আদালতে আসামিদের ঔদ্ধত্যপূর্ণ আচরণ বাদীকে হুমকি

আপডেট : ৩০ মে ২০১৯, ২৩:২৮

বহুল আলোচিত ফেনীর সোনাগাজীর মাদ্রাসাছাত্রী নুসরাত জাহান রাফিকে আগুনে পুড়িয়ে হত্যার মামলাটি গতকাল বৃহস্পতিবার নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালে হস্তান্তর করা হয়েছে। একইসঙ্গে মামলার পরবর্তী তারিখ ১০ জুন ধার্য করেছেন ফেনীর সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেটের আদালত। গতকাল বৃহস্পতিবার আদালতে চার্জশিটভুক্ত ১৬ জনসহ গ্রেফতার ২১ আসামির সবাই উপস্থিত ছিলেন। ছিলেন মামলার বাদী নুসরাতের ভাই আবদুল্লাহ আল নোমানও।

এদিকে এজলাসে নিয়ে আসার সময় আদালত প্রাঙ্গণে আসামিদের ঔদ্ধত্যপূর্ণ আচরণ করতে দেখা গেছে বলে জানিয়েছেন প্রত্যক্ষদর্শীরা। এসময় কয়েকজন বাদীপক্ষের আইনজীবীর দিকে ‘দালাল দালাল’ ও ‘ধর ধর’ বলে তেড়ে আসেন। পরে পুলিশ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। নুসরাতের ভাই নোমান অভিযোগ করেছেন, ‘খুনিরা’ আদালতে গিয়ে তাকেও হত্যার হুমকি দিয়েছে। তিনি বলেন, ‘আসামিরা আদালতে আমাকে মেরে ফেলার হুমকি দিয়েছে। আমি নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছি। আমার পরিবারকে আক্রমণ করে আসামিরা হুমকি দিচ্ছে।’

একই অভিযোগ করেছেন বাদীর আইনজীবী রফিকুল ইসলাম খোকনও। তিনি বলেন, আসামিদের হাজতখানা থেকে এজলাসে আনা হলে তাদের মধ্যে কয়েকজন মারমুখী আচরণ করে। তারা বাদী ও তার আইনজীবীদের অশালীন ভাষায় গালমন্দ করে। একপর্যায়ে কয়েকজন তেড়ে এসে মামলার বাদী ও আইনজীবীদের হত্যার হুমকি দেয়। আইনজীবীরা বিষয়টি আদালতকে জানালে বিচারক আদালতে নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদারের নির্দেশ দেন পুলিশকে।

বাদীর নিরাপত্তা সম্পর্কে ফেনী জেলার ভারপ্রাপ্ত পুলিশ সুপার মো. মনিরুজ্জামান বলেন, আদালতে আসামিরা হট্টগোল করেছে শুনেছি। তাত্ক্ষণিক ব্যবস্থাও নেওয়া হয়েছে। তবে নিরাপত্তা নিয়ে কোনো ধরনের শঙ্কা নেই। নুসরাতের পরিবারকে ঘটনার দিন থেকে পুলিশি নিরাপত্তা দেওয়া হচ্ছে।

কোর্ট ইন্সপেক্টর গোলাম জিলানী জানান, আগামী ১০ জুন নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল আদালতে অভিযোগপত্রের ওপর শুনানি হবে। তিনি বলেন, সোনাগাজী পৌরসভার ৪ নম্বর ওয়ার্ড কাউন্সিলর ও পৌর আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক (ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক) মাকসুদ আলমের পক্ষে ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে জামিন আবেদন করেন আইনজীবী গিয়াস উদ্দিন নান্নু। কিন্তু এ আদালতে এ ধরনের মামলায় জামিন দেওয়ার এখতিয়ার নেই বলে আদেশ দেন বিচারক। তিনি বিশেষ ট্রাইব্যুনালে জামিনের আবেদন করার পরামর্শ দেন।

এর আগে গত বুধবার এ মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ও পিবিআই ইন্সপেক্টর মোহাম্মদ শাহ আলম সোনাগাজী ইসলামিয়া ফাজিল মাদ্রাসার অধ্যক্ষ সিরাজ উদদৌলাসহ ১৬ আসামির বিরুদ্ধে আদালতে ৮০৮ পৃষ্ঠার অভিযোগপত্র দাখিল করেন। এতে প্রত্যেক আসামির মৃত্যুদণ্ড চাওয়া হয়েছে। এ মামলায় গ্রেফতার হওয়া ২১ জন আসামির মধ্যে ৫ জনকে অব্যাহতি দেওয়ার সুপারিশ করা হয়েছে।

অধ্যক্ষ সিরাজ উদদৌলাকে এ মামলায় ‘হুকুমদাতা’ হিসেবে ১ নম্বর আসামি করা হয়েছে। আওয়ামী লীগ নেতা হিসেবে নির্বাচিত পৌর কাউন্সিলর ও মাদ্রাসার প্রভাষকও রয়েছেন আসামির তালিকায়। মামলার তদন্ত সংশ্লিষ্ট একটি সূত্র জানিয়েছে, অধ্যক্ষ সিরাজের বিরুদ্ধে শ্লীলতাহানির মামলায়ও খুব শিগগির অভিযোগপত্র দাখিল করা হবে।

প্রসঙ্গত, নুসরাত হত্যা মামলার শুরুতে আওয়ামী লীগ সমর্থিত একজন আইনজীবী অধ্যক্ষ সিরাজ উদদৌলার পক্ষে দাঁড়িয়েছিলেন। তাকে দল থেকে সাময়িক বহিষ্কার করা হয়। এরপর ফেনী জেলা আইনজীবী সমিতি কোনো আইনজীবী যেন আসামিদের পক্ষে না দাঁড়ান, সে জন্য অনুরোধ জানায়। ফলে গত ২ মাসে আসামিদের পক্ষে কোনো আইনজীবীকে আদালতে দাঁড়াতে দেখা যায়নি।