ইসরাইলের যুদ্ধবিরতি বৃদ্ধির প্রস্তাবে হামাসের না

আপডেট : ০৭ আগস্ট ২০১৪, ২২:৩৬
ফিলিস্তিনের গাজা উপত্যকায় এক মাস ধরে সহিংসতা চলার পর তিন দিনের চলমান যুদ্ধ বিরতি বাড়ানোর প্রস্তাব দিয়েছে ইসরাইল। গাজা নিয়ন্ত্রণকারী হামাস জানিয়েছে, তাদের দাবি মানা না হলে তারা এই যুদ্ধবিরতির প্রস্তাবে সাড়া দেবে না। মিসরের মধ্যস্থতায় কায়রোতে দুই পক্ষের প্রতিনিধিদের মধ্যে যে আলোচনা চলছে সেখানে এসব কথা উঠে এসেছে। গত মঙ্গলবার থেকে গাজায় তিন দিনের যুদ্ধবিরতিতে রাজি হয় উভয়পক্ষ। খবর বিবিসি ও আল-জাজিরার। এদিকে জাতিসংঘের মহাসচিব বান কি মুন সমালোচনা করে বলেছেন ইসরাইল বারবার জাতিসংঘের বিভিন্ন কার্যক্রমের ওপর হামলা চালিয়ে আন্তর্জাতিক আইন ভঙ্গ করেছে। জাতিসংঘ বলছে, ফিলিস্তিনের যে এক হাজার আটশ মানুষ নিহত হয়েছে তার মধ্যে এক হাজার তিনশ জনই বেসামরিক লোক। এর মধ্যে চারশো’র বেশি শিশু। ইসরাইলের একজন জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা জানিয়েছেন, তিন দিনের যে যুদ্ধ বিরতি শুক্রবার (আজ) শেষ হচ্ছে সেটা বাড়াতে প্রস্তুত তারা। তবে ফিলিস্তিনের একজন নেতা মুসা আবু মারজুক তার টুইটারে লিখেছেন সেখানে অস্ত্রবিরতি বাড়ানোর ব্যাপারে কোন চুক্তি হয়নি। হামাসের নেতা ইসমাইল রেদওয়ান জানিয়েছেন, যুদ্ধবিরতি আর বাড়ানো হবে না। তারা আমাদের দাবির প্রতি শ্রদ্ধা জানায়নি। মিসরের মধ্যস্থতায় কায়রোতে যে আলোচনা চলছে সেখানে ফিলিস্তিনের প্রধান কিছু দাবির মধ্যে রয়েছে ২০০৭ সাল থেকে গাজার ওপর যে অবরোধ রয়েছে যেটা তুলে নেওয়া, সীমান্ত খুলে দেওয়া, আর গাজা পূণর্গঠনে আন্তর্জাতিক তহবিল গঠন করা এবং আটক ফিলিস্তিনিদের মুক্তি দেওয়া। এদিকে ৭২ ঘণ্টা যুদ্ধবিরতি চলাকালীন প্রথমবারের মত বেসামরিক লোক হতাহত নিয়ে মুখ খুলেছেন ইসরাইলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু। গত বুধবার জেরুজালেমে এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি সমস্ত সাধারণ মানুষ নিহত হওয়ার জন্য হামাসকে দায়ী করেন। তিনি অভিযোগ করেন, হামাস সাধারণ মানুষকে মানব ঢাল হিসেবে ব্যবহার করেছে। তিনি বলেন, অবশ্যই সবাই বলেছে যে ইসরাইলের আত্মরক্ষার অধিকার আছে এবং যারা এটা বলেছে তাদের আমরা প্রশংসা করি। কিন্তু এমন কিছু মানুষ আছে যারা হামাসের হামলাকে দায়মুক্ত করতে চাইছে এই বলে যে তারা স্কুল, হাসপাতাল ও মসজিদ থেকে হামলা করছে তাই আমাদের এর জবাব দেওয়া উচিত হবেনা। সেটা অবশ্যই একটা নৈতিক ভুল। কারণ তারা সাধারণ মানুষকে মানব ঢাল হিসেবে ব্যবহার করেছে।