আব্বু লেখা নম্বরে ফোন দিয়ে জানা গেল পরিচয়

আপডেট : ০৬ আগস্ট ২০১৪, ২২:২৮
পানিতে ভাসছে লাশ। গলায় ঝুলছে মোবাইল ফোন। পানির মধ্যে বন্ধ হয়ে গেছে প্রাণপ্রদীপ। বন্ধ হয়ে গেছে মোবাইল ফোনটিও। ভোলার মেঘনা নদী থেকে পাওয়া লাশটির পরিচয় নিশ্চিত হওয়া যাচ্ছিল না কোনভাবেই। অবশেষে মোবাইল ফোন থেকে পাওয়া আব্বু লেখা নম্বরে ফোন দিয়ে জানা যায় লাশের পরিচয়। অন্যপ্রান্ত থেকে জানা গেলো লাশটি তেজগাঁও কলেজের ছাত্র ফায়জুল করিম ফাহাদ আকন্দের (২২)। জানা গেলো তার পিতার নাম লুত্ফর রহমান আকন্দ। বাড়ি ঝালকাঠির কাঠালিয়া উপজেলা সদরে। অগ্রণী ব্যাংকের অবসরপ্রাপ্ত প্রিন্সিপাল অফিসার লুত্ফর রহমানের দুই ছেলের মধ্যে ফাহাদ ছোট। তেজগাঁও কলেজের অনার্স তৃতীয় বর্ষের মার্কেটিং বিভাগের ছাত্র তিনি। ফাহাদের বড় ভাই মাইনউদ্দিন ফয়সাল আকন্দ জানান, পরিবারের সবার সাথে ঈদ করে গত সোমবার অনার্স পরীক্ষা দিতে ঢাকার উদ্দেশ্যে রওনা হয় সে। কাওড়াকান্দি ফেরিঘাটে পৌঁছে বাবার মোবাইলে ফোন করে বলে, আমি পিনাক-৬ লঞ্চে নদী পার হচ্ছি। কলেজে পৌঁছে ফোন করবো। এটাই ছিল তার শেষ কথা। সোমবার টেলিভিশনের খবরের মাধ্যমে দুর্ঘটনার খবর জানতে পারে ফাহাদের পরিবার। এ সময় ফোন দিলে তার মোবাইল ফোন বন্ধ পাওয়া যায়। ঘটনার পরপরই ফাহাদের বড় ভাই মাইনউদ্দিন ফয়সল তাকে খুঁজতে ঘটনাস্থলে যান। নিখোঁজের দুই দিন পর বুধবার সকালে ভোলার মেঘনা নদীতে একটি ভাসমান লাশ দেখে জেলেরা পুলিশে খবর দেয়। খবর পেয়ে ফাহাদের স্বজনরা তার লাশ শনাক্ত করেন। বিকালে তার লাশ বাড়িতে পৌঁছালে স্বজনরা কান্নায় ভেঙ্গে পড়েন, শুরু হয় শোকের মাতম।। বিকালে জানাজা শেষে পারিবারিক কবরস্থানে তার লাশ দাফন করা হয়।