চাকরিতে আবেদনের সময় যারা নিজেদের মুক্তিযোদ্ধা হিসাবে উল্লেখ করেননি তারা চাকরিতে মুক্তিযোদ্ধা কর্মকর্তা-কর্মচারীর বয়স বৃদ্ধির সুযোগ পাবেন না। ইতিমধ্যে যারা নানা প্রক্রিয়ায় শুধুমাত্র সনদের সুবাদে চাকরির বয়স বৃদ্ধির সুযোগ নিয়েছেন-তাদের সনদ বাতিলসহ চাকরির সুবিধাবলি বাতিল হচ্ছে।
গতকাল সোমবার মুক্তিযোদ্ধা বিষয়ক মন্ত্রণালয় থেকে জারি করা আদেশে বলা হয়েছে, অন্যান্য যোগ্যতা থাকার পরেও যারা চাকরিতে প্রবেশের সময় নিজেদের মুক্তিযোদ্ধা হিসাবে উল্লেখ করেননি তাদের সনদ বাতিল ও যারা চাকরিতে বাড়তি অবসর বয়সের সুযোগ নিচ্ছেন তাও বাতিলযোগ্য হবে।
গতকালই বিভিন্ন মন্ত্রণালয়, বিভাগ, আধাসরকারি প্রতিষ্ঠান, বিশ্ববিদ্যালয়, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, দপ্তর সংস্থা, করপোরেশন, স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠান প্রধানের কাছে মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয় থেকে এ সম্পর্কে চিঠি দেয়া হয়েছে। মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের যুগ্ম সচিব মো. গোলাম রহমান মিয়া এ চিঠিতে সই করেছেন।
সূত্র জানায়, এ প্রক্রিয়ায় কমপক্ষে তিন হাজার গণকর্মচারীর সনদ ও চাকরির বয়সসহ অন্যান্য বাড়তি সুবিধা বাতিল হতে পারে। সর্বোচ্চ পর্যায়ের সচিবসহ শিক্ষক, প্রকৌশলী ও নানা পদের গণকর্মচারী রয়েছেন এ তালিকায়।
প্রসঙ্গত, ২০০৯ সালে আওয়ামী লীগ ১৯৭৪ সালের গণকর্মচারী আইন সংশোধন করে দুই দফায় মুক্তিযোদ্ধা গণকর্মচারীর অবসরের বয়স দুই বছর বৃদ্ধি করে। এ সময় গণকর্মচারীদের মধ্যে মুক্তিযোদ্ধার সনদ জোগাড়ের হিড়িক পড়ে যায়। চাকরিকালে ঘোষণা না দিলেও এ সময়ে এসে অনেকে রাতারাতি মুক্তিযোদ্ধা বনে যান। বাগিয়ে নেন মুক্তিযোদ্ধার সনদ। আর সুযোগ নেন বাড়তি দুই বছরের চাকরির সুবিধা যাতে আর্থিকভাবেও লাভবান হন অনেকে।
মুক্তিযোদ্ধার সনদ জোগাড়ের হিড়িক এমন পর্যায়ে পৌঁছে যে, জাতীয় একটি গোয়েন্দা সংস্থা তদন্ত করে জানতে পারে যে, অসংখ্য অমুক্তিযোদ্ধা গণকর্মচারী ভুল ও অসত্য তথ্য দিয়ে মুক্তিযোদ্ধার গেজেট ভুক্ত হচ্ছেন এবং বয়স বৃদ্ধির সুযোগ নিচ্ছেন । ২০১১ সালের ২২ জুন গোয়েন্দা সংস্থার প্রতিবেদনের ভিত্তিতে বিষয় সম্পর্কে সতর্কতা অবলম্বনের জন্য প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় থেকে মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয়কে নির্দেশনা দেয়া হয়। যদিও তা উপেক্ষিত হয়েছে অনেক ক্ষেত্রে।
মুক্তিযোদ্ধার সংজ্ঞা ঠিক হবে: জামুকার প্রথম বৈঠক আগামীকাল ৬ আগষ্ট। এদিন ঠিক হবে মুক্তিযোদ্ধার সংজ্ঞা। স্বাধীনতার পর এ বিষয়টি পরিষ্কার না করায় মুক্তিযোদ্ধার সনদ নিয়ে বিতর্কের অবসান হচ্ছে না। যারা মুক্তিযুদ্ধে অংশ নিয়েছেন, লালমুক্তিবার্তায় যাদের নাম আছে, যারা ভারতে প্রশিক্ষণ নিয়েছেন, শিল্পী, সাহিত্যিকসহ বিভিন্ন পেশাজীবী যারা নানাভাবে মুক্তিযুদ্ধে সহযোগিতা করেছেন, যারা বঙ্গবন্ধু কর্তৃক ভাতা পেতেন, যারা অস্ত্র সমর্পণ করেছেন এসব বিষয় বিবেচনায় নিয়ে মুক্তিযোদ্ধার সংজ্ঞা ঠিক করা হবে বলে জানা গেছে।
