স্টোকস ও আর্চারে জয়ী সূচনা ইংল্যান্ডের

আপডেট : ৩১ মে ২০১৯, ০০:৫৫

বেন স্টোকসের অলরাউন্ড ও জোফরা আর্চারের বোলিং নৈপুণ্যে ফেবারিট ইংল্যান্ড বিশ্বকাপের উদ্বোধনী খেলায় দক্ষিণ আফ্রিকাকে ১০৪ রানে হারিয়ে জয়ী সূচনা করেছে।

স্বাগতিকরা গতকাল বৃহস্পতিবার লন্ডনের কেনিংটন ওভালে প্রথমে ব্যাটিংয়ে বাধ্য হলেও আট উইকেটে ৩১১ রান তুলতে সক্ষম হয়। জবাবে দক্ষিণ আফ্রিকা ৩৯.৫ ওভারে ২০৭ রানে অলআউট হয়ে যায়।

 স্টোকস ব্যাট হাতে ৮৯ রানের পাশাপাশি বোলিংয়ে এসে দক্ষিণ আফ্রিকার শেষ দুই উইকেট নেন। এছাড়াও ডিপ মিডউইকেটে এক হাতে নেন অ্যান্ডাইলের ক্যাচটি। সব মিলিয়ে ম্যান অব দ্য ম্যাচও হন স্টোকস। অপরদিকে ঘণ্টায় ৯০ মাইল গতিতে বল করা ও কেবল চতুর্থ ওয়ানডে খেলতে নামা আর্চার ২৭ রানে তিন উইকেট নেন।

ক্যারিবীয় বংশোদ্ভূত এই পেসার প্রথমে অ্যাইডেন মারক্রাম ও দক্ষিণ আফ্রিকা অধিনায়ক ফাফ দু প্লাসিসকে ও পরে ফন ডার ডুসেনকে আউট করেন। লিয়াম প্লাংকেট নেন ওপেনার কুইন্টল ডি ককের (৬৮) উইকেটটি। অপর ওপেনার হাশিম আমলা আর্চারের বাউন্সারে মাথায় আঘাত পেয়ে রিটায়ার্ড হার্ট হয়ে মাঠ ছাড়েন। পরে অবশ্য তিনি আবার মাঠে ফিরলেও ১৩ রানেই শেষ হয় তার প্রয়াস। অন্য ব্যাটসম্যানরা এরপর একে একে রণেভঙ্গ দেন।

ইয়ন মর্গান খেলাশেষে স্থানীয় টেলিভিশনকে জানান, তিনি এই নৈপুণ্যে আনন্দিত। আর্চারেরও প্রশংসা করেন তিনি। মর্গান বলেন, ‘আমি এরকম নৈপুণ্যে আনন্দিত। আমরা যে পরিপক্বতা ও দুর্দান্ত ক্রিকেট খেলেছি তা গত দুই বছরে আমাদের উন্নতিরই জানান দেয়। মন্থরতম পিচ হওয়ার পরও সে প্রচণ্ড গতিতে নিখুঁত বোলিং করেছে। ক্যারিয়ারের শুরুর মধ্যে থাকা এক তরুণের জন্য যা অসাধারণ।’ অপরদিকে বিপক্ষ অধিনায়ক জানান, তারা এদিন তিন বিভাগেই পরাস্ত হয়েছেন।

ইংল্যান্ড সাম্প্রতিক সময়ে সাড়ে তিনশ ছাড়ানো ইনিংস গড়াকে ডালভাত বানিয়ে ছেড়েছিল। কিন্তু এদিন ওভালে তাদের কিছুটা রাশ টেনে ধরে প্রোটিয়া বোলাররা। তারপরও ওপেনার জেসন রয় (৫৪), ওয়ান ডাউন জো রুট (৫১), টপ অর্ডারে অধিনায়ক ইয়ন মর্গান (৫৭) ও বেন স্টোকসের (৮৯) ব্যাটিং নৈপুণ্যে ইংল্যান্ডের দলীয় সংগ্রহ তিনশ পার করতে সক্ষম হয়।

স্টোকসই মূলত আয়োজকদের লড়াকু সংগ্রহের মূল কাণ্ডারি। তিনি ৬৮ রানের ব্যবধানে দলের মূল্যবান চার উইকেট পড়ে যাওয়ার পরও প্রান্ত আগলে রেখে পরিস্থিতি সামাল দিতে সক্ষম হন। ইংল্যান্ড ওই সময়ে ৩/২১৭ থেকে ৭/২৮৫ এ গড়িয়ে পড়েছিল। স্টোকস অধিনায়ক মর্গানের সাথে মিলে দলের ভান্ডারে জমা দেন ১০৬ রান। এর আগে দ্বিতীয় উইকেটে ১০০ রানের পার্টনারশিপ গড়েন রয় ও রুটস । ওপেনার জনি বেয়ারস্টো শূন্য রানে আউটের পর এ দুজনের প্রয়াস না হলে ইংল্যান্ড কাল এতটা পথ পাড়ি দিতে পারতো কিনা সে নিয়ে সংশয় ছিল। মর্গান ৬০ বলে ৫৭ ও স্টোকস ৭৯ বলে নয় বাউন্ডারির মারে ৮৯ রান করেন।

দক্ষিণ আফ্রিকা অধিনায়ক এদিন টসে জিতেই ক্রিকেটামোদীদের চমকে দেন লেগ স্পিনার ইমরান তাহিরকে দিয়ে বোলিং আক্রমণ শুরু করে। দ্বিতীয় বলেই সাফল্য পান এই স্পিনার, বেয়ারস্টোকে রানের খাতা খোলার আগেই আউট করে।

এরপর বল ও ব্যাটের লড়াইয়ে কখনো ইংল্যান্ড কখনো দক্ষিণ আফ্রিকা দাপট দেখায়। সে কারণে স্বাগতিকদের তোলা ৩১১ রানকে যেমন বেশি ভালোও বলতে পারছিলেন না বোদ্ধারা, তেমনি খারাপও বলা যাচ্ছিল না। ৬৬ রানে তিন উইকেট নিয়ে প্রোটিয়াদের সেরা বোলার লুঙ্গি এনগিডি। তাহির ও রাবাদা নেন দুটি করে উইকেট।

কিন্তু এসবে শেষ রক্ষা হয়নি প্রোটিয়াদের। বাংলাদেশ আগামী রবিবার এই দলটির বিরুদ্ধে বিশ্বকাপে নিজেদের প্রথম খেলায় মাঠে নামবে।

সংক্ষিপ্ত স্কোর:

ইংল্যান্ড ৫০ ওভারে ৩১১/৮   স্টোকস ৮৯, মর্গান ৫৭, রয় ৫৪, রুট ৫১; নগিডি ৩/৬৬)।

দক্ষিণ আফ্রিকা ৩৯.৫ ওভারে ২০৭ (ডি কক ৬৮, ডুসেন ৫০; আর্চার ৩/২৭)।