শ্রমিকের বেতন বৃদ্ধির জন্য বর্তমান সরকার ঘোষণা দিলেও তা তোয়াক্কা করছেন না নীলফামারী জেলার সৈয়দপুরের শিল্প-কারখানার মালিকরা। পাশাপাশি তারা শিশুদের দ্বারা কাজও করাচ্ছেন নির্বিঘ্নে। সরেজমিনে গিয়ে দেখা গেছে এমনই দৃশ্য। এ ব্যাপারে আইন প্রয়োগকারী সংস্থা ও মানবাধিকার সংস্থার লোকজনদের ব্যবস্থা নেয়ার কথা থাকলেও অজ্ঞাত কারণে তারা দেখেও দেখছেন না।
সূত্র জানায়, সৈয়দপুর তথা নীলফামারী জেলাসহ সারা দেশের গার্মেন্টস ও কল কারখানার শ্রমিকদের আন্দোলনের এক পর্যায়ে বর্তমান সরকার ৮ ঘন্টা শ্রমের মজুরি বাবদ ৫ হাজার ৬৯০ টাকা নির্ধারণ করেন। নির্ধারিত সময়ের অতিরিক্ত কাজ করলে আরও কিছু মজুরি দিতে হবে ওইসব শ্রমিকদের। কিন্তু সৈয়দপুর শহরে বর্তমান সরকার ঘোষিত শ্রমিক মজুরি বরাদ্দের কোন প্রভাবই পড়েনি বলে মন্তব্য করেন ওই সূত্রটি।
সরেজমিন গিয়ে দেখা গেছে, সৈয়দপুরের আধুনিক প্লাজা মার্কেটের পরচুলা ফ্যাক্টরীতে কাজ করছেন মর্জিনা (১৪), বাবলী (১২), মরিয়মসহ (১৩) অপ্রাপ্ত বয়স্কা প্রায় শতাধিক কিশোরী। তারা সকাল ৮টা থেকে রাত ৮টা পর্যন্ত কাজ করে প্রতিমাসে মজুরি পাচ্ছেন ২ থেকে ৩ হাজার টাকা। অন্যদিকে যেসব প্রাপ্ত বয়স্কা যুবতি রয়েছেন তারাও একই কাজ করে পাচ্ছেন প্রতিমাসে ৩ থেকে ৪ হাজার টাকা পর্যন্ত।
৮ ঘন্টা শ্রমের মজুরি পাওয়ার কথা ৫ হাজার ৬৯০ টাকা। কিন্ু্ত সেখানে ১০/১২ ঘন্টা কাজ করে অপ্রাপ্ত ও প্রাপ্ত বয়সের শ্রমিকদের দেয়া হচ্ছে ২ থেকে ৪ হাজার টাকা। একদিকে অপ্রাপ্তদের দ্বারা কাজ করানো অন্যদিকে সরকার ঘোষিত মজুরিও দেয়া হচ্ছে না শ্রমিকদের।
সূত্র জানায়, বাণিজ্যিক শহর হিসেবে খ্যাত সৈয়দপুর। এ শহরে ছোট-বড় মিলে রয়েছে প্রায় ৭শ’ শিল্প ও কল কারখানা। এসব শিল্প ও কল কারখানায় কাজ করছেন প্রায় ১০ হাজারেরও বেশি অপ্রাপ্ত ও প্রাপ্ত বয়সের কিশোর-কিশোরী ও যুবক-যুবতীরা। বিশেষ করে সুতলি ফ্যাক্টরী, ব্রেড এন্ড বিস্কুট ফ্যাক্টরী, এ্যালুমিনিয়াম ফ্যাক্টরীসহ প্রায় ৫০টি ফ্যাক্টরিতে কর্মরত রয়েছেন তারা। অভাব-অনটনের বেড়াজালে আটক হয়ে ওইসব শ্রমিকরা কাজ করতে আসায় সুযোগ সন্ধানী ব্যবসায়ীরা নামমাত্র মজুরি দিয়ে অল্প দিনেই কোটি কোটি টাকার মালিক হচ্ছেন বলে অভিযোগ রয়েছে। বিভিন্ন সংস্থার কর্ণধারদের ম্যানেজ করার ফলে ওইসব সংস্থার লোকজন দেখেও কার্যকর কোন ভূমিকা রাখছেন না বলে একাধিক মহলের অভিযোগ।
