ভারতে বাংলাদেশের নির্বাসিতা লেখিকা তসলিমা নাসরিন বলেছেন, আগামী দুই মাসের মধ্যেই ভারতে বসবাসের জন্য নতুন ভিসা পাবেন তিনি। ভারতের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী রাজনাথ সিং তাকে এ বিষয়ে আশ্বস্ত করেছেন। তাকে দুই মাসের ভিসা দেওয়াটা ভুল ছিল বলেও তাকে জানিয়েছেন রাজনাথ। ইত্তেফাকের সঙ্গে এক সাক্ষাত্কারে তসলিমা নাসরিন এ তথ্য জানান।
তসলিমা বলেন, আগামী ৭ আগষ্ট তিনি তিনি ব্রিটেন এবং সুইডেনের উদ্দেশ্যে দিল্লি ত্যাগ করবেন। তিনি জানান, গত সপ্তাহে ভারত সরকার তাকে দুই মাসের ট্যুরিস্ট ভিসা দিলে তিনি উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েন। গত দশ বছর ধরে তিনি প্রতি এক বছরে ভিসা নবায়ন করে আসছেন। অথচ এবারই ভিসা দেওয়ার ক্ষেত্রে ব্যতিক্রম ঘটনা ঘটলো। তসলিমা বলেন, তিনি এটা আশা করেননি। এই লেখিকা জানান, ভিসা পাওয়ার পর তিনি বিষয়টি সম্পর্কে বিস্তারিত জানতে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে সাক্ষাত্ করেন। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী রাজনাথ সিংকে তসলিমা জানিয়েছেন, তিনি সুইডেন থেকে দশ হাজার কপি বই আনছেন। বসবাসের ভিসা না পেলে তিনি এইসব বই দুই মাস পর কোথায় রাখবেন সেই বিষয়টিও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীকে অবগত করেছেন। এই বইগুলো ক্রয়ে খরচও পড়বে অনেক। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী তাকে জানিয়েছেন, ভিসা প্রক্রিয়ার ক্ষেত্রে ভুল ছিল এবং দুই মাসের মধ্যে সব ঠিক হয়ে যাবে। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর আশ্বাসে আশ্বস্ত তসলিমা বলেন, এক শ্রেণীর লোকের বাধার কারণে আমি আমার জন্মভূমি বাংলাদেশে যেতে পারি না। আমি ভারতকে ভালাবাসি এবং এখানেই বাস করতে চাই। ভারতের জনগণও আমাকে যথেষ্ট সম্মান দিয়েছে। আমাকে দুই মাসের ভিসা দেওয়ার পর সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ব্যাপক সমালোচনা হয়েছে। আর এই সমালোচনা সরকারের ওপরও চাপ সৃষ্টি করেছে। তিনি জানান, ভারতের প্রেস কাউন্সিলের চেয়ারম্যান এবং সাবেক বিচারপতি মারকান্দে কাটজু ৫২ বছর বয়সী তসলিমা নাসরিনকে ভারতে স্থায়ীভাবে বসবাসের অনুমতি দেওয়ার দাবি জানিয়েছেন।
কেন তাকে দুই মাসের ভিসা দেওয়া হলো এমন এক প্রশ্নের জবাবে তসলিমা বলেন, বিষয়টি আমার জানা নেই। এ তথ্য জানার পর আমি শঙ্কিত হয়ে পড়েছিলাম বিশেষ করে আমার বইগুলোর ভবিষ্যত নিয়ে। কারণ ইতিমধ্যে বইগুলো ভারতে নিয়ে আসার জন্য সব প্রস্তুুত সম্পন্ন হয়েছে। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে সাক্ষাতের পর তিনি অনেকটা নিশ্চিন্ত হয়েছেন বলে জানান। তিনি জানান, তিনি অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ে যাবেন এবং সেখান থেকে সুইডেনের উদ্দেশ্যে যাত্রা করবেন। ২৪ আগষ্ট তিনি ভারতে ফিরবেন। তসলিমা জানান, তিনি সারাজীবন নারীদের অধিকার রক্ষা এবং স্বাধীন মত প্রকাশের জন্য লড়াই করেছেন।
