ভারতের প্রাচীনতম কংগ্রেস দলের সঙ্গে অবশেষে আনুষ্ঠানিকভাবে যুক্ত হচ্ছেন দলটির চেয়ারপার্সন সোনিয়া গান্ধী তনয়া প্রিয়াঙ্কা গান্ধী। তাকে দলে শিগগিরই কোনো পদ দেওয়া হতে পারে। চলতি বছর কয়েকটি রাজ্যের বিধানসভা নির্বাচনে তার কর্মদক্ষতাকে কাজে লাগাতে এই পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে। বহুদিন ধরেই প্রিয়াঙ্কা গান্ধীকে দলের পদ দেওয়ার জন্য তৃণমূল নেতা-কর্মীদের চাপ ছিল সোনিয়া গান্ধীর ওপর।
প্রিয়াঙ্কা গান্ধীকে দলের সাধারণ সম্পাদক (সাংগঠনিক) কিংবা উত্তরপ্রদেশের শাখার প্রধান করা হতে পারে। গত লোকসভা নির্বাচনে বারবার অনুরোধ করার পরও প্রিয়াঙ্কা গান্ধী দলের সঙ্গে আনুষ্ঠানিকভাবে যুক্ত হননি। তিনি উত্তরপ্রদেশে মা সোনিয়া গান্ধী এবং ভাই রাহুল গান্ধীর পক্ষেই কেবল প্রচারণা চালান। ওই নির্বাচনের সার্বিক ফলাফলে কংগ্রেসের ভরাডুবি ঘটে। বর্তমানে কংগ্রেসের সাধারণ সম্পাদক (সাংগঠনিক) পদে রয়েছেন জনার্দন ত্রিবেদী এবং উত্তরপ্রদেশ শাখায় রয়েছেন নির্মল খাত্রি। এমনকি প্রিয়াঙ্কা গান্ধীর স্বামী ভদ্রকে দলে কোনো পদ দিলেও ‘না’ করবেন না দলের নেতা-কর্মীরা। তবে এই বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নিবেন সোনিয়া গান্ধী এবং রাহুল গান্ধী।
ভারতের লোকসভা নির্বাচনের ফলাফলে উত্তরপ্রদেশ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। যে দল এই প্রদেশটিতে বেশি আসন পায় সেই দলই সাধারণত ভারতে সরকার গঠন করে। এবারও এর ব্যতিক্রম হয়নি। কারণ এই প্রদেশটিতে রয়েছে ৮০টি আসন। চলতি বছরের ১৬তম লোকসভা নির্বাচনে কংগ্রেস মাত্র দুটি আসন পেয়েছে। এজন্য এই প্রদেশে প্রিয়াঙ্কা গান্ধীকে দায়িত্ব দেওয়া হতে পারে। নির্বাচনের অনেক আগেই প্রিয়াঙ্কা গান্ধীকে দলে গুরুত্বপূর্ণ কোনো পদ দেওয়ার দাবি করেছিলেন নেতা-কর্মীরা। কর্মীরা মনে করেন, প্রিয়াঙ্কা গান্ধীর ব্যক্তিগত রাজনৈতিক জ্ঞান, কৌশল এবং জনপ্রিয়তা দলকেও জনপ্রিয় করতে পারে। নেতা-কর্মীরা মনে করেন, ক্ষমতাসীন (তত্কালীন বিরোধী দল) ভারতীয় জনতা পার্টি (বিজেপি) এবং বর্তমান প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীকে সামাল দেওয়ার ক্ষমতা প্রিয়াঙ্কা গান্ধীরই আছে। আর দলের ভাইস প্রেসিডেন্ট রাহুল গান্ধীর ভূমিকা নিয়ে দলের মধ্যেই তখন বির্তক ছিল। তার নেতৃত্বের দক্ষতা নিয়েও ছিল নানা প্রশ্ন। দলটির একটি সূত্র জানিয়েছে, লোকসভা নির্বাচনের আগেই রাহুল প্রিয়াঙ্কা গান্ধীকে উত্তরপ্রদেশ শাখার প্রধান করার পরামর্শ দিয়েছিলেন। বর্তমানেও উত্তরপ্রদেশে কংগ্রেসের অবস্থান ততোটা ভাল নয়। প্রদেশটির নেতা-কর্মীরা জানিয়েছেন, বিজেপি’র বর্তমান প্রেসিডেন্ট অমিত শাহকে মোকাবেলা করার কৌশল একমাত্র প্রিয়াঙ্কা গান্ধীরই আছে। অমিত শাহের নেতৃত্বেই বিজেপি প্রদেশটিতে এককভাবে ৭১ টি আসনে জয় পায়। অনেকের মতে, প্রিয়াঙ্কা গান্ধী যদি দলের সাধারণ সম্পাদক (সাংগঠনিক) হন তাহলেই সবচেয়ে ভাল হয়। এর ফলে তিনি কেন্দ্রীয় এবং রাজ্যের সব দিকেই লক্ষ্য রাখতে পারেন।
