বৈদেশিক মুদ্রা অর্জনে সম্ভাবনার হাতছানি দিচ্ছে সুন্দরবনের মধু। চলতি বছর থেকে শুরু হয়েছে মধু রফতানি। বিশ্ব বাজারে বাজার সৃষ্টি এবং মৌয়ালদের পর্যাপ্ত প্রশিক্ষণের মাধ্যমে খাঁটি মধু আহরণের ব্যবস্থা করতে পারলে মধুর কদর আরও বৃদ্ধি পাবে বলে সংশ্লিষ্টরা ধারণা করছেন।
রফতানি উন্নয়ন ব্যুরো সূত্র জানায়, গত অর্থ বছর থেকে বাণিজ্যিকভাবে দেশের বাইরে মধু রফতানি শুরু হয়েছে। গত ২০১৩-১৪ অর্থ বছরের ফেব্রুয়ারি থেকে জুন পর্যন্ত পাঁচ মাসে প্রায় ২০ লাখ টাকার মধু ভারতে রফতানি করা হয়েছে। এর মধ্যে ফেব্রুয়ারি মাসে প্রায় ৩ লাখ টাকা, মার্চ মাসে প্রায় সাড়ে ৯ লাখ টাকা, এপ্রিল ও মে মাসে ৫ লাখ টাকা এবং জুন মাসে ১ লাখ টাকার টাকার মধু রফতানি করা হয়েছে। সূত্র জানায়, মধু রফতানির একমাত্র দেশ হচ্ছে ভারত।
তবে সুন্দরবনের মধু রফতানি হচ্ছে জেনে এটিকে সাধুবাদ জানিয়েছে সুন্দরবন পশ্চিম বন বিভাগের বিভাগীয় (ডিএফও) কর্মকতা জহির উদ্দিন আহমেদ। তিনি বলেন, রফতানির ক্ষেত্রে সুন্দরবনের মধুকে একটি ব্র্যান্ড ও প্যাটার্ন করার উদ্যোগ নিতে হবে। তা না হলে মধু বিক্রিতে সুন্দরবনের কোন লাভ হবে না। তিনি জানান, পূর্ব সুন্দরবন থেকে প্রায় ২১শ’ মৌয়াল প্রতি বছর মধু আহরণ করে থাকে। ২০১৩-১৪ অর্থ বছরে প্রায় ১ হাজার ৫৫৪ কুইন্টাল মধু আহরণ করা হয়েছে। গত অর্থ বছরে এর পরিমাণ ছিল প্রায় এক হাজার ৭শ’ কুইন্টাল। এছাড়া সুন্দরবন পূর্ব বিভাগ থেকেও গত বছর সাড়ে ৫শ’ কুইন্টাল মধু আহরণ করা হয়েছিল। এ বিপুল পরিমাণ মধু দেশের বাজারেই বিক্রি হয়ে থাকে। দেশের বাজারে এর দামও কম। তবে অভ্যন্তরীণ চাহিদা মিটিয়ে তা যথাযথ প্রক্রিয়ায় রফতানি করতে পারলে সেটা দেশের অর্থনীতিতে ভূমিকা রাখবে।
মধু ব্যবসায়ী মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, বাইরের দেশে মধুর বাজার সৃষ্টি খুবই কঠিন কাজ। আমি অনেক প্রচষ্টার পর এ বছর ভারতে মধু বিক্রি করতে পেরেছি। সব থেকে বড় সমস্যা হচ্ছে আমাদের দেশে মধুর সঠিকতা যাচাইয়ের জন্য কোন ব্যবস্থা নেই। এজন্য সমস্যা সৃষ্টি হচ্ছে। অনেক সময় দেখা যায় মৌয়ালরা মধুতে চিনির সিকরা মিশিয়ে থাকে। এ ধরনের সমস্যা বাইরের দেশের ক্রেতা টিকিয়ে রাখার ক্ষেত্রে বড় প্রতিবন্ধকতা তৈরি করে। অপর ব্যবসায়ী আনোয়ার হাসান বলেন, ওষুধ তৈরিসহ ভেষজ গুণাবলীর কারণে মধুর কদর রয়েছে বিদেশে। তবে উপযুক্ত ব্যবস্থা ও পর্যাপ্ত সুযোগ সুবিধা পেলে আমাদের দেশের এ মধু বিশ্ববাজারে ভাল প্রভাব ফেলতে পারে।
