জীবননগর উপজেলা শহরের ফুলবাবু (৪৩) থাই পেয়ারা চাষে রীতিমত বিপ্লব ঘটিয়েছেন। প্রবল মনোবল ও কঠোর পরিশ্রমই ফুলবাবুকে এ সফলতা এনে দিয়েছে। আধুনিক পদ্ধতিতে কম্পোস্ট সার ব্যবহার করে উত্পাদন ভাল হওয়ায় তার দেখাদেখি ব্যাপক উত্সাহ নিয়ে ঐ এলাকার কৃষকরা এখন থাই পেয়ারা চাষে ঝুঁকে পড়ছেন। পেয়ারা চাষি ফুলবাবু জানান, তিন বছর আগে নাটোরের বন্ধু সাঈদ হোসেনের উচ্চফলনশীল জাতের পেয়ারা চাষ তার নজর কাড়ে। সাঈদ হোসেনের পেয়ারা চাষে সাফল্য দেখে তিনি পেয়ারা চাষের পরিকল্পনা করেন। সে বছরই তিনি প্রথম পিয়ারতলা গ্রামের মাঠে নিজের ৩ বিঘা জমিতে পেয়ারা চাষ করেন। প্রথমবারেই তার সমস্ত খরচ বাদে লাভ হয় প্রায় ১ লাখ টাকা। এই সফলতা তাকে আরও সাহসী করে তোলে। এরপর তিনি দ্বিতীয় বছরে ২০ বিঘা এবং এ বছর তিনি নিজের ৩ বিঘা ও অন্যের ৩৫ বিঘা জমি বর্গা নিয়ে মোট ৩৮ বিঘা জমিতে পেয়ারার চাষ করেছেন।
সাফল্যের নাগাল পাওয়া বাবু আগামী বছর ৫০ বিঘা জমিতে পেয়ারা চাষের পরিকল্পনা করেছেন। পেয়ারা চাষী ফুলবাবু জানান, ভালভাবে জমি কর্তন ও সার প্রয়োগের মাধ্যমে জমিকে পেয়ারা চাষের উপযোগী করে তোলা হয় এবং প্রতি বিঘায় ১৭০টি করে চারা রোপণ করা হয়।
চারা রোপণের ২ মাসের মধ্যেই গাছে ফুল আসতে শুরু করে এবং ৪ মাসের মধ্যেই পেয়ারা পূর্ণ পরিপক্ব হয়ে ওঠে।
বছরে ৩ দফায় প্রতিটি পেয়ারা গাছে প্রায় ৪০ কেজি পর্যন্ত পেয়ারা পাওয়া যায় এবং প্রতি কেজি পেয়ারা পাইকারি ১শ’ থেকে ১২০ টাকা দরে বিক্রি হয়। জমি তৈরি থেকে পেয়ারা সংগ্রহ পর্যন্ত প্রতিবিঘা জমিতে এক লাখ টাকা খরচ হয়। আর প্রতিবিঘা জমিতে উত্পাদিত পেয়ারা বিক্রি করে সমস্ত খরচ বাদে লাভ হয় দেড় থেকে ২ লাখ টাকা।
এ বছর তিনি ইতোমধ্যেই প্রথম দফায় ৭ লাখ টাকার পেয়ার বিক্রি করেছেন এবং আরো ২৪/২৫ লাখ টাকার পেয়ারা বিক্রি করতে পারবেন বলে আশা করছেন।
