ঈদে ছুটি কাটিয়ে কর্মস্থলে যাবার পথে ময়মনসিংহের নান্দাইল পৌর শহরের দুটি বাসস্ট্যান্ডে গিয়ে যাত্রীরা চরম দুর্ভোগে পড়েছেন বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। যাত্রীরা জানান, নির্ধারিত মূল্যের চেয়ে বেশি ভাড়া দিয়ে টিকিট কিনেও ঘন্টার পর ঘন্টা অপেক্ষা করেও বাসে চড়তে পারছেন না। দীর্ঘ সময় পর বাস এলে যাত্রীরা তাতে উঠার জন্যে হুমড়ি খেয়ে পড়ছেন।
গতকাল মঙ্গলবার জলসিঁড়ি ও বন্যা পরিবহনের দুটি বাসস্ট্যান্ডে গিয়ে এ চিত্র দেখা গেছে। উপজেলা উলুহাটি গ্রামের তারিকুল ইসলাম, জাহানারা খাতুন বলেন, দুপুর ১২টায় বাসস্ট্যান্ডে এসে বন্যা পরিবহনের কাউন্টার থেকে রাজধানীর মহাখালী যাবার জন্যে ১৮০ টাকা মূল্যের টিকিট ২৪০ টাকায় কিনেছেন। প্রচণ্ড রোদ ও বৃষ্টিতে ভিজে লাইনে তিন ঘন্টা ধরে দাঁড়িয়ে আছেন। কিন্তু বাসের দেখা মিলছে না। বন্যা পরিবহন কাউন্টারে গেলে রোকন মিয়া নামে একজন নিজেকে মালিকপক্ষের লোক পরিচয় দিয়ে বলেন, যাত্রীর চাপ বেশি থাকায় শুধু ঢাকার টিকিট বিক্রি করা হচ্ছে। বাড়তি ভাড়া আদায়ের যাত্রীদের অভিযোগ তিনি স্বীকার করে বলেন, ঈদ উপলক্ষে সেটা করা হচ্ছে।
অপরদিকে জলসিঁড়ি পরিবহন কাউন্টার থেকেও বাড়তি ভাড়া আদায়ের অভিযোগ রয়েছে। উপজেলার মেরাকোনা গ্রামের লাল মিয়া নামে এক যাত্রী জানান, বাড়তি ভাড়াও দিচ্ছি আবার সীমাহীন দুর্ভোগও পোহাচ্ছি। এ যেন মগের মুল্লুক চলছে। দেখার কেউ নেই। কাউন্টারের টিকিট মাষ্টার মাসুদ মিয়া দাবি করেন তাদের ১৯টি বাস চলাচল করে। রাস্তায় জ্যাম থাকার কারণে বাস স্টেশনে আসতে দেরি হয়ে থাকে। বাড়তি ভাড়া আদায়ের বিষয়ে তিনি বলেন, ঈদের জন্যে কয়টা টাকা বেশি নিচ্ছি আর কি। অন্যদিকে ময়মনসিংহ-কিশোরগঞ্জগামী বাসগুলো থেকে যাত্রীদের কাছ থেকে বাড়তি ভাড়া আদায় করার অভিযোগ পাওয়া গেছে। ময়মনসিংহ থেকে কিশোরগঞ্জের ভাড়া স্বাভাবিক সময়ে ৯০ টাকা। কিন্তু এখন আদায় করা হচ্ছে দ্বিগুণের বেশি।
