ঝিনাইদহের বারোবাজার রেলক্রসিংয়ে দুর্ঘটনার আগে বাসের যাত্রীদের কেউ কেউ ট্রেনের আলো দেখে চালককে বাস থামাতে বলেছিলেন। কিন্তু তারপরও চালক বাস থামাননি। শুক্রবার ভোরে বরযাত্রীবাহী ওই বাস ও ট্রেনের সংঘর্ষে ১১ জন মারা যান। আহতদের মধ্যে ৩৩ জন এখনও যশোর ও ঝিনাইদহ হাসপাতালে চিকিত্সাধীন আছেন। তবে গুরুতর আহত ৬ জন ঢাকায় চিকিত্সাধীন। এদের মধ্যে রিপন সাহা ও মিঠু সাহা ইনটেনসিভ কেয়ার ইউনিটে (আইসিইউ) আছেন। তারা মৃত্যুর সঙ্গে লড়ছেন বলে জানা গেছে।
বরের কাকার ছেলে কিশোর সজল বিশ্বাস জানায়, সেদিন রেলক্রসিং-এর কাছাকাছি এলে আলো দেখে সে চিত্কার দিয়ে বলে ট্রেন আসছে। কিন্তু বাসের ড্রাইভার তার কথা না শুনে বাস রেললাইনের উপর তুলে দেয়। এ সময় বিকট শব্দ হয়। ড্রাইভার বাসের জানালা দিয়ে লাফ দেয়। এক সময় সে ছিটকে পড়ে আহত হয়।
বাসের হেলপার রাজু জানান, রেলক্রসিং-এর গেট খোলা ছিল। কাছাকাছি এলে ট্রেনের আলো দেখে তিনিও চালককে বলেন, ট্রেন আসছে। এরপর তিনিও ঝাঁপ দেন। ব্যথা পেলেও অক্ষত আছেন রাজু।
এদিকে বরের বাড়িতে এখনও শোক জানাতে আসছেন মানুষ। বর তাপস জানান, বরযাত্রীবাহী বাসের পিছনে ছিল তাদের বহনকারী মাইক্রোবাস। দুর্ঘটনার পর তিনি নিজে হতাহতদের উদ্ধার কাজ শুরু করেন। রক্তে তার বিয়ের পোশাক ভিজে যায়। তারপর স্থানীয় লোকজন উদ্ধার কাজে এগিয়ে আসেন। পরে পুলিশ আসে। তখনকার দৃশ্য বর্ণনার মত নয় বলে তিনি জানান।
গতকাল সোমবার শৈলকুপা উপজেলার ফুলহরি গ্রামে গিয়ে দেখা যায়, মানুষ এখনও শোক সামলে উঠতে পারেনি। নববধূ জ্যোত্স্না বিশ্বাস মাঝে মাঝেই কেঁদে উঠছেন। কাঁদতে কাঁদতে তার দু’চোখ ফুলে গেছে। এ মর্মান্তিক ঘটনার জন্য তাদের বিয়েকে অপবাদ দিচ্ছে এক শ্রেণির লোক। এ কথায় আরো বেশি দুঃখ পাচ্ছেন জ্যোত্স্না বিশ্বাস।
শুক্রবার ভোর পৌনে চারটার দিকে কালীগঞ্জের সাঁকো গ্রামে বিয়ে শেষে বরের বাড়ি শৈলকুপা উপজেলার ফুলহরি ফেরার পথে বারোবাজার রেলক্রসিংয়ে এই ভয়াবহ দুর্ঘটনা ঘটে।
আহতদের চিকিত্সায় সহায়তা কামনা: এদিকে এ ঘটনায় আহতদের মধ্যে ঢাকায় আইসিইউতে চিকিত্সাধীনদের একেক জনের প্রতিদিনের চিকিত্সায় ব্যয় হচ্ছে ৩৫ হাজার টাকা করে। কিন্তু দরিদ্র পরিবারের পক্ষে এ ব্যয় বহন করা সম্ভব হচ্ছে না। তাই সকল স্তরের মানুষের সহায়তা কামনা করেছেন আহতদের স্বজনরা। সহায়তার জন্য যোগাযোগ করুন: বর তাপসের বোন মুক্তি রানী বিশ্বাস (০১৭২৫৬২৬৪০০)।
