গাজীপুরের শ্রীপুরে গত কয়েক বছরে অস্বাভাবিকভাবে বেড়ে গেছে জমির দাম। ফলে পেশাদার ভূমি দখলকারীরা নানা রকম জাল-জালিয়াতির মাধ্যমে নিরীহ অসহায় মানুষজনকে ভিটে ছাড়া করে বসতবাড়ি এমনকি আবাদী জমি বিক্রি করছে দেদারসে।
সমস্ত প্রকার বৈধ কাগজপত্র থাকার পরও নিজেদের জমি উদ্ধারের জন্য বছরের পর বছর ঘুরতে হচ্ছে মানুষের দ্বারে দ্বারে। জমি জবরদখলকে কেন্দ্র করে ইতিমধ্যে বেশ শক্তিশালী কয়েকটি বাহিনী গড়ে উঠেছে। স্থানীয়ভাবে এদেরকে ‘ খুঁটি বাহিনী ’ বলা হয়।
এই বাহিনীর সদস্যরা ভাড়ায় চলে। টাকা হলেই সশস্ত্র মহড়া দিয়ে বসতভিটা থেকে একজনকে উচ্ছেদ করে অন্যজনকে জমি জবরদখল করে দেয়। ভুয়া কাগজপত্র তৈরিতে ভূমিদস্যূদের সহযোগিতা করে সংশ্লিষ্ট বিভাগের অসাধু কর্মকর্তা-কর্মচারীরা। এইসব ভুয়া কাগজপত্র তৈরি করে শ্রীপুরের বিভিন্ন ভূমি অফিসের একাধিক পিয়ন কোটিপতি হয়েছেন। আর নিঃস্ব হচ্ছে সাধারণ মানুষ।
থানায় প্রতি মাসে জমি সংক্রান্ত বিরোধ নিয়ে ১৪ থেকে ১৫টি মামলা হয়। মূল মালিকের অনুমতি ছাড়া জমি বিক্রি করে দেয়া ও জমি দখলের ঘটনাকে কেন্দ্র করেই মূলত এসব মামলাগুলো হচ্ছে। শ্রীপুর এলাকায় গত এক যুগে প্রায় দেড় হাজার নতুন শিল্প প্রতিষ্ঠান স্থাপিত হয়েছে। এতেই জমির দাম বেড়ে মালিকানা নিয়ে দ্বন্দ্ব শুরু হওয়া এ ধরনের বিরোধ দেখা দিচ্ছে বলে স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে।
শ্রীপুরের বরমী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আব্দুর রাজ্জাক বেপারী ও আসলাম সানীর মালিকানাধীন ৩.৬১ একর জমিতে একটি প্রতিষ্ঠান তাদের কারখানা স্থাপন করেছে। ওই জমি নিয়ে আদালতে মামলা চলছে। এ ব্যাপারে আব্দুর রাজ্জাক বেপারী বলেন, ‘আমি একজন জনপ্রতিনিধি হয়ে আমার নিজের জমি দখলমুক্ত করতে পারছি না। আর সাধারণ গ্রামবাসীর জমি ও ভিটেমাটির কী অবস্থা তা তো বুঝতেই পারছেন। তারপরও নানা রকম হুমকি তো আছেই । ’
উপজেলার গাজীপুর ইউনিয়নের দক্ষিণ ধনুয়া গ্রামে ভুয়া ও জাল দলিলের মাধ্যমে স্থানীয় ডা. শামসুল হকের ছেলে শহিদুল ইসলামের ৩৫ শতাংশ পৈত্রিক জমি স্থানীয় একটি দালাল চক্র এ.এ. ইন্ড্রাস্ট্রি নামে একটি কোম্পানীর কাছে বিক্রি করে দিয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে।
মাওনা ইউনিয়নের আনন্দ বাজার এলাকায় আবুল কাশেম নামে এক অটোরিকশা চালকের প্রায় ২৫ লাখ টাকা মূল্যের দশ শতাংশ পৈত্রিক জমি জবরদখলের অভিযোগ উঠেছে।
উপজেলার রাজাবাড়ি ইউনিয়নের রাজেন্দ্রপুর এলাকায় ঐতিহ্যবাহী সুরমা নদী (খাল) দখল করে পদ্মা পেপারস মিল নামে একটি কারখানা গড়ে উঠেছে। শুধু ব্যক্তি মালিকানাধীন নয়, শ্রীপুরের এক হাজার ৭৬১ একর সরকারি খাস জমির মধ্যে ৭০০ একর বন্দোবস্ত দেয়া হয়েছে। বাকি জমির প্রায় পুরোটাই স্থানীয় প্রভাবশালীরা জবরদখল করে রেখেছে।
