শনিবার গার্মেন্টস শিল্পে ধর্মঘটের ঘোষণা

আপডেট : ০৬ আগস্ট ২০১৪, ২২:২৯
বিজিএমইএ থেকে গতকাল রাত পর্যন্ত তোবা গ্রুপের ৫ কারখানার প্রায় পাঁচ শতাধিক শ্রমিক বেতন নিয়েছেন। এদিকে রাজধানীর বাড্ডায় তোবা গ্রুপের অনশনরত শ্রমিকদের সঙ্গে কাউকে সাক্ষাত্ করতে দেয়া হয়নি। দুপুর পর্যন্ত হোসেন মার্কেটের সবগুলো প্রবেশ পথে তালাবদ্ধ থাকলেও পরে পুলিশ তালা খুলে দেয়। পরে সেখানে অবস্থানরত শ্রমিকদের বের হতে দেখা যায়; কিন্তু কাউকে ঢুকতে দেয়া হয়নি। এদিকে শ্রমিকদের পক্ষ থেকে আন্দোলনের নতুন কর্মসূচি ঘোষণা করা হয়েছে। কর্মসূচি অনুযায়ী আজকের মধ্যে তাদের পাঁচ দফা দাবি না মানলে আগামী শনিবার দেশব্যাপী সকল গার্মেন্টস শিল্পাঞ্চলে ধর্মঘট পালিত হবে। আন্দোলনকারীদের উপর পুলিশী হামলার অভিযোগে আজ ও কাল বিক্ষোভ সমাবেশ ছাড়াও তোবার শ্রমিকদের আমরণ অনশন কর্মসূচিও অব্যাহত থাকবে। অন্যদিকে পোশাক মালিকদের সংগঠন ঘোষণা দিয়েছে- আজ বৃহস্পতিবারও শ্রমিকদের বেতন দেয়া হবে। গতকাল রাত নয়টা পর্যন্ত বেতন দেয়া হয়েছে। সংগঠনের পক্ষ থেকে অভিযোগ তুলে বলা হয়, নিরীহ শ্রমিকদের পুঁজি করে একটি মহল অসন্তোষের চেষ্টা করছে। তিন মাসের বেতন-বোনাসের দাবিতে ঈদের আগের দিন থেকে বাড্ডায় হোসেন মার্কেটে কারখানায় শ্রমিকরা আমরণ অনশন করে আসছে। তাদের সাথে যোগ দিয়ে ১৫টি বামপন্থি শ্রমিক সংগঠন ‘তোবা গ্রুপ শ্রমিক সংগ্রাম কমিটি’ নামে একটি প্লাটফর্ম দাঁড় করায়। এর পর শ্রমিক সরকার, মালিকপক্ষ ও শ্রমিক নেতাদের উপস্থিতিতে বিজিএমইএ ভবনে দুই মাসের বেতন দেয়ার সিদ্ধান্ত হয়; কিন্তু বেঁকে বসে তোবা গ্রুপ শ্রমিক সংগ্রাম কমিটি। তাদের দাবি, কারখানায় গিয়ে শ্রমিকদের তিন মাসের বেতন-বোনাস ওভারটাইমসহ সব ধরনের পাওনা পরিশোধ করতে হবে। সেই সঙ্গে জুড়ে দেয়া হয় পাঁচ দফা দাবি। গতকাল সকাল থেকেই শ্রমিকরা হোসেন মার্কেটের সব ফটকে তালাবন্ধ করে দেয়। এ নিয়ে আন্দোলনকারী ও পুলিশ এক পক্ষ অপর পক্ষের বিরুদ্ধে অভিযোগ করে। আন্দোলনকারীরা ভবনের ভেতরে দেড় হাজার শ্রমিক অবস্থানের কথা বললেও মালিকপক্ষের দাবি, সেখানে দেড় থেকে দুইশ শ্রমিক রয়েছেন। বাকীরা বামপন্থি নেতা-কর্মী। গতকাল সকালে একদল শ্রমিক নেতা শ্রমিকদের বেতন নিতে উত্সাহিত করতে হোসেন মার্কেট এলাকায় যান। তাদের সঙ্গে বামপন্থি আন্দোলনকারীদের বাকবিতণ্ডা হয়। এক পর্যায়ে বামপন্থিদের সাথে তাদের হাতাহাতি হয়। পরবর্তীতে অনশনকারী শ্রমিকদের সমর্থনে সমাবেশ করতে চাইলে পুলিশ বাধা দেয়। এ সময় পুলিশের সঙ্গে ধস্তাধস্তি হয়। এক পর্যায়ে পুলিশ আন্দোলনকারীদের উপর লাঠিচার্জ করে। এ সময় বাংলাদেশ গার্মেন্টস শ্রমিক মুক্তি আন্দোলনের নেতা শবনম হাফিজ, গণসংহতি আন্দোলনের সমন্বয়ক জুনায়েদ সাকি, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক সায়দিয়া গুলরুক ও সামিনা লুত্ফা, বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টির সাধারণ সম্পাদক সাইফুল হক প্রমুখ আহত হন। আন্দোলনকারীরা অভিযোগ করেন, পুলিশ ভবন থেকে অনশনরতদের চিকিত্সকদের বের করে দিয়েছে। তারা সেখানে চিকিত্সা সেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছে। আজো বেতন দেয়া হবে এদিকে গতকাল সকালে বেতন নিতে বিজিএমইএ প্রাঙ্গণ প্রায় ফাঁকা থাকলেও দুপুরের পর থেকে শ্রমিকের সংখ্যা বাড়তে থাকে। পুলিশ তালা খুলে দেয়ার পর বেশকিছু শ্রমিককে বেতন নিতে দেখা গেছে। দুপুর একটা পর্যন্ত ৪২ জন শ্রমিক বেতন নিলেও বিকাল পর্যন্ত তা তিনশ ছাড়িয়ে যায়। তবে শ্রমিকদের বড় একটি অংশ এখনো বেতনের টাকা তুলতে বিজিএমইএতে আসেননি। তারা বলেন, আমরা কাজ করেছি কারখানায়। বেতন কেন বিজিএমইএ ভবনে গিয়ে নেব? আমাদের বেতন এখানে এসে দিতে হবে। বিজিএমইএ-এর পক্ষ থেকে গতকাল বলা হয়েছে, আজ বৃহস্পতিবারও বেতন দেয়া হবে। গুজব ছড়িয়ে অসন্তোষের চেষ্টা চলছে : বিজিএমইএ এদিকে শ্রমিকদের অনশনকে পুঁজি করে এ খাতে অসন্তোষের চেষ্টা চলছে বলে অভিযোগ তুলেছেন বিজিএমইএ সভাপতি আতিকুল ইসলাম। তিনি বলেন, শ্রমিকদের বেতন নিতে আসতে দেয়া হচ্ছে না। তালাবদ্ধ করে আটকে রাখা হয়েছে। যশোর অফিস জানায়, তোবা শ্রমিকদের বকেয়া বেতন-বোনাস পরিশোধসহ ৫ দফা দাবির প্রতি সংহতি জানিয়ে যশোরে গণতান্ত্রিক বাম মোর্চার উদ্যোগে প্রতীকী অনশন কর্মসূচি পালিত হয়েছে। গতকাল বুধবার বেলা ১১টা থেকে ঘণ্টাব্যাপী অনশন কর্মসূচি পালিত হয়।