বাংলাদেশজুড়েই ছড়িয়ে-ছিটিয়ে আছে অসংখ্য প্রাকৃতিক আর মনুষ্যনির্মিত দর্শনীয় স্থান। মূলত এই স্থানগুলোর কথা মাথায় রেখেই প্রতি শুক্রবারের আয়োজনে থাকছে একটি করে দর্শনীয় স্থানের বিবরণ। আর আজ এতে প্রকাশিত হলো শেরপুরের গজনী অবকাশ কেন্দ্র-এর কথা।
দিগন্ত বিস্তৃত ছোট-বড় পাহাড়ের সারি আর তার মাঝে সবুজের সমারোহ যাদের মনকে ব্যকুল করে তোলে তাদের জন্য ঘুরতে যাওয়ার একটি চমত্কার স্থান হতে পারে শেরপুর জেলার সীমান্তবর্তী উপজেলা ঝিনাইগাতীতে অবস্থিত গজনী অবকাশ কেন্দ্র। ভারত-বাংলাদেশ সীমান্তের খুব কাছে এ অবকাশ পর্যটন কেন্দ্র গারো পাহাড়ের ঠিক মধ্যস্থলে হওয়ায় চারপাশে উঁচু নিচু পাহাড়, টিলা, ঝরনা আর সবুজের সমারোহ দেখতে প্রতিদিন দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে অসংখ্য পর্যটকের আগমন ঘটে। কাংশা ইউনিয়নে অবস্থিত এই অবকাশ কেন্দ্রটিতে যাবার পথে রাংটিয়া ছেড়ে কিছুদূর এগুনোর পর থেকেই চোখে পড়ে রাস্তার দু’পাশে ছায়া হয়ে দাঁড়িয়ে থাকা অসংখ্য শাল বৃক্ষ। আর সবুজে ঘেরা এই পথটিই এক সময় গিয়ে থামে একটি হূদের সামনে। মূলত পাহাড়ি ঝরনার জল আটকে রেখেই তৈরি করা হয়েছে কৃত্রিম এই হূদটি। হূদের ঠিক মাঝখানে থাকা কৃত্রিম দ্বীপে যেতে পর্যটকদের পেরিয়ে যেতে হয় ঝুলন্ত একটি সেতু। অবকাশ কেন্দ্র ঘুরে বেড়ানোর মাঝে এই ঝুলন্ত সেতু আর সেতুর নিচের নিস্তরঙ্গ জলরাশি যেমন সবাইকে মুগ্ধ করে তেমনি মুগ্ধতার সীমাকে আরেকটু বাড়িয়ে নিতে অনেকে হূদের মাঝে নৌ-ভ্রমণের কাজটি সেরে নেন প্যাডেল চালিত নৌকা বা ময়ূরপঙ্খী নৌকায় চড়ে। এ ছাড়া এই পর্যটন কেন্দ্রে রয়েছে ২৫ ফুট উঁচু ওয়াচ টাওয়ার, ডাইনোসর, জিরাফ ও জলপরীর প্রতিকৃতি, ড্রাগন গুহাপথ, পাহাড়, টিলা, ঝরনা, পদ্মসিঁড়ি, মুক্তিযোদ্ধের স্মৃতিস্তম্ভ, শিশু পার্ক, ও মিনি চিড়িয়াখানা। ওয়াচ টাওয়ারের উপরে উঠে চারদিকে তাকালেই চোখে পড়ে ছোট ও মাঝারি অসংখ্য পাহাড়। তবে বাংলাদেশ অংশের এই পাহাড়গুলো আকৃতিতে তুলনামূলক ছোট হলেও দিগন্তে আরেকটু দৃষ্টি বিস্তৃত করলে নজর কাড়ে সীমানার ওপারে ভারতের মেঘালয়ে অবস্থিত বড় পাহাড়গুলোও। অন্যদিকে এখানে প্রধানত যেসব বৃক্ষের দেখা মেলে তার মধ্যে শাল বা গজারী ছাড়াও রয়েছে সেগুন, মহুয়া, আকাশমনী, ইউক্যালিপটাস ও মিলজিয়ামসহ নানা জাতের গাছ। শেরপুর শহর থেকে গজনী অবকাশ কেন্দ্র প্রায় ৩০ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত। শেরপুর থেকে সরাসরি মাইক্রোবাসে কিংবা বাসে রাংটিয়া হয়ে সেখান থেকে টেম্পো, সিএনজি, রিক্সা বা ভ্যানে করে এখানে আসা যায়।
