প্রথম বিশ্বযুদ্ধের শতবার্ষিকী পালন শুরু করেছে বিভিন্ন দেশ। এই বিশ্বযুদ্ধে ব্রিটেনের যোগদানের ১০০ বছর উপলক্ষে ব্রিটেন এবং বেলজিয়ামে গতকাল সোমবার আনুষ্ঠানিকভাবে স্মরণ অনুষ্ঠান শুরু হয়েছে। এই দিনটিতে ব্রিটেন জার্মানির বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক যুদ্ধ ঘোষণা করেছিল। ১৯১৪ থেকে ১৯১৮ সাল পর্যন্ত এই মহাযুদ্ধে প্রাণ হারায় প্রায় এক কোটি ৭০ লক্ষ সেনা এবং বেসামরিক মানুষ।
তাদের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদনের জন্য ব্রিটেনে সোমবার স্থানীয় সময় রাত ১০টা থেকে পরবর্তী এক ঘন্টা বাতি নিভিয়ে রাখার কর্মসূচি ঘোষণা করা হয়। রয়্যাল ব্রিটিশ লিজিয়নের আয়োজনে এই ‘লাইটস আউট’ কর্মসূচিতে লক্ষ লক্ষ মানুষ তাদের বাড়ি, এবং সরকারি ও বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে বাতি নিভিয়ে রাখার কথা জানায়। প্রথম বিশ্বযুদ্ধের শতবার্ষিকীর আনুষ্ঠানিক স্মরণ অনুষ্ঠান সোমবার শুরু হয় বেলজিয়ামের লিেস, যেখানে ৫০ দেশের রাষ্ট্রপ্রধান যোগ দেন। ব্রিটেনের তরফে কেমব্রিজের ডিউক এবং ডাচেস এই অনুষ্ঠানে যোগ দেন। স্কটল্যান্ডের গ্লাসগো শহরে যে স্মরণ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়েছে তাতে ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রীর ডেভিড ক্যামেরনের সাথে যোগ দিয়েছেন কয়েকটি কমনওয়েলথ দেশের সরকার প্রধান। ১৯১৪ সালের ৩রা অগাস্ট ফ্রান্সের বিরুদ্ধে জার্মানির আনুষ্ঠানিক যুদ্ধ ঘোষণার শতবার্ষিকী পালন করা হয় রোববার। এ উপলক্ষে এই দু’দেশের সীমান্তে এক অনুষ্ঠানে জার্মান এবং ফরাসি প্রেসিডেন্ট যোগ দেন।
অস্ট্রেলিয়া ও নিউজিল্যান্ড গতকাল প্রথম বিশ্বযুদ্ধ শুরুর শতবর্ষ পালন করে। প্রধানমন্ত্রী টনি অ্যাবট ও জন কি বলেছেন, এ যুদ্ধ তাদের পুরো জাতিকেই বদলে দিয়েছে। প্রথম বিশ্বযুদ্ধে ৬১ হাজার অস্ট্রেলীয় ও ১৮ হাজার নিউজিল্যান্ডবাসী নিহত হয়। পূর্তি উত্সবে অ্যাবট এ যুদ্ধকে মানব ইতিহাসের সবচেয়ে বীভত্স ঘটনা বলে বর্ণনা করেন। তিনি বলেন, প্রথম বিশ্বযুদ্ধের কারণেই একে একে সমাজতন্ত্র, নাত্সীবাদ, দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ ও স্নায়ুযুদ্ধের সৃষ্টি। এ ছাড়া এ যুদ্ধ আমাদের পুরো জাতির চেহারাই বদলে দিয়েছে। শতবছর আগে ৪ আগস্ট কার্যত এ যুদ্ধ শুরু হয়। বেলজিয়ামে জার্মানীর হামলার পর ব্রিটেন তার বিরুদ্ধে যুদ্ধ ঘোষণা করে। রক্তক্ষয়ী এ যুদ্ধে অস্ট্রেলিয়াও জড়িয়ে পড়ে। নিউজিল্যান্ডে ১শ’ তোপধ্বনির মাধ্যমে দিনটি উদযাপন করা হয়। এ উপলক্ষে জন কে বলেন, এ যুদ্ধ নিজজিল্যান্ডবাসীর নিজেকে নিয়ে নিজের ভাবনা ও তাদের সম্পর্কে অন্যদের ভাবনাতেও পরিবর্তন এনেছে। খবর বিবিসি ও এএফপির।
