দেশে প্রথমবারের মতো একসঙ্গে ৬ হাজার ২২১ জন চিকিত্সক সরকারি চাকরিতে যোগ দিতে যাচ্ছেন চলতি সপ্তাহে। আগামী ৭ আগস্ট বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে তারা যোগ দিচ্ছেন। এক সঙ্গে এই বিপুল সংখ্যক চিকিত্সক নিয়োগকে স্বাস্থ্য সেবা নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে একটি মাইলফলক হিসেবে অভিহিত করেছেন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রী মোহাম্মদ নাসিম। গতকাল সোমবার তিনি মন্ত্রণালয়ের নিজ কার্যালয়ে সাংবাদিকদের এ তথ্য জানান।
মোহাম্মদ নাসিম বলেন, বর্তমান সরকার মানুষের দোরগোড়ায় স্বাস্থ্য সেবা পৌঁছে দিতে অঙ্গীকারাবদ্ধ। আর এ জন্য সরকার দেশের হাসপাতাল, স্বাস্থ্য কেন্দ্রে ও কমিউনিটি হেলথ সেন্টারগুলোতে চিকিত্সকদের শূন্যপদ পূরণে সর্বাগ্রে অগ্রাধিকার দিয়েছে।
স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, নতুন চিকিত্সক নিয়োগের পাশাপাশি বিভিন্ন হাসপাতাল ও স্বাস্থ্য কেন্দ্রে চাকরিরত অভিজ্ঞ ও দক্ষ চিকিত্সকদের পদোন্নতিরও উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। ইতিমধ্যে ৫ শতাধিক মেডিক্যাল অফিসার ও সহকারী সার্জনকে জুনিয়র কনসালট্যান্ট হিসেবে পদোন্নতি দেয়া হয়েছে। চলতি মাসে আরো প্রায় দুই হাজার যোগ্যতা সম্পন্ন চিকিত্সককে সহকারী অধ্যাপক, সহযোগী অধ্যাপক, সিনিয়র কনসালট্যান্ট, সহকারী পরিচালক ও উপ-পরিচালক হিসেবে পদোন্নতি দেয়া হবে। মন্ত্রী জানান, এই নিয়োগের ফলে দেশে দীর্ঘ দিনের চিকিত্সক সংকট বহুলাংশে লাঘব হবে। তৃণমূলের মানুষ কাঙ্ক্ষিত স্বাস্থ্য সেবা পাবেন। তবে নতুন নিয়োগপ্রাপ্ত এসব চিকিত্সকদের প্রথমে যে স্থানে নিয়োগ দেয়া হবে, আগামী দু’বছর তাদেরকে বাধ্যতামূলকভাবে সেই কর্মস্থলেই মানুষকে চিকিত্সা সেবা দিতে হবে।
মোহাম্মদ নাসিম বলেন, প্রধানমন্ত্রীর ঘোষণামতে যদি কোন স্বামী ও স্ত্রী দু’জনই চিকিত্সক হিসেবে নিয়োগ পান তাদের উভয়ই একই কর্মস্থলে নিয়োগ পাবেন। এমনকি নতুন চিকিত্সকরা তাদের ইচ্ছানুযায়ী নিজ জেলা, উপজেলা কিংবা ইউনিয়নে পোস্টিং লাভে কোন বাধা থাকবে না।
স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, দেশে বর্তমানে চিকিত্সকের শূন্যপদের সংখ্যা প্রায় সাড়ে ৪ হাজার। পদোন্নতির কারণে আরো কিছু পদ শূন্য হবে। ৬ হাজার ২২১ জন নতুন চিকিত্সক নিয়োগ পাওয়ার পর তৃণমূল পর্যায়ে আর কোন চিকিত্সকের অভাব থাকবে না। মোহাম্মদ নাসিম জানান, আগামী ১০ জানুয়ারি জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ঐতিহাসিক স্বদেশ প্রত্যাবর্তন দিবস। এই দিনে দেশের ছয়টি নতুন সরকারি মেডিক্যাল কলেজে ক্লাস শুরু করা হবে। কলেজগুলো হচ্ছে সিরাজগঞ্জের শহীদ এম মনসুর আলী, মানিকগঞ্জ, জামালপুর, পটুয়াখালী, টাঙ্গাইল ও রাঙ্গামাটি সরকারি মেডিক্যাল কলেজ। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ইতিমধ্যে এই কলেজগুলোর কার্যক্রম শুরুর অনুমোদন দিয়েছেন।
