীক্ষিত হন? (খ) ‘লইছে যে তব নাম বঙ্গের সঙ্গীতে’ বলতে কবি কী বুঝাতে চেয়েছেন? (গ) উদ্দীপকে ‘কপোতাক্ষ নদ’ কবিতার কোন্ ভাব প্রকাশ পেয়েছে? ব্যাখ্যা কর। (ঘ) উদ্দীপকের মূল উপজীব্যই যেন ‘কপোতাক্ষ নদ’ কবিতার মূল উপজীব্য- মন্তব্যটি বিশ্লেষণ কর। ৬। স্তবক-১: গাহি সাম্যের গান— মানুষের চেয়ে বড় কিছু নাই, নহে কিছু মহীয়ান নাই দেশ-কাল-পাত্রের ভেদ, অভেদ ধর্মজাতি, সব দেশে সব কালে ঘরে-ঘরে তিনি মানুষের জ্ঞাতি। স্তবক-২: শুন হে মানুষ ভাই, সবার উপরে মানুষ সত্য তাহার উপরে নাই। (ক) ‘পান্থ’ শব্দের অর্থ কী? (খ) ‘তোমার মিনারে চড়িয়া ভণ্ড গাহে স্বার্থের জয়!’- চরণটির অর্থ ব্যাখ্যা কর। (গ) স্তবক ১ ও ২- এর ভাবগত সাদৃশ্য দেখাও। (ঘ) উদ্দীপকে স্তবক-১ ও ২- এর মূলভাবে ‘মানুষ’ কবিতার সমগ্রভাব প্রকাশ পেয়েছে কি? যুক্তি দিয়ে বিশ্লেষণ কর। গ-বিভাগ (উপন্যাস) ৭। গণপ্রজাতান্ত্রিক বাংলাদেশ সরকার প্রচার দপ্তর ‘মোনাফেকদের ক্ষমা নাই’ ...‘সিরাজদ্দৌলা’ নাটকে নাট্যকার নবাব সিরাজদ্দৌলার মুখ দিয়ে জানিয়েছেন: “মীরজাফর, জগেশঠ, রাজবল্লভ, উমিচাঁদের দল কি আর জন্ম গ্রহণ কববে না গোলাম হোসেন?” নাট্যকারের সে আশা অমূলক নয়। বাংলায় বহু বিশ্বাসঘাতক জন্ম নিয়েছে এবং তারা বহাল তরিয়তে বাংলাদেশ ও বাঙালির সাথে বেঈমানী করে চলেছে।... বিশ্বাসঘাতককে তাদের কাজের জন্য চরম মূল্য দিতে হবে। কোনো ক্ষমা নেই। (সূত্র: বাংলাদেশ স্বাধীনতা যুদ্ধের ইতিহাস ও দলিলপত্র, পৃষ্ঠা: ৫০৮, ৫০৯) (ক) ‘নভেল’ শব্দটি কোন শব্দ থেকে এসেছে? (খ) ‘কোনো কোনো দৃশ্য কখনো মুছে যায় না’- ব্যাখ্যা কর। (গ) উদ্দীপকের মীরজাফর, জগেশঠ, রাজবল্লভ ও উমিচাঁদ ‘কাকতাড়ুয়া’ উপন্যাসের কোন চরিত্রের প্রতীক? বর্ণনা কর। (ঘ) উদ্দীপকে ‘কাকতাড়ুয়া’ উপন্যাসের সারবস্তু ফুটে উঠেছে- মন্তব্যটি বিশ্লেষণ কর। ৮। ১৯৫২ সালে পাকিস্তানের তত্কালীন গভর্নর মোহাম্মদ আলী জিন্নাহ একবার ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কার্জন হলে এসে ঘোষণা করলেন- “উর্দু এবং একমাত্র উর্দুই হবে পাকিস্তানের রাষ্ট্রভাষা।” কিন্তু বাংলার দামাল ছেলেরা ‘না- না- না’ বলে প্রতিবাদ জানায়। তত্কালীন পাকিস্তান সরকার ফেব্রুয়ারি মাসের ২১ তারিখে ঢাকা শহরে ১৪৪ ধারা জারি করে। কিন্তু তারপরেও ছাত্র, শিক্ষক, রাজনীতিবিদ, ব্যবসায়ী, চাকরিজীবী, রিকসাওয়ালাসহ অনেকেই আমাদের মাতৃভাষার জন্য “রাষ্ট্রভাষা বাংলা চাই” শ্লোগানে ঢাকার রাজপথে ফেস্টুন, ব্যানারে মিছিল করেছিল। তখন পাকিস্তানী পুলিশ বাহিনী বাঙালিদের ওপর নির্মমভাবে গুলবর্ষণ করে। সালাম, বরকত, রফিক, শফিক জব্বারসহ আরও নাম না জানা অনেকে রক্তে রঞ্জিত হয়ে শহিদ হন। (ক) বুধাকে কার কাছে মুরব্বি মনে হয়? (খ) সাবধানে থাকাকে কী কারণে মুক্তিযুদ্ধের কৌশল বলা হয়েছে? (গ) ‘কাকতাড়ুয়া’ উপন্যাসের কোন দিকিট উদ্দীপকের মোহাম্মদ আলী জিন্নাহর ঘোষণায় ফুটে ওঠেছে? বর্ণনা কর। (ঘ) প্রেক্ষাপট ভিন্ন হলেও ভাষা শহীদদের সাথে বুধার মতো বাঙালির অনেকের মধ্যে একটি চেতনার মিল খুঁজে পাওয়া যায়- মন্তব্যটি ‘কাকতাড়ুয়া’ উপন্যাসের আলোকে মূল্যায়ন কর। ৯। ১৮৬০ সালে ইংরেজ নীল ব্যবসায়ীরা বড় বড় কুঠিবাড়ি তৈরি করে এদেশে নীলের চাষ শুরু করে। তারা বাংলার কৃষকের ভালো ধানের জমিতে নীল চাষ করার জন্য কৃষককে দাদন দিয়ে বাধ্য করতো। ইংরেজরা ত্রিশ টাকার নীলে ভাগ পেত পঁচিশ টাকা, কিন্তু কৃষকরা পেত মাত্র পাঁচ টাকা। ফলে এতে কৃষকের খরচের টাকাও উঠে আসতো না। আবার বাংলার কোনো কৃষক যদি নীলচাষ করতে অনিচ্ছা প্রকাশ করতো, তাহলে তাকে লাঠিয়াল দিয়ে ধরে এনে কুঠিবাড়ির কয়েদখানায় বন্দি করে নিষ্ঠুরভাবে অত্যাচার করা হতো। অবশেষে বাংলার নিপীড়িত কৃষকদের দলবদ্ধ সংগ্রামের মাধ্যমে নীলচাষ বন্ধ হয়ে যায়। (ক) কত সালে সেলিনা হোসেন ‘কাকতাড়ুয়া’ উপন্যাস রচনা করেন? (খ) ‘কাকতাড়ুয়া’ উপন্যাসে কাকতাড়ুয়া বলতে উপন্যাসিক কীবোঝাতে চেয়েছেন? (গ) উদ্দীপকে ‘ ‘কাকতাড়ুয়া’ উপন্যাসে কোন্ ভাবটি প্রকাশ পেয়েছে? ব্যাখ্যা কর। (ঘ) প্রেক্ষাপট ভিন্ন হলেও উদ্দীপকের বাংলার নিপীড়িত কৃষকদের এবং ‘কাকতাড়ুয়া’ উপন্যাসের বিধু, শাহাবুদ্দীনের মতো জাগ্রত জনতা একটি উদ্দেশ্যে একই চেতনায় গ্রথিত হয়েছে— মন্তব্যটির যথার্থতা নিরূপণ কর।