সমৃদ্ধ রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠাই ঘাতকদের দুষ্কর্মের উপযুক্ত জবাব

আপডেট : ০৪ আগস্ট ২০১৪, ২২:৫৬
শুরু হয়েছে বাঙালির ইতিহাসের সবচেয়ে মর্মান্তিক ঘটনার মাস আগস্ট। এই মাসেই বাঙালির রাষ্ট্রের স্থপতি মুক্তিযুদ্ধের মাধ্যমে অর্জিত চার রাষ্ট্রনীতির প্রবর্তক, ইতিহাসের সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ বাঙালি বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে নিষ্ঠুরভাবে সপরিবারে হত্যা করেছে বাংলাদেশের স্বাধীনতা বিরোধী চক্র। দেশীয় ও আন্তর্জাতিক চক্রান্তের দোসরদের এই পৈশাচিক হত্যাকাণ্ডের ফলে স্বাধীন সার্বভৌম বাংলাদেশ রাষ্ট্রের যে ক্ষতি হয়েছে তা অপূরণীয়। কিন্তু যে ঘটনা ঘটে গেছে সেই ঘটনায় গভীরভাবে মর্মাহত হয়ে হাত-পা গুটিয়ে বসে থাকার কোন সুযোগ আমাদের নেই। ঘাতকদের দুষ্কর্মের সমুচিত জবাব হবে তাঁর আদর্শকে অনুসরণ করে বাংলাদেশ রাষ্ট্রকে এশিয়ার একটি আধুনিক এবং সমৃদ্ধ রাষ্ট্রে পরিণত করা। এই কাজে আমরা ইতিমধ্যে অনেকটা সফল হয়েছি। চক্রান্তকারীদের উত্তরসূরীরা এই রাষ্ট্রকে একটি ধর্মান্ধ, জঙ্গিবাদী মধ্যযুগীয় রাষ্ট্রে পরিণত করার যে সমস্ত উদ্যোগ গ্রহণ করেছিল তাকে পরাজিত করে বঙ্গবন্ধুর আদর্শের রাষ্ট্রের অনেকটাই এখন ফিরিয়ে আনা সম্ভব হয়েছে। এই রাষ্ট্রকে আরো সুসংহত এবং গণতান্ত্রিক ও মানবিক মূল্যবোধে ধীরে ধীরে রূপান্তরিত করবার সংগ্রামী ধারা আমাদের অব্যাহত রাখতে হবে, তাহলেই আমরা হতে পারবো বঙ্গবন্ধুর আদর্শের প্রকৃত সৈনিক। আমাদের দেশে গণতন্ত্র অব্যাহত রয়েছে, শাসনতন্ত্র বহাল আছে, এখন জনগণের আশা-আকাঙ্ক্ষার সঙ্গে তাকে আরও সংযুক্ত করে নিয়ে সুশাসন প্রতিষ্ঠাই হবে আমাদের লক্ষ্য। দুর্নীতি নির্মূল করে, মাস্তানি, দখলদারি নির্মূল করে ধীরে ধীরে যে কার্যক্রম শুরু করা হয়েছে তাকে আরও গতিশীল করে তুলতে পারলেই মুক্তিযুদ্ধের আদর্শের সরকারের প্রতি মানুষের আস্থা আরও সুদৃঢ় হবে। জনগণ বর্তমান সরকারের সঙ্গেই আছে। এই সরকারের আমলে বাংলাদেশ যে একটি অর্থনৈতিক নতুন শক্তিতে রূপান্তরিত হচ্ছে এবং সামাজিক সূচকে জনগণ যে অগ্রগতি লাভ করছে তাতে মানুষের আস্থা বেড়েছে। এখন এদের দৈনন্দিন দুঃখ-দুর্দশা এবং নিত্যনৈমিত্তিক সমস্যার প্রতি নজর দিলেই সরকারের হাত শক্তিশালী হবে। শোকের এই মাসে এটাই হোক আমাদের প্রার্থনা। [লেখক: ফোকলোর বিশেষজ্ঞ ও বাংলা একাডেমির মহাপরিচালক]