গত তিন দিন ধরে আবারো উত্তাল হয়ে উঠেছে বঙ্গোপসাগর। কয়েক হাজার মাছ ধরা ট্রলার সাগর ছেড়ে সুন্দরবনের বিভিন্ন নদী-খালে আশ্রয় নিয়েছ। কূলে ফেরার সময় ৩টি ট্রলার ডুবির ঘটনা ঘটেছে। প্রতিকূল আবহাওয়ায় জাল ফেলতে না পেরে চরম লোকসানের মুখে পড়েছেন জেলে-মহাজনরা।
বনবিভাগ ও জেলে সূত্রে জানা গেছে, গতকাল মঙ্গলবার ভোরে কূলে ফেরার সময় ঢেউয়ের আঘাতে বাগেরহাটের ২টি এবং পাথরঘাটার ১টি ট্রলার ডুবে গেছে। ডুবে যাওয়া ট্রলারের জেলেদের অন্য ট্রলারের জেলেরা উদ্ধার করতে সক্ষম হয়েছেন। তবে ট্রলার ৩টির নাম ও মালিকদের নাম জানা যায়নি। বর্তমানে সুন্দরবনের শরণখোলা রেঞ্জের সুপতি, কচিখালী, কটকা, দুবলা, নারকেলবাড়িয়া, শ্যালাসহ বিভিন্ন নদী ও খালে দুই থেকে তিন হাজার ফিশিং ট্রলার সাগর ছেড়ে নিরাপদে আশ্রয় নিয়েছে। এছাড়া পাথরঘাটা, মহিপুর, চরদুয়ানীসহ উপকূলীয় বিভিন্ন এলাকায় আরো কয়েক হাজার ট্রলার আশ্রয় নিয়েছে।
জাতীয় মত্স্য সমিতির শরণখোলা উপজেলা শাখার সভাপতি আবুল হোসেন জানান, মৌসুমের শুরুতেই কয়েক দফা বৈরী আবহাওয়ার সম্মুখীন হতে হয়েছে। তাছাড়া ভরা মৌসুমেও সাগরে ইলিশের দেখা মিলছে না। তার ওপর বন ও জলদস্যুদের তাণ্ডব। এসব কারণে হতাশ হয়ে পড়েছে উপকূলীয় জেলে-মহাজনরা। ৮-১০টি ছোট-বড় দস্যুবাহিনী ট্রলার টার্গেট করে বসে আছে। তাদের চাঁদা না দিয়ে সাগরে জাল ফেলার কোনো উপায় নেই। একেক ট্রিপে দেড়-দুই লাখ টাকা খরচ করে সাগরে গিয়ে ইলিশ না পেয়ে শূন্য হাতে ফিরতে হচ্ছে জেলেদের। অনেকে পুঁজি হারিয়ে চরম লোকসানের মুখে পড়ে দিশেহারা হয়ে পড়েছেন।
পূর্ব বনবিভাগের শরণখোলার রেঞ্জের সহকারী বন সংরক্ষক (এসিফ) মো. কামাল আহমেদ জানান, সুন্দরবনের বিভিন্ন নদী-খালে কয়েক হাজার ট্রলার আশ্রয় নিয়েছে। এসব ট্রলার ও জেলেদের নিরাপত্তার জন্য বনবিভাগ ও কোস্টগার্ড সদস্যরা কাজ করছে।
