পড়াশোনা করার সর্বোত্তম সময় কখন তা একটি বিতর্কিত বিষয়। রাত জেগে পড়ে কেউ উপকৃত হচ্ছে, কেউ ফলপ্রসূ নয় বলছে। early riser or a late sleeper-এর কোনোটি এককভাবে সুনির্দিষ্ট বিধান নয়। কিছু শিক্ষার্থী বলছে ভোরবেলা উত্তম সময় আবার অনেকেই বলছে শেষরাত। যখন যে সময় পড়ে নিজেকে স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করে সেটাই তার জন্য অধ্যয়ন করার উপযুক্ত সময় এবং বিজ্ঞান এর সঙ্গে একমত। যেহেতু বেশিরভাগ স্কুল সকালে শুরু হয় তাই গভীর রাত পর্যন্ত পড়াশোনার হলেও সকালে ঝিমুনি। ঘুমের পরিমাণ শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের কর্মদক্ষতাকে প্রভাবিত করবে। যদি কারো সকালে বিছানা ত্যাগ করতে কষ্টকর হয় তবে তার জন্য রাতে পড়াশোনা করাই উত্তম। ঘুমের ছন্দ সবার এক নয়। কেউ ভোরের মানুষ, কেউ বা নিশাচর, এটি পরিবর্তনযোগ্য নয়। বৈকালিক মানুষের মোটর কটেক্স-এর মেরু রুজ্জু বিকালে সজীব হয় এবং তা সাধারণত রাত ৯টায় এবং তাদের কেন্দ্রীয় স্নায়ুতন্ত্রও এ সময়ে ভালো কাজ করে।
রাতের পড়াশোনা করা যেমন উপদেশযোগ্য নয়। তেমনি এড়িয়ে চলার বিষয় নয় কিন্তু কীভাবে রাতের পাঠ থেকে উপকৃত হচ্ছে তা গুরুত্বপূর্ণ।
‘Early to bed and early to rise makes a man healthy wealthy and wise’ এই উক্তি সর্বাংশে যথার্থ নয়। কারো দিনে পড়ার সময় নেই, কারো বা দিনে পড়ার পরিবেশ নেই। তার জন্য রাতে পড়াই উপযুক্ত সময়।
তবে সারারাত জেগে পড়াশোনা পরীক্ষায় খারাপ ফলে বয়ে আনবে নিঃসন্দেহে। গভীর রাতে পড়া অবশ্যই অফলপ্রসূ। কারণ গভীর রাতে মনোযোগ হ্রাস পায়। ঘুমের অভাব দৈনন্দিন জীবনের উপর, শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের কর্মদক্ষতায় প্রভাব ফেলবে, শরীরকে দুর্বল করবে, পরীক্ষায় তা প্রতিফলিত হবে, স্মৃতিশক্তিকে বিকল বা বিশাল ক্ষতি করবে এবং এই পরিশ্রমের কোনো মূল্য থাকবে না। তাই বলে এর ব্যতিক্রম নেই এমন নয়। যার কেবল রাতেই পড়ার সময় আছে, পড়া মনে থাকবে এ আত্মবিশ্বাস আছে তার জন্য রাতই পড়াশোনার উত্তম সময়। তবে সচেতন হতে হবে পড়া যেন Cramming না হয়ে যায় অর্থাত্ না বুঝে মুখস্থ।
মনের জোর যদি থাকে, আত্মবিশ্বাস যদি দৃঢ় থাকে তবে রাতের শেষ পর্যন্ত পড়তে কোনো দোষ নেই বরং ফল ভালো হবে। রাত জাগার জন্য Caffeine is not answer. বরং সহায় শক্তি হলো ইতিবাচক মনোভাব রাতের পড়ুয়াদের পক্ষে মনোবিজ্ঞানের দুটো বিধান হলো: Brains learn better of night মানুষের মস্তিষ্ক বিকাশে খুব কার্যকরভাবে শিখতে পারে। রাতের সুনসান নীরবতা, সুদীর্ঘকালের অভ্যাস মানুষের ক্রোমোজোম স্তরে বৈশিষ্ট্য অর্জনে ভিত রচিত হয়েছে, অবশ্য কারো কারো জন্য।
