গাজায় ইসরাইলের টানা ২৯ দিনের নারকীয় হত্যাযজ্ঞ শেষে মিসরের মধ্যস্থতায় গতকাল মঙ্গলবার থেকে ৭২ ঘন্টার যুদ্ধবিরতি ঘোষণা করেছে ইসরাইল। হামাসও এই যুদ্ধবিরতিতে সম্মতি দিয়েছে। তবে শর্ত দেয় গাজায় অনুপ্রবেশকারী বাহিনীকে ইসরাইলে ফিরে যেতে হবে। শর্ত মেনে ইসরাইল তার স্থলবাহিনীকে দেশে ফিরিয়ে নেয়। যুদ্ধবিরতির ফলে গতকাল গাজায় নেমে আসে ‘শান্তির নীরবতা’। কিন্তু তিনদিন পর আবার হামলা হতে পারে এমন আশঙ্কায় ঘরে ফিরতে পারছে না বিভিন্ন আশ্রয়শিবিরে ঠাঁই নেয়া ফিলিস্তিনিরা। কারণ, ফিলিস্তিনি যোদ্ধারা রকেট নিক্ষেপ করলে আবার বোমাবর্ষণের হুমকি দিয়েছে ইসরাইল। এর আগে একাধিকবার যুদ্ধবিরতির কথা বললেও তা মানেনি কোনো পক্ষ। গাজায় হামলায় এ পর্যন্ত নিহত হয়েছে ১ হাজার ৮৬৭ জন।
এএফপি জানায়, গতকাল যুদ্ধবিরতি ঘোষণার আগে হামাস-ইসরাইল দুই পক্ষই শক্তির মহড়া চালায়। হামাসের পক্ষ থেকে ইসরাইলে এদিন ১৬টি রকেট নিক্ষেপ করে। বিপরীতে ইসরাইল পাঁচ দফা বিমান হামলা চালায় গাজায়। এসব হামলায় অন্তত ১০ ফিলিস্তিনি নিহত হয়।
সোমবার মিসরের রাজধানী কায়রোয় আলোচনা শেষে যুদ্ধবিরতির এ ঘোষণা দেয়া হয়। ইসরাইল ও হামাস উভয়পক্ষ পৃথকভাবে যুদ্ধবিরতির এ ঘোষণা নিশ্চিত করে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক ইসরাইলী কর্মকর্তা বলেন, মঙ্গলবার স্থানীয় সময় সকাল আটটা থেকে ইসরাইল এ যুদ্ধবিরতি মেনে চলবে। হামাসের মুখপাত্র সামি আবু জুহরি বলেন, হামাস যুদ্ধবিরতি মেনে চলার কথা কায়রোকে জানিয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্র তিনদিনের এ যুদ্ধবিরতিকে স্বাগত জানিয়েছে। দেশটির ডেপুটি জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা টনি ব্লিনকেন সিএনএনকে বলেন, এটি একটি প্রকৃত সুযোগ। এ উদ্যোগকে আমরা দৃঢ়ভাবে সমর্থন জানাই। এদিকে মিসরের উদ্যোগে একটি স্থায়ী যুদ্ধবিরতির চেষ্টা অব্যাহত রয়েছে। হামাস, ইসলামী জিহাদসহ ফিলিস্তিনের প্রতিনিধিদল কায়রো অবস্থান করছে। এছাড়া আলোচনায় অংশ নিতে ইসরাইলের পক্ষ থেকেও তাদের প্রতিনিধিদের কায়রো পৌঁছানোর কথা নিশ্চিত করা হয়েছে।
এদিকে, জাতিসংঘ মহাসচিব বান কি-মুন মাসব্যাপী গাজা সংঘাতের ঘটনায় ইসরাইল ও হামাসকে ‘সর্বোচ্চ সংযত’ থাকার আহ্বান জানিয়েছে। তাদের মধ্যে রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষের ক্ষেত্রে তারা মঙ্গলবার নতুন করে ৭২ ঘণ্টার অস্ত্রবিরতি চুক্তি শুরু করার ব্যাপারে সম্মত হওয়ার পর তিনি এ আহ্বান জানান। অস্ত্রবিরতি ঘোষণার কয়েক ঘণ্টা পর জাতিসংঘ মহাসচিবের দফতর থেকে বলা হয়, দীর্ঘ মেয়াদী অস্ত্রবিরতি ও গুরুত্বপূর্ণ বিভিন্ন বিষয় নিয়ে কায়রোতে যতদ্রুত সম্ভব আলোচনা শুরু করতে বান উভয় পক্ষের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন। ‘এ ব্যাপারে তিনি প্রেসিডেন্ট আব্বাসের নেতৃত্বে ফিলিস্তিনি প্রতিনিধি দলের ইতিবাচক ভূমিকাকে স্বাগত জানান।’
এদিকে, গাজাবাসী এই যুদ্ধবিরতিতে আশ্বস্ত হতে পারছেন না। অনেকে ঘরবাড়ি, স্বজন সবকিছু হারিয়েছেন। পাঁচ সন্তানের পিতা রাফাত বলেন, বাড়িটি তৈরী করতে আমার ৪০ বছর লেগেছে। কিন্তু ৪০ সেকেন্ডে ইসরাইল তা ধুলোর সাথে মিশিয়ে দিল। বাড়িতে কিছুই অবশিষ্ট নেই।
