ঢাকা-বঙ্গবন্ধু সেতু মহাসড়ক চার লেন প্রকল্পের জন্য জমি অধিগ্রহণের বিপরীতে বেশি করে ক্ষতিপূরণের লোভে মির্জাপুর অংশে মহাসড়কের দুই পাশে স্থাপনা নির্মাণের হিড়িক পড়েছে। অর্থলোভী একটি চক্র জমির মালিকদের কিছু টাকা ধরিয়ে দিয়ে সেই জমির উপর নির্মাণ করছে এসব স্থাপনা। ধান ক্ষেত, ডোবা-নালা, পুকুর ও নিচু জমিতে বাঁশ, টিন ও ইট দিয়ে রাতারাতি স্থাপনাগুলো নির্মিত হচ্ছে। প্রকল্পের ভূমি জরিপ কাজে নিয়োজিত এক শ্রেণীর দুর্নীতিবাজ কর্মকর্তা-কর্মচারী, যোগাযোগ মন্ত্রণালয় ও সড়ক ও জনপথ বিভাগের কর্মকর্তা-কর্মচারী এবং স্থানীয় দালালদের সহযোগিতায় অবৈধভাবে স্থাপনা নির্মাণ শুরু হয়েছে। গতকাল সোমবার মির্জাপুর উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় সরেজমিন গিয়ে দেখা গেছে এই চিত্র। গত এক মাসে অবৈধ স্থাপনা নির্মাণ হয়েছে বেশি।
মির্জাপুর উপজেলা ভূমি অফিস সূত্র জানায়, ঢাকা-টাঙ্গাইল-জয়দেবপুর-বঙ্গবন্ধু যমুনা সেতুর এলেঙ্গা পর্যন্ত চার লেন করার জন্য সরকার নীতিগত সিদ্ধান্ত নিয়েছে। এরই ধারাবাহিকতায় মির্জাপুর ক্যাডেট কলেজ এলাকা থেকে নাটিয়াপাড়া পর্যন্ত জমি অধিগ্রহণ করা হবে। এডিবি, ওপেন ফান্ড ফর ইন্টারন্যাশনাল ডেভেলপমেন্ট ও আবুধাবি ফান্ড ফর ডেভেলপমেন্টের সহায়তায় বাংলাদেশ সরকারের প্রায় চার হাজার কোটি টাকার এই প্রকল্প গ্রহণ করেছে। এই প্রকল্পের অধীনে মহাসড়কের দুইপাশে গাজীপুর জেলা ও টাঙ্গাইল জেলার ৮৭ দশমিক ৫১৮৫ একর জমি অধিগ্রহণ করার জন্য যোগাযোগ মন্ত্রণালয় থেকে প্রশাসনিক অনুমোদন পাওয়া গেছে বলে সূত্রটি জানায়। ওই জমির মধ্যে টাঙ্গাইলের মির্জাপুর উপজেলা অংশে জমি পড়েছে ১৩ দশমিক ৭৬৮৯ একর।
সরেজমিনে দেখা গেছে, কেউ লম্বালম্বি ভাবে চাল দিয়ে ঘর নির্মাণ করেছে আবার কেউ আধাপাকা আবার কেউ পাকা ঘর নির্মাণ করেছে। এতে ব্যবহূত হচ্ছে চিকন রড, নিম্নমানের ইট, এবং বাঁশের খুঁটি। স্থাপনার সামনে বিভিন্ন কল-কারখানার সাইন বোর্ড ঝুঁলিয়ে দেয়া হয়েছে।
ইতিমধ্যে টাঙ্গাইল জেলা প্রশাসন, বিভিন্ন উপজেলা প্রশাসন, সড়ক ও জনপথ বিভাগ এবং চার লেন তৈরির প্রকল্প পরিচালকের দপ্তর থেকে ভূমি জরিপের কাগজপত্র, ভিডিও চিত্র ও নকশাসহ আনুষঙ্গিক কাজ সমাপ্ত করে যোগাযোগ মন্ত্রণালয়সহ সংশ্লিষ্ট অধিদপ্তরে জমা দেয়া হয়েছে। তখন বলা হয়েছে, শুধু জমির মালিকরা অধিগ্রহণের টাকা পাবে।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, যারা এসব স্থাপনা নির্মাণ করছে তাদের বাড়ি গাজীপুর, গাইবান্ধা, দিনাজপুর, ঠাকুরগাঁও, ফরিদপুর, বগুড়া, ঢাকাসহ বিভিন্ন জেলায়।
মির্জাপুর ভূমি অফিসের সার্ভেয়ার সাখাওয়াত হোসেন বলেন, এসব অবৈধ স্থাপনা নির্মাণ জমিদারী অধিগ্রহণ ও প্রজাস্বত্ব আইন ১৯৫০ এর ৯০ ধারার পরিপন্থি। তাই যারা অবৈধ স্থাপনা নির্মাণ করছে তারা কোন টাকা পাবে না।
এব্যাপারে মির্জাপুর উপজেলা নির্বাহী অফিসার আফরোজা আখতার চৌধুরী এবং টাঙ্গাইলের অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) মো. সোয়ায়েব আহমেদের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তারা ঘটনার সত্যতা স্বীকার করেছেন। তারা জানান, যারা এসব অবৈধ স্থাপনা নির্মাণ করছে তারা কোন ভাবেই অতিরিক্ত টাকা পাবে না। কারণ অনেক আগেই জরিপ করে এবং ভিডিও চিত্র ধারণের মাধ্যমে নকশা তৈরি করে সংশ্লিষ্ট দপ্তরে পাঠানো হয়েছে। জমির মালিকদের মিথ্যা প্রলোভন দিয়ে একটি চক্র প্রতারণা করছে।
এব্যাপারে জয়দেবপুর-টাঙ্গাইল চার লেন প্রকল্পের এক্সিকিউটিভ প্রকৌশলী সিরতাজ উদ্দিনের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, এ ধরনের অভিযোগ তাদের কাছেও এসেছে। যারা অসত্ উদ্দেশে রাস্তার পাশে এসব অবৈধ স্থাপনা নির্মাণ করছে তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হবে এবং কোন অবস্থায়ই অতিরিক্ত অধিক টাকা প্রদান করা হবে না।
