যাত্রী নিরাপত্তায় প্রয়োজনীয় সরঞ্জাম না থাকা সত্ত্বেও অতিরিক্ত যাত্রী পরিবহন করছে ঢাকা-বরিশালসহ দক্ষিণাঞ্চলের ৩৮টি রুটের লঞ্চগুলো। এদিকে, বিআইডব্লিউটিএ’র রুট পারমিট উপেক্ষা করে পুনরায় যাত্রী জিম্মির রোটেশন পদ্ধতিতে লঞ্চ চলাচল শুরু হয়েছে। ঈদ উপলক্ষে গত ২৬ জুলাই থেকে ৫ আগস্ট পর্যন্ত স্পেশাল সার্ভিস দিয়েছিল নৌযানগুলো। ঈদ শেষে যাত্রীরা কর্মস্থলে ফিরে যাওয়ার পর ফের শুরু হয়েছে সেই রোটেশন পদ্ধতি। চলাচল করছে ফিটনেস বিহীন নৌ-যানও। তাই ঝুঁকি নিয়ে দক্ষিণাঞ্চলের ৩৮ রুটের যাত্রীরা চলাচল করছে।
নদীবেষ্টিত দক্ষিণাঞ্চলের মানুষের ঢাকার সঙ্গে যোগাযোগের সহজ মাধ্যম হচ্ছে নৌপথ। এই সুযোগে দক্ষিণাঞ্চলের যাত্রীদের জিম্মি করে রেখেছে লঞ্চ মালিকরা। বিগত জোট সরকারের আমলে গিয়াসউদ্দিন আল মামুন লঞ্চ মালিকদের সংগঠন যাত্রী পরিবহন সংস্থার (যাপ) সভাপতি থাকা অবস্থায় চালু করেন এ রোটেশন প্রথা। চাহিদার অর্ধেক আবার কোন রুটে এক তৃতীয়াংশ নৌ-যান পরিচালনার নিয়ম চলে আসছে সেই থেকে।
জানা গেছে বর্তমানে ঢাকা-বরিশাল রুটে ১৩ লঞ্চের রুট পারমিট রয়েছে। ঢাকা ও বরিশাল উভয় প্রান্ত থেকে প্রতিদিন ৬/৭টি করে লঞ্চ পরিচালনার কথা থাকলেও চলাচল করে ৩/৪টি করে। প্রতিদিন ৬টি লঞ্চ যাত্রী পরিবহন না করে ঢাকার সদরঘাটে নোঙ্গর করে রাখা হয়। যাত্রীরা বাধ্য হয়েই নির্দিষ্ট লঞ্চে যাতায়াত করেন। ঢাকা- বরিশালের মতই ভোলা, ঝালকাঠী, পটুয়াখালী, পিরোজপুর সহ ৩৮টি রুটে চলছে এ যাত্রী জিম্মি করে রোটেশনের নামে লঞ্চ মালিকদের রমরমা ব্যবসা।
ধারণ ক্ষমতার দ্বিগুণ- তিনগুণ যাত্রী নিয়ে অবৈধ রোটেশন পদ্ধতিতে লঞ্চ পরিচালনার বিরুদ্ধে বহু আন্দোলন সংগ্রাম শেষে আদালত পর্যন্ত গড়িয়েছে। কিন্তু প্রভাবশালী লঞ্চ মালিকরা কোন কিছুরই তোয়াক্কা করছেন না। এসব নৌযানে নিয়ম অনুযায়ী নেই জীবন রক্ষার সরঞ্জাম।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, এমভি পারাবাত-১১ লঞ্চের যাত্রী ধারণের ক্ষমতা ১ হাজার ১২ জন। লঞ্চটিতে বয়া থাকার কথা ২৫৩টি। আছে ১১৬টি। ২২টি অগ্নিনির্বাপক যন্ত্রের মধ্যে মাত্র ১২টি থাকলেও তার মধ্যে তিনটি বিকল।
এমভি সুরভী-৭ লঞ্চের যাত্রী ধারণের ক্ষমতা ৮৯০ জন। বয়া ২শ’ টির পরিবর্তে আছে ১০৫টি। ফায়ার বাকেট ১৮টির মধ্যে তিনটি বিকল। এ লঞ্চের কোথাও বালুভর্তি বাক্সের দেখা মেলেনি। একই অবস্থা অন্য লঞ্চগুলোরও। প্রত্যেক যাত্রীর জন্য একটি করে লাইফ জ্যাকেট থাকার কথা থাকলেও ২-৩টি লঞ্চ ছাড়া অন্য লঞ্চগুলোতে একটি লাইফ জ্যাকেটেরও খোঁজ মেলেনি। নিরাপত্তা সরঞ্জাম না থাকলেও লঞ্চগুলো ধারণ ক্ষমতার দ্বিগুণ- তিনগুণ যাত্রী পরিবহন করছে। দক্ষ মাস্টার-সুকানির পরিবর্তে লস্কর দিয়ে মাঝে মধ্যে লঞ্চ চালাতে দেখা যায়। ভরা বর্ষায় মারাত্মক ঝুঁকি নিয়ে এসব লঞ্চ চলাচল করলেও কর্তৃপক্ষ নির্বিকার। ঢাকা- বরিশাল রুট সহ দক্ষিণাঞ্চলের ৩৮টি নৌ-রুটে চলাচলকারী ৫৩টি লঞ্চের চিত্র প্রায় একই রকম।
বিআইডব্লি¬উটিএ’র উপ-পরিচালক মো. আলমগীর কবির জানান, নদীপথে যাত্রীদের নিরাপত্তার জন্য লাইফ বয়া, ফায়ার বাকেট, অগ্নিনির্বাপক যন্ত্র, বালুভর্তি বাক্স, বালতি এবং হস্তচালিত পানির পাম্পের ব্যবস্থা রাখা অপরিহার্য। এ ব্যাপারে প্রতিটি লঞ্চের যাত্রী ধারণের ক্ষমতা অনুযায়ী সুনির্দিষ্ট নির্দেশনা রয়েছে। বাধ্যতামূলকভাবে সমুদ্র পরিবহন অধিদপ্তর এ নৌযানগুলোতে জীবন রক্ষাকারী সরঞ্জাম রাখার নির্দেশ দিলেও তা মানছেন না লঞ্চ মালিকরা।
অভিযোগ রয়েছে, সমুদ্র পরিবহন অধিদপ্তরের সার্ভে বিভাগকে উেকাচ দিলে সরঞ্জাম না থাকলেও নৌযান চলাচল করতে পারে।
সমুদ্র পরিবহন অধিদপ্তর বরিশালের ইঞ্জিনিয়ারিং ও সার্ভেয়ার (চলতি দায়িত্ব) মো. মঈনুদ্দিন জুলফিকার জানান, বড় লঞ্চগুলো অর্থাত্ ঢাকা-বরিশাল রুটের লঞ্চগুলো সার্ভে করে ঢাকা সমুদ্র পরিবহন অধিদপ্তর। যার কারণে এ লঞ্চগুলোর বিরুদ্ধে আমরা কোন ব্যবস্থা নিতে পারি না। আমরা শুধু ছোট লঞ্চগুলোতে সার্ভে করে সনদ দিয়ে থাকি।
