কাপ্তাই চট্টগ্রাম মহাসড়কের উপর কমপক্ষে ১৮টি স্থানে নিয়মিত বাজার বসানো হচ্ছে। এসব হাটের উপর যান চলাচলে মারাত্মক অসুবিধা হচ্ছে। যাতায়াতের অনেক সময় ব্যয় হচ্ছে এসব হাট-বাজার অতিক্রম করতে। রাস্তার ওপর হাট-বাজারে দুর্ঘটনা ঘটছে। যাত্রীদের অতিরিক্ত সময় ব্যয় ও জ্বালানি খরচ বাড়ছে।
লিচুবাগান থেকে শুরু করে মরিয়ম নগর, রওয়াজারহাট, ইছাখালী, শান্তিরহাট, গোডাউন, নোয়াপাড়া, পথেরহাটসহ বিভিন্ন এলাকায় রাস্তার দুইপাশে বসে ঐসব হাট-বাজার। এসব হাট-বাজারে মৌসুমী ফলমূল, যাবতীয় শাক-সবজি বেচাকেনার জন্য মজুদ করা হয়। আর মালামাল বেচাকেনার জন্য রাস্তার দুই পাশে সিএনজি, রিকশা ভ্যান, ট্রাক, জিপ ইত্যাদি দাঁড়িয়ে থাকে। এদিকে হাট-বাজারকে কেন্দ্র করে বিভিন্ন স্থানে অনেকটা রাস্তার উপরই অস্থায়ী চা দোকান তৈরি করা হয়। রাস্তার উপর হাট-বাজার বসায় এবং রাস্তার দুই ধারে যানবাহন দাঁড়িয়ে থাকায় ও অস্থায়ী দোকানপাটের কারণে যান চলাচলে মারাত্মক বিঘ্ন সৃষ্টি হচ্ছে।
মো. জসিম উদ্দিন নামে এক বাস চালক জানান, পুরো সড়কে দুর্ভোগ থাকলেও গাড়ি চালাতে শান্তির হাটেই যত অশান্তি হচ্ছে। প্রতিদিন শান্তির হাটে সকালে হাট বসে। আর ঘণ্টার পর ঘণ্টা যানজটে গাড়ি নিয়ে বসে থাকতে হয়।
একাধিক যাত্রী জানান, আমরা সোয়া এক ঘণ্টার মধ্যে লিচুবাগান থেকে চট্টগ্রাম যেতে পারবো বলে সেই হিসেবে সময় নিয়ে গাড়িতে উঠি। কিন্তু বিভিন্ন জায়গায় যানজটে পড়ে কখনো কখনো দুই ঘণ্টায়ও গন্তব্যে পৌঁছানো যায় না। এমনিতেই রাস্তায় গাড়ি বেশি চলাচল করছে। তার উপর অবৈধ হাট-বাজার ও দোকানপাট বসে যান চলাচলে মারাত্মক সমস্যার সৃষ্টি হচ্ছে।
স্কুল শিক্ষক আব্দুল সোবহান জানান, কাপ্তাই চট্টগ্রাম সড়কের বিভিন্ন স্থানে রাস্তার দুইপাশে ময়লা ও কাদা জমে আছে। অনেক স্থানে রাস্তা ভেঙ্গে আছে। ভাঙ্গা অংশে ময়লা ও কাদার কারণে গাড়ি রাস্তার পাশে যেতে পারে না। অবৈধ স্থাপনা ও হাট-বাজার বসায় স্বাভাবিক চলাচল বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। তিনি আরো বলেন, কাপ্তাই চট্টগ্রাম সড়কে কোন আইন-শৃঙ্খলা নেই। কেউ কোন আইন মানে না।
স্থানীয় কলেজ শিক্ষক বোরহান উদ্দীন বলেন, এক থেকে দেড়শো লোক শান্তিরহাটে ব্যবসা করছে। আর কষ্ট পাচ্ছে হাজার হাজার লোক। প্রশাসনের নির্বিকারের সুযোগেই কাপ্তাই চট্টগ্রাম সড়ক চলাচলের অযোগ্য হয়ে উঠছে। এ বিষয়ে তিনি প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেয়ার জন্য যথাযথ কর্তৃপক্ষকে অনুরোধ জানান।
