লঞ্চে অতিরিক্ত যাত্রী বহন করার বিষয়টি পর্যবেক্ষণ করেন পরিবহন ইন্সপেক্টর। মাওয়া ও কাওরাকান্দি ঘাটে এ বিষয়টি তদারকি করার জন্য দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা হলেন পরিবহন ইন্সপেক্টর জাহাঙ্গীর ভূঁইয়া। ঘটনার সময় পিনাক-৬ লঞ্চটি প্রায় ৩শ’ যাত্রী নিয়ে মাওয়ার উদ্দেশে রওনা দেয়। ঐ সময় কাওরাকান্দি ঘাটে পরিবহন ইন্সপেক্টর উপস্থিত ছিলেন না। অথচ লঞ্চ দুর্ঘটনার পর এই জাহাঙ্গীর ভূঁইয়া বাদি হয়ে লঞ্চের মালিককে প্রধান আসামি করে লৌহজং থানায় হত্যা মামলা করেছেন।
অন্যদিকে এই মামলায় কাওরাকান্দি ঘাটের ইজারাদার আব্দুল হাই সিকদারকে আসামি করার প্রতিবাদে গতকাল এই ঘাটের শ্রমিকরা সকাল থেকে দুপুর পর্যন্ত ধর্মঘট করে। ধর্মঘট করা শ্রমিকরা জানান, ইজারাদার আব্দুল হাই লঞ্চের মালিক নন। লঞ্চে অতিরিক্ত যাত্রী নেয়া হচ্ছে কি না এ বিষয়টি পর্যবেক্ষণ করে বিআইডব্লিউটিএ’র একজন ইন্সপেক্টর। অথচ নিজের দায় এড়ানোর জন্য পরিবহন ইন্সপেক্টর জাহাঙ্গীর ভূঁইয়া বাদি হয়ে এই মামলা করেন। মামলায় শত্রুতামূলক ঘাটের ইজারাদারের নাম ঢুকিয়ে দেয়া হয়েছে।
এদিকে এ ব্যাপারে বিআইডব্লিউটিএ মাওয়া বন্দর কর্মকর্তা মহিউদ্দিন জানান, জাহাঙ্গীর ভূঁইয়া মাওয়া ঘাটের জন্য পরিবহন ইন্সপেক্টর হিসাবে নিয়োগপ্রাপ্ত। কিন্তু কাওরাকান্দি ও সুরেশ্বর ঘাটে কোন পরিবহন ইন্সপেক্টর না থাকায় তিনি অতিরিক্ত দায়িত্ব পালন করেন। তিনি আরো জানান, জনবল সংকটের কারণে বিআইডব্লিউটিএ একজন পরিবহন ইন্সপেক্টরকে দিয়ে কয়েকটি ঘাটের দায়িত্ব পালন করা হচ্ছে।
এ ব্যাপারে মাওয়া ঘাটের পরিবহন ইন্সপেক্টর জাহাঙ্গীর ভূঁইয়া জানান, তিনি মাওয়া ঘাটের পরিবহন ইন্সপেক্টর। কাওরাকান্দি ঘাটের পরিবহন ইন্সপেক্টর হিসাবে তিনি দায়িত্ব পালন করছেন না। দুর্ঘটনাটি মাওয়ায় হয়েছে বলেই তিনি এই মামলার বাদি হয়েছেন।
কাওরাকান্দি ঘাটের ইজারাদার আব্দুল হাই সিকদার বলেন, লঞ্চে অতিরিক্ত যাত্রী নেয়া হচ্ছে কি না- এ বিষয়টি ঘাট ইজারাদার কখনই নজর দেয় না। এটি বিআইডব্লিউটিএ’র কাজ। তার বিরুদ্ধে মামলা করা হয়েছে বলেই ঘাট শ্রমিকরা ধর্মঘট করেছে।
উল্লেখ্য, গত সোমবার পিনাক-৬ লঞ্চ ডুবে যাওয়ার পর লঞ্চের মালিক আবু বক্কর সিদ্দিক কালু মিয়া, চালক নবীসহ ৬ জনের বিরুদ্ধে হত্যা মামলা করে বিআইডব্লিউটিএ’র পরিবহন ইন্সপেক্টর জাহাঙ্গীর ভূঁইয়া।
