শেখ রাসেল এভিয়ারি পার্কে কাটেনি ঈদের রেশ

আপডেট : ০৪ আগস্ট ২০১৪, ২১:১৬
পার্কের নিরাপত্তা ব্যবস্থা ততোটা ভালো নয়, ক্যাবলকার চালু না হওয়ায় খুশি নন দর্শনার্থীরা ঈদ আনন্দের রেশ কাটেনি এখনো। রাঙ্গুনিয়ার শেখ রাসেল এভিয়ারি এন্ড ইকো পার্কে দর্শনার্থীদের ভিড়ও কমেনি। প্রাকৃতিক সৌন্দর্যপিপাসুদের আগমনে মুখর হয়ে উঠেছে পার্ক। চট্টগ্রামসহ দেশের বিভিন্ন এলাকা থেকে পর্যটকরা এসে কোদালা বন বিটের দক্ষিণে অবস্থিত সবুজ পাহাড়বেষ্টিত এই পার্কে পাখির অভয়ারণ্যসহ প্রাকৃতিক সৌন্দর্য দর্শনে ভিড় করছেন। ২১০ হেক্টর এলাকা জুড়ে শেখ রাসেল পার্কের অবস্থান। সবুজ বনাঞ্চলের বুক চিরে দুই কিলোমিটারের আঁকা বাঁকা সর্পিল ইটের রাস্তা চলে গেছে পার্কের অপর প্রান্ত পর্যন্ত। উপরে টানানো আছে রোপ লাইন। যার উপর দিয়ে চলবে ক্যাবল কার। সাবেক পরিবেশ ও বনমন্ত্রী ড. হাছান মাহমুদের ঐকান্তিক প্রচেষ্টায় রাঙ্গুনিয়া বন রেঞ্জের কোদালা বিটের বিস্তীর্ণ সংরক্ষিত বনাঞ্চলে শেখ রাসেল এভিয়ারি এন্ড ইকো পার্ক প্রকল্পের বাস্তবায়ন হয়। গত বছর ১১ নভেম্বর প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা-এর উদ্বোধন করেন। উদ্বোধনের পর পরই বিনোদন পিয়াসীদের জন্য উন্মুক্ত করে দেয়া হয় পার্কটি। আন্তর্জাতিক মানের এভিয়ারি এন্ড ইকো পার্কের যাত্রার শুরুতে স্থানীয়দের মাঝে ব্যাপক উত্সাহ-উদ্দীপনা দেখা দেয়। রাস্তার পাশে সবুজ গাছ গাছালির অন্তরালে সুবিশাল খাঁচায় রয়েছে দেশি-বিদেশি পাখি। পার্কের প্রবেশদ্বারে অপরূপ শোভামণ্ডিত কৃত্রিম লেকে ভাসছে হাঁসসহ নানা প্রজাতির জলচর পাখি, আছে পানকৌড়িরা। সবুজ বনের উপর ঝাঁকে ঝাঁকে উড়ছে নানা রকম পাখপাখালি। লেকের মাঝেখানে নির্মিত কৃত্রিম দ্বীপের সঙ্গে রয়েছে সংযোগ সেতু। লেকের এক প্রান্ত থেকে অপর প্রান্ত পর্যন্ত রোপ ওয়েতে চলবে ১৬টি ক্যাবল কার। প্রকৃতির মাঝে একাকার হয়ে জীবনকে উপভোগ করার এই তো সুযোগ। কেউ পরিবারের সদস্যদের নিয়ে, আবার কেউ প্রেমিক, প্রিয়জনদের নিয়ে ঘুরে বেড়াচ্ছেন সবুজ প্রকৃতির মাঝে। রাঙ্গুনিয়ার পারুয়া থেকে সপরিবারে পার্ক দর্শনে আসা মাহবুব আলম জানান, পার্কে মনোমুগ্ধকর পরিবেশ থাকলেও নিরাপত্তা ব্যবস্থা ততোটা ভালো নয়। তাছাড়া হঠাত্ করে প্রবেশ মূল্য আদায় করার কারণে দর্শনার্থীরা কিছুটা বিভ্রান্ত। তদুপরি ক্যাবলকার এখনও চালু না হওয়ায় খুশি নন দর্শনার্থীরা। চট্টগ্রাম বন বিভাগের সহকারী বন সংরক্ষক কৃষ্ণপদ সাহা জানান, বন বিভাগের তত্ত্বাবধানে বাস্তবায়িত শেখ রাসেল এভিয়ারি ইকো পার্কে গড়ে তোলা হয়েছে পাখিদের আবাসনের উপযুক্ত পরিবেশ। পার্কে আছে দেশি-বিদেশি দুর্লভ প্রজাতির প্রায় ৭‘শ পাখি। ঈদকে ঘিরে পার্কে বিনোদনপ্রেমী দর্শকদের জন্য করা হয়েছে বিশেষ আয়োজন। তবে পার্কের চারপাশে সীমানা প্রাচীর না থাকায় চোরাপথে অবাঞ্ছিত লোকজন পার্কে প্রবেশ করছে। রোপওয়ে স্থাপিত হলেও বিদ্যুত্ সরবরাহে লো ভোল্টেজের কারণে ক্যাবল কার চালু হচ্ছে না। এতে পার্কে ক্যাবল কারে ভ্রমণের আনন্দ থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন দর্শনার্থীরা।