গাজা ইস্যুতে ব্রিটিশ সরকারের নীতির প্রতিবাদে পদত্যাগ করেছেন মন্ত্রী ব্যারনেস সাঈদা ওয়ার্সি। তিনি ব্রিটেনের পররাষ্ট্র বিভাগের একজন মন্ত্রী হিসাবে দায়িত্ব পালন করছিলেন। গতকাল মঙ্গলবার সকালে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম টুইটারে এই পদত্যাগের সিদ্ধান্তের কথা জানিয়ে ওয়ার্সি বলেন, সরকার গাজা প্রশ্নে যে নীতি অবলম্বন করেছে আমি আর তা সমর্থন করতে পারছি না।
টুইটারে তিনি লেখেন, তার এ পদত্যাগের সিদ্ধান্ত গভীর অনুতাপের। গাজায় ইসরাইলি বর্বরতা থামাতে নিরব ভূমিকা পালনের প্রতিবাদে এই প্রথম কোনো ব্রিটিশ মন্ত্রী পদত্যাগ করলেন। পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের পাশাপাশি ব্যারোনেস ওয়ার্সি ছিলেন বর্তমান সরকারের ধর্ম ও কম্যুনিটি বিষয়ক মন্ত্রী এবং ব্রিটিশ সংসদের প্রথম মুসলমান মহিলা সদস্য। পাকিস্তানি বংশোদ্ভূত এই নারী এক সময় বর্তমান ক্ষমতাসীন দল কনজারভেটিভ পার্টির চেয়ারম্যান হিসাবে দায়িত্ব পালন করেন। ২০১০ সালে কনজারভেটিভ দল ক্ষমতায় আসার পর ওয়ার্সি প্রথম মুসলিম নারী হিসাবে ব্রিটিশ মন্ত্রী হন।
টুইটার বার্তায় তিনি লেখেন, অত্যন্ত দুঃখের সাথে আজ (মঙ্গলবার) সকালে আমি প্রধানমন্ত্রী বরাবর আমার পদত্যাগপত্র লিখে পাঠিয়েছি। আমি গাজা প্রশ্নে সরকারি নীতিকে আর সমর্থন করতে পারছি না। প্রধানমন্ত্রীর কাছে পাঠানো পদত্যাগপত্রে বলা হয়, এটা (সরকারের নীতি) নৈতিকভাবে সমর্থন করা যায় না। এটি ব্রিটেনের জাতীয় স্বার্থেরও ব্যাপার নয় এবং এমন নীতি দেশে-বিদেশে দীর্ঘ মেয়াদে আমাদের সুনাম ক্ষুণ্ন করবে। চিঠিতে আরো বলা হয়, পদত্যাগের সিদ্ধান্ত নেয়া মোটেও সহজ হয়নি, কিন্তু সম্প্রতি পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে যেভাবে সিদ্ধান্তগুলো নেয়া হয়েছে তা ছিল আরো বেশি অস্বস্তির।
গত ৮ জুলাই শুরু হওয়া গাজায় ইসরাইলি হামলায় এ পর্যন্ত প্রায় ১ হাজার ৯শ’ ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছে। আহত হয়েছে ৯ হাজারের বেশি মানুষ। শরণার্থী হিসাবে আশ্রয় নিয়েছে প্রায় ১ লাখ ৮০ হাজার মানুষ। ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয়েছে সমগ্র গাজা উপত্যকা। গাজায় ইসরাইলি বর্বর হামলা থামাতে প্রতিদিনই ব্রিটেনের কোথাও না কোথাও প্রতিবাদ সভা কিংবা সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়েছে। বাঙালি অধ্যুষিত বরো পূর্ব লন্ডনের টাওয়ার হ্যামলেটসসহ ইংল্যান্ডের মোট তিনটি কাউন্সিল ভবনে গাজার মানুষদের প্রতি সহানুভূতির নিদর্শন হিসাবে ফিলিস্তিনের পতাকা উত্তোলন করা হয়।
বিবিসির এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গাজায় ইসরাইলের বোমাবর্ষণের ঘটনাকে ব্রিটেন যথেষ্ট কড়া ভাষায় নিন্দা না জানানোয় প্রধানমন্ত্রী ক্যামেরনকে ইতিমধ্যেই বিরোধী দল এবং ক্ষমতাসীন কনজারভেটিভ দলের এমপিদের সমালোচনার মুখে পড়তে হয়েছে।
