অস্তিত্ব সংকটে চিটাগাং ইউরিয়া ফার্টিলাইজার

আপডেট : ০৫ আগস্ট ২০১৪, ২২:৩০
টানা দীর্ঘ সময় উত্পাদন বন্ধ ও কারখানার নিয়মিত ওভারহোলিংয়ের কাজ না হওয়ায় অস্তিত্ব সংকটে পড়েছে চিটাগাং ইউরিয়া ফার্টিলাইজার লিমিটেড (সিইউএফএল)। গ্যাসনির্ভর দেশের বৃহত্তম সার কারখানাটি গ্যাস সংকটে বছরে তিন মাসের বেশি চালু রাখা যাচ্ছে না। গত ৮/৯ বছরে কারখানার যন্ত্রপাতির বড় ধরনের কোন মেরামত কাজও হয়নি। জরাজীর্ণ হয়ে পড়েছে বহু মূল্যবান যন্ত্রপাতি। এতে উত্পাদন ক্ষমতা অর্ধেকে নেমে এসেছে। কর্মকর্তারা জানান, দীর্ঘ দিন বন্ধ থাকায় কারখানার মূল্যবান বয়লার, কুলিং টাওয়ার, রিয়েক্টর, মটর ও পাম্পের কার্যক্ষমতা অর্ধেকে নেমে এসেছে। চালু করতে গেলে ঘনঘন যান্ত্রিক ত্রুটি দেখা দিচ্ছে। কারখানার গ্যাস সংকট নিরসনে অনিশ্চয়তার কারণে কারখানার ভবিষ্যত্ নিয়ে হতাশার কথা জানান কর্মকর্তা ও শ্রমিক-কর্মচারীরা। কর্মকর্তা ও কর্মচারীরা জানান, গত ৭/৮ বছর যাবত্ ভয়াবহ গ্যাস সংকটের কবলে পড়েছে সিইউএফএল। কারখানা চালু রাখতে দৈনিক প্রায় ৫০ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাসের প্রয়োজন হয়। চট্টগ্রামে চলমান গ্যাস সংকটের কারণে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে সিইউএফএল। দীর্ঘদিন বন্ধ থাকার পর পুনরায় চালু করতে গেলে ঘনঘন যান্ত্রিক ত্রুটি দেখা দিচ্ছে। এসব মেশিনারী রক্ষণাবেক্ষণে মাসে কয়েক কোটি টাকা খরচ হচ্ছে। সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানান, নিয়ম মোতাবেক ১৮ মাস পরপর মেশিনের মেরামত বা কাজ করতে হয়। মেশিনে কোন সমস্যার সৃষ্টি হচ্ছে কিনা তা দেখতে হয়। কিন্তু ২০০৫ সালের পর বড় ধরনের কোন মেরামত কাজ হয়নি। ফলে যান্ত্রিক ত্রুটিতে উত্পাদন ক্ষমতা কমে যাচ্ছে। অনেক সময় গ্যাস পেলেও যান্ত্রিক ত্রুটির কারণে উত্পাদন বন্ধ থাকে। সিইউএফএল’র এক শীর্ষ কর্মকর্তা জানান, গ্যাস সংকটে চলতি বছরের ১৬ মার্চ থেকে উত্পাদন বন্ধ রয়েছে। সিইউএফএলে গ্যাস সরবরাহের জন্য জ্বালানি মন্ত্রণালয় থেকে পেট্রোবাংলাকে জানানো হয়েছে বলে ঐ কর্মকর্তা জানান। তবে চট্টগ্রামে গ্যাসের বিপণনকারী সংস্থা কর্ণফুলী গ্যাস কোম্পানীর জিএম (অপারেশন) প্রকৌশলী শহীদ আলী ইত্তেফাককে বলেন, ‘গ্যাস সংকটে সিইউএফএল ও কাফকো সার কারখানা দু’টি বন্ধ রয়েছে। গ্যাস সরবরাহের জন্য পেট্রোবাংলা থেকে এখনো পর্যন্ত কোন লিখিত আদেশ পাওয়া যায়নি।’ কর্মকর্তারা জানান, সিইউএফএলে কর্মকর্তা-কর্মচারী ও শ্রমিক মিলিয়ে প্রায় এক হাজার জনবল রয়েছে। এসব জনবলের বেতন ভাতা ও মেরামত বাবদ মাসে প্রায় ১৭/১৮ কোটি টাকা খরচ হয়। কারখানায় সরকারি কোষাগার থেকে কোন অর্থ প্রদান করা হয় না। সার উত্পাদন করে বিক্রিত অর্থ দিয়ে কারখানার সমস্ত ব্যয় মিটাতে হয়। ফলে কারখানা বন্ধ থাকলে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হতে হচ্ছে। গ্যাসের মাধ্যমে সার উত্পাদনে খরচ অনেক কম। সিইউএফএল’র দৈনিক উত্পাদন ক্ষমতা ১ হাজার ৭ মেট্রিক টন। তবে যন্ত্রপাতি জরাজীর্ণ হয়ে পড়ায় উত্পাদন ক্ষমতা অনেক কমে গেছে। সিইউএফএলে প্রতি মেট্রিক টন ইউরিয়া সার উত্পাদনে খরচ পড়ে ৮ হাজার টাকা। আর বিদেশ থেকে আমদানি করা ইউরিয়া সারের আমদানি খরচ পড়ে প্রতি মেট্রিক টনে ৪০ থেকে ৫০ হাজার টাকা। গ্যাসনির্ভর সার কারখানা বন্ধ থাকায় দেশীয় চাহিদা মেটাতে বছরে বিপুল পরিমাণ সার আমদানি করতে হচ্ছে। এতে আর্থিকভাবে লাভবান হচ্ছে গুটিকয়েক ব্যক্তি। সূত্র জানায়, উত্পাদন বন্ধ থাকায় এফডিআরের টাকা ভেঙ্গে সিইউএফএল’র কর্মকর্তা ও শ্রমিক কর্মচারীদের বেতন ভাতা ও মেরামত খরচ মেটাতে হচ্ছে। উত্পাদন বন্ধ থাকায় কারখানার যাবতীয় খরচ মেটানো কষ্টসাধ্য হয়ে পড়েছে। এভাবে উত্পাদন বন্ধ থাকলে কয়েক মাস পর বেতন ভাতা নিয়ে সমস্যায় পড়তে হবে বলে শীর্ষ এক কর্মকর্তা জানান।