নদী ভাঙ্গনে বিলীন হচ্ছে সিলিকা সমৃদ্ধ দুর্গাপুর

আপডেট : ০৭ আগস্ট ২০১৪, ২২:৩৬
সোমেশ্বরী নদী ভাঙ্গনে বিলীন হচ্ছে সাদামটি, সিলিকা বালি এবং সোমেশ্বরীর কয়লা সমৃদ্ধ জনপদ দুর্গাপুর উপজেলা। নদী ভাঙ্গনে মূল্যবান প্রাকৃতিক সম্পদ সমৃদ্ধ জনপদ বিলীন হয়ে গেলেও পানি উন্নয়ন বোর্ড এ ব্যাপারে এখন পর্যন্ত কোন পদক্ষেপই গ্রহণ করেনি। সোমেশ্বরী নদীর ভাঙ্গনে শিবগঞ্জ, বিজয়পুর, কুল্লাগড়াসহ বিভিন্ন এলকা প্রতিবছরই বিলীন হচ্ছে। এছাড়া বিজয়পুর-শিবগঞ্জ সড়কটির বেশিরভাগই নদীগর্ভে বিলীন হয়ে গেছে। সোমেশ্বরী নদী ভাঙ্গন অব্যাহত থাকলে আগামী কয়েক বছরের মধ্যেই বিলীন হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে দুর্গাপরের কুল্লাগড়া ইউনিয়ন ও পৌর এলাকার অনেক অংশ। অথচ সাদামাটি, সিলিকা বালি এবং সোমেশ্বরীর কয়লা ভিত্তিক পণ্যের সাথে জড়িয়ে আছে শত শত শ্রমিক-কর্মচারির জীবন-জীবিকা। তারা সেখানে সাদামাটি কাটার কাজ থেকে শুরু করে বালি উত্তোলন এবং কয়লা সংগ্রহ করে জীবিকা নির্বাহ করে থাকে। এছাড়া নদী থেকে তোলা হয় নির্মাণ সামগ্রী হিসাবে পরিচিত সোমেশ্বরী নদীর সিলিকা বালি। এই ধরনের মূল্যবান সম্পদের কল্যাণে উপকৃত হচ্ছে এলাকার নিম্ন আয়ের লোকজন। কিন্তু যথাযথ পদক্ষেপ না নেয়ায় নদী ভাঙ্গনে বিলীন হয়ে যাচ্ছে দুর্গাপুর জনপদ। নদীগর্ভে হারিয়ে যাচ্ছে বাজার এবং সড়ক। ভাঙ্গনে ছোট হয়ে আসছে দুর্গাপুরের পরিধি। ভিটেমাটি শূন্য হয়ে পড়ছে নদী তীরবর্তী লোকজন। পানি উন্নয়ন বোর্ড এ ব্যাপারে এখন পর্যন্ত কোন পদক্ষেপই গ্রহণ করেনি। তাদের এক কথা, টাকা বরাদ্দ নেই। তাই নদী ভাঙ্গন রোধ করা যাচ্ছে না। স্থানীয় সংসদ সদস্য ছবি বিশ্বাস বলেন, নদী ভাঙ্গন রোধে ব্যবস্থা নেয়া হবে। দুর্গাপুরকে নদী ভাঙ্গনের হাত থেকে রক্ষার জন্য সরকারের পক্ষ হতে ব্যবস্থা নিতে তিনি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সাথে কথা বলা হয়েছে। দুর্গাপুর পৌরসভার সাবেক মেয়র শুভেন্দু সরকার পিন্টু জানান, সোমেশ্বরী নদী যেভাবে দুর্গাপুরকে গ্রাস করছে এধারা অব্যাহত থাকলে আগামী ১০ বছরের মধ্যে দুর্গাপরের কুল্লাগড়া ইউনিয়ন ও পৌর এলাকার অনেক অংশ বিলীন হয়ে যাবে। উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান এমদাদুল হক খান বলেন, ভাঙ্গন রোধ করতে না পারলে পৌর এলাকাসহ উপজেলার অনেক এলাকা নদীগর্ভে বিলীন হয়ে যাবে।