অর্থ সংকটে চট্টগ্রামে তিনশ’ অ্যাপার্টমেন্টের কাজ বন্ধ

আপডেট : ০৬ আগস্ট ২০১৪, ২২:১৬
অর্থনৈতিক সংকট, বিক্রি ব্যাপকভাবে কমে যাওয়ায় চট্টগ্রামে রিহ্যাব সদস্যভুক্ত ডেভেলপারদের তিনশ’টি এপার্টমেন্ট প্রকল্পের কাজ বন্ধ রয়েছে। কোনো কোনো প্রকল্পের কাজ মাঝপথে থেমে আছে, কোনো কোনোটির কাজ শুরুই করা যায়নি। সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো জানায়, চট্টগ্রামে আবাসন শিল্পের বর্তমান যে মন্দা পরিস্থিতি, তা কাটিয়ে উঠতে এ মুহূর্তে কোনো সহজ পথ রয়েছে বলে রিহ্যাব সদস্যদের অনেকেই মনে করছেন না। তবে তাদের মতে, এ পরিস্থিতি শুধু চট্টগ্রামেই নয়, ঢাকাসহ সারাদেশেই বিরাজ করছে। এ ব্যাপারে রিহ্যাব চট্টগ্রাম জোনের ভাইস-চেয়ারম্যান ও এমডিসি গ্রুপের ব্যবস্থাপনা পরিচালক আবদুল কাদের জিলানী ইত্তেফাককে বলেন, দেশের আবাসন শিল্পকে বাঁচাতে রিহ্যাব সরকারের কাছে সার্বিক পৃষ্ঠপোষকতা, অর্থনৈতিক সহযোগিতা এবং আবাসন-বান্ধব নীতিমালা প্রত্যাশা করছে। এ ব্যাপারে সমপ্রতি সরকারের ঊর্ধ্বতনমহল থেকে আশ্বাস পাওয়া গেছে। তবে গত চারবছর ধরে এই শিল্পে যে বিরূপ অবস্থা বিরাজ করছে, তার দ্রুত অবসান ঘটানো না গেলে আবাসন প্রত্যাশী জনসাধারণ এবং এই শিল্পে বিনিয়োগকারী ব্যবসায়ীদের দুর্দশা আরো বৃদ্ধি পাবে। রিহ্যাব কর্মকর্তা আরো জানান, সারাদেশে রিহ্যাবের সদস্য সংখ্যা ১ হাজার ৩শ’। চট্টগ্রামের সদস্য সংখ্যা ১০৩। এসব সদস্যদের মধ্যে রয়েছে অর্থনৈতিকভাবে ভাল, অর্থনৈতিকভাবে মাঝারি এবং অর্থনৈতিকভাবে দুর্বল সদস্য। তার মতে, নানা কারণে চট্টগ্রামে তিনশ’ এপার্টমেন্ট প্রকল্প বন্ধ থাকলেও পাশাপাশি কাজ চলছে আরো আড়াইশ’ থেকে তিনশ’ এপার্টমেন্ট প্রকল্পের। তার মতে, শুধু অর্থনৈতিক কারণেই নয়, অনেক সময় অনেক রিহ্যাব উদ্যোক্তা তাদের ভুল পদক্ষেপ এবং ভুল চুক্তির কারণে অর্থনৈতিক বিপর্যয়ের শিকার হচ্ছেন। উদাহরণ হিসাবে তিনি উল্লেখ করেন, চট্টগ্রাম মহানগরীর প্রাণকেন্দ্রে জমির প্রতি কাঠার যে মূল্য, নগরীর প্রান্তবর্তী এলাকায় ঠিক সেই মূল্য ধরে এপার্টমেন্টের জন্য ভূমিদাতা পার্টির সাথে চুক্তি করে রিহ্যাব-এর অনেক সদস্য বিপদগ্রস্ত হয়েছেন। চট্টগ্রামে এপার্টমেন্ট বিক্রি কমে যাওয়ার কারণ হিসাবে রিহ্যাব কর্মকর্তা জিলানী বলেন, এখানে গত ৫/৬ বছরে এপার্টমেন্টের দাম এতো বেশি বেড়ে গেছে যে মূল্য পরিস্থিতি এখন সাধারণ মানুষের ক্রয়ক্ষমতার অনেক বাইরে। যারা এপার্টমেন্ট কিনতে আগ্রহী তাদের অনেকেরই আর্থিক আয় কমে গেছে। এসব ক্রয়ক্ষমতাহীন মানুষদের জন্য এপার্টমেন্ট কেনার ক্ষেত্রে সহজশর্তে ও সহজ সুদে ঋণের ব্যবস্থা করা না গেলে তাদের পক্ষে এপার্টমেন্ট কেনা বর্তমান বাজারমূল্যে সম্ভব নয়। এছাড়া মধ্যপ্রাচ্যে বিদ্যমান যুদ্ধ পরিস্থিতি এবং গত বছর দেশে রাজনৈতিক অস্থিতিশীলতার কারণেও প্রবাসীদের পক্ষ থেকে এপার্টমেন্ট কেনা ও রিয়েল এস্টেট কোম্পানীগুলোর কাছ থেকে জমি কেনার পরিমাণ উল্লেখযোগ্য হারে হ্রাস পেয়েছে। তিনি বলেন, এ যাবত্ সারাদেশে আবাসন খাতে বিনিয়োগের পরিমাণ প্রায় ১ লাখ হাজার কোটি টাকা। কাজেই এখাতে মন্দা ও বেচাকেনা সর্বনিম্ন পর্যায়ে নেমে আসাটা উদ্বেগজনক। তিনি জানান, রিহ্যাব-এর সদস্য নয় কিন্তু আবাসন খাতে এমন অনেক বিনিয়োগকারী রয়েছেন যাদের অনেকের অবস্থাই ভাল নয়। চট্টগ্রামের স্থানীয় একটি নির্মাণ সংস্থার একজন কর্মকর্তা বলেন, বহু বিনিয়োগকারী কিছু কিছু এপার্টমেন্ট লস দিয়েই বিক্রি করছেন। অনেকে টানা কয়েক বছরের ক্ষতির প্রেক্ষাপটে এই ব্যবসা থেকে স্থায়ীভাবেই চলে গিয়েছেন। তাদের নির্মিত এপার্টমেন্টগুলো সময়মতো বিক্রি না হওয়ায় ‘ওভারহেড কস্ট’ ব্যাপকভাবে বৃদ্ধি পাওয়ায় এগুলো শ্বেতহস্তিতে পরিণত হয়েছে। তার মতে, আবাসন শিল্প খাত বাঁচাতে জরুরি ভিত্তিতে সরকারি প্রণোদনা প্রয়োজন। সেই সাথে ইতিবাচক সরকারি নীতিমালা দরকার।