গাজায় ইসরাইলের সহিংসতা ও নৃশংসতার ঘটনায় ফিলিস্তিনিদের দাবির প্রতি বাংলাদেশের জনগণ ও সরকারের সংহতির কথা পুনর্ব্যক্ত করে প্রধানমন্ত্রীর আন্তর্জাতিক বিষয়ক উপদেষ্টা গওহর রিজভী বলেছেন, ইসরাইলের ওপর বিভিন্ন ধরনের অবরোধ আরোপ করে জোট নিরপেক্ষ আন্দোলনের (ন্যাম) সদস্য দেশগুলোর শক্ত বার্তা দেয়া উচিত। গতকাল সোমবার ইরানের রাজধানী তেহরানে ফিলিস্তিন ইস্যুতে ন্যাম কমিটির এক জরুরি সভায় এ সংহতির কথা জানিয়েছেন তিনি। বাংলাদেশ ১১-সদস্য কমিটির এই কমিটির অন্যতম সদস্য। গতকাল সোমবার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে এ কথা জানানো হয়।
গওহর রিজভী বলেন, ইসরাইল যে পথ অবলম্বন করছে সেটা হলো বলপূর্বক ক্ষমতার প্রয়োগ। ইসরাইলের সভ্য আচরণের জন্য একইভাবে ন্যামের সদস্য রাষ্ট্রগুলোকে অস্বীকৃতির ক্ষমতা প্রয়োগ করতে হবে। তিনি বলেন, সমালোচনা ও আনুষ্ঠানিক বক্তব্য-বিবৃতি ও প্রস্তাব গ্রহণের’ গতানুগতিক ধারার বাইরে বেরোনোর সময় হয়েছে। ইসরাইলি আগ্রাসনের বিরুদ্ধে ন্যামের ‘দ্ব্যর্থহীন’ অবস্থান প্রত্যাশা করেন তিনি। ন্যামের উচিত তার সমন্বিত শক্তিকে কাজে লাগানো। তাদের উচিত, ইসরাইলের উপর বাণিজ্য নিষেধাজ্ঞা, মানবতাবিরোধী অপরাধের জড়িত রাজনীতিক, কর্মকর্তা ও ব্যবসায়ীদের ভিসা না দিয়ে এবং ইসরাইলি উড়োজাহাজ ন্যাম দেশগুলোর আকাশসীমা ব্যবহার করতে না দিয়ে শক্ত বার্তা দেয়া।
ইরানের প্রেসিডেন্ট হাসান রুহানি এই জরুরি বৈঠকের উদ্বোধন করেন। গাজার সর্বশেষ পরিস্থিতি তুলে ধরেন ফিলিস্তিনের পররাষ্ট্র মন্ত্রী রিয়াদ আল-মালিকি। ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রী জাভেদ জারিফের সভাপতিত্বে বৈঠকে মিসর, দক্ষিণ আফ্রিকা, আলজেরিয়া, তিউনিশিয়া, লেবানন, সিরিয়া ও ভেনিজুয়েলার মন্ত্রী এবং ইন্দোনেশিয়া, মালয়েশিয়া, পাকিস্তান, মরক্কো, জর্ডানের বিশেষ প্রতিনিধিরা বক্তব্য দেন। ন্যামের অন্যান্য সদস্য দেশের প্রতিনিধিও বৈঠকে ছিলেন। ইরানে বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত খন্দকার আব্দুস সাত্তারও বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন।
