ধর্মঘটকে হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করবেন না :স্বাস্থ্যমন্ত্রী

আপডেট : ০৭ আগস্ট ২০১৪, ২২:৩৬
বাংলাদেশের ইতিহাসে প্রথমবারের মতো রাষ্ট্রীয় অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে উত্সবমুখর পরিবেশে ৬ হাজার ১৫১ জন চিকিত্সক সরকারি চাকরিতে যোগদান করেছেন। ৩৩তম বিসিএস-এর মাধ্যমে তারা নিয়োগ পাওয়ার যোগ্যতা অর্জন করেন। গতকাল বৃহস্পতিবার বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে আয়োজিত এ যোগদান ও ওরিয়েন্টশন অনুষ্ঠানে স্বাস্থ্যমন্ত্রী মোহাম্মদ নাসিম আবারো চিকিত্সকদের কমপক্ষে দুই বছর গ্রামে থেকে সাধারণ মানুষকে সঠিকভাবে সেবা দেয়ার আহ্বান জানিয়ে বলেন, স্বাস্থ্য খাতে কোন অনিয়ম ও দুর্নীতিকে প্রশ্রয় দেয়া হবে না। নবনিযুক্ত চিকিত্সকদের উদ্দেশে স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, এবারই প্রথম আপনারা নিজেদের পছন্দমতো জায়গায় পোস্টিং পেতে যাচ্ছেন। যদি কোন স্বামী ও স্ত্রী দুই জনই চিকিত্সক হন, তাদের দুই জনকেও এক জায়গায় পোস্টিং দেয়ার ব্যবস্থা করেছি। এক্ষেত্রে কোনো চেষ্টা-তদবির করতে হবে না। আপনাদের জীবনবৃত্তান্ত দেখে যার যেখানে বাড়ি, সেখানে বা তার পার্শ্ববর্তী এলাকায় কাজ করার সুযোগ দেয়া হবে। গ্রামাঞ্চলে যাদের কাজের রেকর্ড ভালো, তাদের মূল্যায়ন করা হবে। এক সপ্তাহের মধ্যে এই ডাক্তারদের পদায়ন করা হবে জানিয়ে স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, যাদের যে স্থানে পদায়ন করা হবে, আগামী দুই বছর বাধ্যতামূলক তাদের সেই কর্মস্থলে থেকে সাধারণ মানুষকে চিকিত্সা সেবা দিতে হবে। গ্রামে দুই বছর থাকার পর ভালো জায়গায় পোস্টিং ও উচ্চ শিক্ষার সুযোগ দেয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়ে স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, চিকিত্সকদের সুরক্ষা দেয়ার দায়িত্ব সরকারের। চিকিত্সকরা কর্মস্থলে উপস্থিত থেকে যেন নির্বিঘ্নে সেবা দিতে পারেন সেজন্য শীঘ্রই আইন প্রণয়ন করা হবে। তিনি বলেন, চিকিত্সকরা ইচ্ছাকৃতভাবে কোন রোগীর ক্ষতি করতে পারে- এটা আমি বিশ্বাস করি না। তবে ভুল যে কেউ করতেই পারে। ফেরেস্তা আর শয়তান ছাড়া কেউ ভুল করে না। তাই ভুলের জন্য কেন ডাক্তারকে আঘাত করা হবে? চিকিত্সকদের উদ্দেশে মোহাম্মদ নাসিম বলেন, প্রতিবাদের অস্ত্র হিসাবে ধর্মঘটকে হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করবেন না। কথায় কথায় ধর্মঘট ডাকবেন না। রোগীকে জিম্মি করে কোন কিছু করা আমি সমর্থন করি না। ছোট-খাটো সমস্যা হতে পারে, তবে তা আলোচনার মাধ্যমে সমাধান করতে হবে। ডাক্তারদের উপস্থিতিতে পুরো বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্র কানায় কানায় পূর্ণ হয়ে ওঠে। নিয়োগ পাওয়া ডাক্তারদের সঙ্গে তাদের আত্মীয়-স্বজন ও অভিভাবকরাও আসেন। সেখানে রীতিমত উত্সবমুখর পরিবেশের সৃষ্টি হয়। স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের সচিব এম এম নিয়াজ উদ্দিনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে আরো বক্তব্য রাখেন- স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী জাহিদ মালেক, সাবেক স্বাস্থ্যমন্ত্রী অধ্যাপক ডা. আ ফ ম রুহুল হক, স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক অধ্যাপক ডা. দীন মো. নূরুল হক, বিএমএ মহাসচিব অধ্যাপক ডা. ইকবাল আর্সনাল, স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব এএম শামছুদ্দিন আজাদ চৌধুরী প্রমুখ। উদ্বোধনী অনুষ্ঠানের দ্বিতীয় সেশনে নতুন চিকিত্সকদের অটিজম বিষয়ে ধারণা দেন বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ডা. প্রাণ গোপাল দত্ত।