আধুনিকতার অগ্রযাত্রায় পিছিয়ে যাচ্ছে শানকররা

আপডেট : ০৬ আগস্ট ২০১৪, ২১:০৯
বিনয় শীল (৫৫) পেশায় একজন শানকর। লোকজনের ক্ষুর কাঁচি ধার করানোই তার কাজ। পিতা দিনেশ চন্দ্র শীল ও তার দাদাও ছিলেন শানকর। বিভিন্ন হাট-বাজারে গিয়ে তারা ধার করানোর কাজ করতো। আর এতেই তাদের সংসার মোটামুটি ভালভাবেই চলতো। কিন্তু বর্তমানে আধুনিকতার অগ্রযাত্রায় পিছিয়ে পড়েছে প্রাচীনকালের শানকররা। এখন দাড়ি কাটার কাজে ব্যবহূত হচ্ছে ক্ষুরের পরিবর্তে ব্লেড, পুরাতন কাঁচির পরিবর্তে আধুনিক স্টেইনলেস স্টিলের কাঁচি। যেগুলো ধার করাতে হয় না। ফলে শানকররা তাদের পৈতৃক পেশায় আর টিকে থাকতে পারছেন না। বর্তমানে একটি কাঁচি ধার করাতে ছোট-বড় ভেদে ২০ থেকে ৩০ টাকা করে মজুরি নেয়া হয়। কিন্তু তাতেও তাদের চলে না। কারণ এখন আর ক্ষুরের ব্যবহার নেই। এ সকল স্থান দখল করে নিয়েছে বিভিন্ন কোম্পানির স্টেইনলেস স্টিলের ব্লেডসহ বিভিন্ন যন্ত্রপাতি। শুধু পুরাতন মডেলের কিছু কাঁচি এখনও যারা ব্যবহার করে শুধু তাদের ভরসাতেই চলতে হচ্ছে শানকরদের। উপজেলার গোশাইবাড়ী হাটে এক নরসুন্দরের কাঁচি ধার করার সময় বিনয় শীল বলেন, উত্তরাঞ্চলে একমাত্র সৈয়দপুরের গোমর পনির বিহারীরা পাথর দিয়ে এই শান তৈরি করে নিজেরা ব্যবহার করে এবং বিক্রি করে। তাদের প্রতিটি শান সাড়ে ৩ থেকে ৪ হাজার টাকায় ক্রয় করতে হয়, যা দিয়ে দু’বছর পর্যন্ত চলে। তারা সপ্তাহে ২টি হাটে ধার করানো কাজ করে থাকেন। প্রতি হাট-বাজারে ৩ থেকে ৪শ’ টাকা আয় হয়। সেখান থেকে শান (চাকা) ঘুরানোর জন্য শ্রমিককে কিছু দিতে হয়। এরপর যা থাকে তা দিয়ে কোনো রকম তাদের জীবন চলে।