২২ মে যারা ট্রেনের আগাম টিকিট কিনেছিলেন আজ শুক্রবার তারা ঢাকা ছাড়বেন। তবে শুরুর আগেই গতকাল নীলফামারী গামী নীলসাগর এক্সপ্রেস ২ ঘণ্টা দেরিতে কমলাপুর স্টেশন ত্যাগ করেছে। অপর দিকে শুরু হয়েছে বাস ও লঞ্চযাত্রা। গতকাল বৃহস্পতিবার সকাল থেকেই বাস টার্মিনাল, রেল স্টেশন ও লঞ্চ ঘাটে ছিল ঈদে বাড়ি ফেরা মানুষের ঢল। ট্রেনের শিডিউলে কিছুটা বিপর্যয় হলেও বাস বা লঞ্চের ক্ষেত্রে এখনো তেমনটা দেখা যায়নি। নীলসাগর এক্সপ্রেস গতকাল সকাল ৮টায় কমলাপুর থেকে ছেড়ে যাবার কথা ছিল। কিন্তু ছেড়ে যায় সকাল ১০টার দিকে।
কমলাপুর রেলওয়ে স্টেশন ম্যানেজার আমিনুল হক জানান, ঈদের ৩৭টি আন্তঃনগর ট্রেনের আগাম টিকিট বিক্রি করা হয়েছিল। এর মধ্যে উত্তর ও পশ্চিম অঞ্চলের ১৬টি ট্রেনের ছিল ১৪ হাজার ৯৫টি টিকিট। ঢাকা-চট্টগ্রাম রুটে ৬টি ট্রেনের আগাম টিকিট দেওয়া হয়েছে।
বিআইডব্লিউটিএ জানায়, এ বছর ঈদ করতে সদরঘাট হয়ে নৌপথে ঘরে ফিরবেন প্রায় অর্ধকোটি মানুষ। ৪৩টি রুটে প্রতিদিন লঞ্চ চলবে ২১৫টি। ঈদে এবার ঝড়-বাদল থাকতে পারে। সে আশঙ্কায় তিন নম্বর বিপদ সংকেত দিলেই নৌযান চলাচল বন্ধ করে দেওয়া হবে।
ঢাকা নদী বন্দরের তথ্য অনুযায়ী এ ঈদে ঢাকা বরিশাল রুটে লঞ্চ চলবে ২৩টি, ঢাকা-চাঁদপুর রুটে ২৫টি, ঢাকা-পটুয়াখালী রুটে ১৩টি, ঢাকা-হুলারহাট ভাণ্ডারিয়া রুটে চলবে ১০টি, ঢাকা-ভোলা রুটে ৮টি। সদরঘাট টার্মিনাল থেকে দিনে গড়ে দূরপাল্লার নৌযান চলাচল করে ৯০টি। ঢাকা থেকে ১৫০টি রুট ধরে এক লাখ ৭০ হাজার যাত্রী সদরঘাট হয়ে চলাচল করে স্বাভাবিক সময়ে। ঈদযাত্রায় নৌপথে যাত্রীর চাপ পড়ে দ্বিগুণের বেশি। তবে এ সময় ঢাকার বিভিন্ন প্রান্ত থেকে সদরঘাট পৌঁছতে গিয়ে বেশ দুর্ভোগে পড়তে হয় যাত্রীদের। বিভিন্ন এলাকা থেকে সদরঘাট পর্যন্ত বাস কম থাকায় গুলিস্তান থেকে হেঁটে সদরঘাটে ছুটতে হয় অনেককে। সড়কপথেও এবার টিকিটের হাহাকার দেখা গেছে। সড়কপথে সবচেয়ে বেশি যাত্রী চাপ পড়বে ১ থেকে ৩ জুন। এর মধ্যে ৩ জুনের কোনো এসি বা নন এসি বাসের সিট পাওয়া যাচ্ছে না। গাবতলী ও মহাখালি টার্মিনাল সূত্র জানায়, চাঁদরাত পর্যন্ত এখান থেকে বাস চলবে। তবে, ঈদের দিন বেশিরভাগ দূরপাল্লার রুটে বাস চলাচল বন্ধ থাকবে। তবে, রাত থেকেই আবার কিছু কিছু রুটে বাস চলাচল শুরু হবে।
