সুনামগঞ্জের বিশ্বম্ভরপুর উপজেলার ফতেপুর ইউনিয়নের কৌয়া গ্রামের নলকূপগুলোয় ঝুঁকিপূর্ণ মাত্রায় আর্সেনিকের অস্তিত্ব শনাক্ত করা হলেও বিষয়টি জানে না উপজেলা জনস্বাস্থ্য বিভাগ। হাওরপাড়ের প্রত্যন্ত এ গ্রামটিতে সাড়ে ৭শ মানুষের বাস। পানির বিকল্প উত্স না থাকায় আর্সেনিকযুক্ত নলকূপের পানিই ব্যবহার করতে বাধ্য হচ্ছেন গ্রামটির সাধারণ মানুষ। ফলে স্বাস্থ্য ঝুঁকির মধ্যে রয়েছেন এ গ্রামের বাসিন্দারা।
জানা যায়, জুলাই মাসের প্রথম সপ্তাহে কৌয়া গ্রামের ১০টি নলকূপের সবগুলোতে আর্সেনিকের অস্তিত্ব শনাক্ত করে বেসরকারি সংস্থা ব্র্যাক। পরে গ্রামের লোকজন বিকল্প পানির উেসর জন্য উপজেলা জনস্বাস্থ্য বিভাগে যোগাযোগ করে। অথচ একমাস সময় অতিবাহিত হলেও এ বিষয়টি নিয়ে কোন উদ্যোগই নেয়নি জনস্বাস্থ্য বিভাগ।
সুনামগঞ্জ সদর হাসপাতালের আবাসিক চিকিত্সক ডা. এহসান বলেন, আর্সেনিকযুক্ত পানি ব্যবহার করলে বিষক্রিয়ায় বিভিন্ন জটিল রোগের সংক্রমণ ঘটে। এই পরিস্থিতিতে অন্য উত্স থেকে পানি ব্যবহারের পরামর্শ দেন তিনি।
ফতেপুর ইউনিয়নের ৮ নম্বর ওয়ার্ডের সদস্য মনসুর চৌধুরী জানান, এ ওয়ার্ডের কৌয়া গ্রামের সব নলকূপে আর্সেনিকের উপস্থিতি পাওয়া গেছে। বিকল্প উত্স না থাকায় বাধ্য হয়ে বেশিরভাগ মানুষ আর্সেনিকযুক্ত পানি ব্যবহার করছেন। কৌয়া গ্রামের প্রবীণ বাসিন্দা দীনবন্ধু তালুকদার জানান, আর্সেনিকের কারণে এ গ্রামের মানুষ স্বাস্থ্য ঝুঁকিতে আছে। জরুরিভিত্তিতে বিকল্প পানির উেসর ব্যবস্থা করার জন্য তিনি সরকারের সংশ্লিষ্ট বিভাগের নিকট দাবি জানান। বিশ্বম্ভরপুর উপজেলা জনস্বাস্থ্য প্রকৌশলী মামুনুর রশীদ সরকার জানান, এ ব্যাপারে খোঁজ নিয়ে পরবর্তীতে কি করা যায় তা নির্ধারণ করা হবে।
