হাতে লেখা, টাইপ করা ও ছাপার হরফের লেখাকে যন্ত্রে পাঠযোগ্য লেখায় রূপান্তর করতে যে সফটওয়্যার ব্যবহার করা হয় তার নাম অপটিক্যাল ক্যারেক্টার রিকগনিশন বা ওসিআর সফটওয়্যার। ওসিআর ছবিতে সংরক্ষিত অক্ষরও চিনতে পারে। এতে ছবির অক্ষরকে স্ক্যান করে অথবা ছবি তুলে টেক্সট ফাইলে পরিবর্তন করা যায়। ওসিআর দিয়ে বাংলা ভাষার নতুন, পুরনো সব প্রকাশনা খুব সহজেই স্থায়ী সংরক্ষণ করা যাবে। ইংরেজিসহ বেশ কয়েকটি ভাষায় নিখুঁত ওসিআর থাকলেও এতোদিন বাংলায় তা ছিল না। তবে এবার বাংলাদেশের একদল মেধাবী তরুণ তৈরি করেছে ওসিআর। গতকাল বৃহস্পতিবার রাজধানীর সিরডাপ মিলনায়তনে সফটওয়্যারটি উন্মুক্ত করলো টিম ইঞ্জিন। আগামী ১৫ আগস্ট বাংলা ভাষাভাষীদের জন্য পুঁথি নামের এই সফটওয়ারটি সকলের জন্য বাজারে আনার আনুষ্ঠানিক ঘোষণাও দেয়া হয়। সেটি হলে চলতি মাসেই চালু হবে প্রথম বাংলা ওসিআর।
টিম ইঞ্জিন আয়োজিত অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আব্দুল মুহিত বলেছেন, এটি বাংলা ভাষার জন্য একটি মাইলফলক। তার মতে, শিক্ষার অধিকার বাস্তবায়নে পুঁথির মতো ছোট ছোট সফলতা বাংলাদেশকে বিশ্বের দরবারে আরো ভালো অবস্থানে নিয়ে যাবে। আর এভাবে বাংলাদেশ কাঙ্ক্ষিত ডিজিটাল বাংলাদেশে পরিণত হবে।
বিশেষ অতিথির বক্তব্যে তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী জুনাইদ আহমেদ পলক বলেন, ৩৭ তম দেশ হিসাবে বাংলাদেশে ওসিআর পুঁথি উন্মুক্ত করা হলো। বাংলাদেশের তরুণরা খুব অল্প সময়েই এই সফটওয়্যারটি বানিয়েছেন। প্রতিবেশী দেশ ভারত গত ২৫ বছর ধরে চেষ্টা করেও একটি ওসিআর বানাতে পারেনি।
তবে তথ্য প্রযুক্তিখাত নিয়ে সরকারের আন্তরিকতা থাকলেও আশানুরূপ কাজ হচ্ছে না বলে সমালোচনা করেন প্রযুক্তিবিদ মোস্তফা জব্বার। তিনি বলেন, ওসিআরের মতো উদ্যোগ সরকারের পক্ষ থেকে নেয়া উচিত ছিল, সরকার তা করতে পারেনি।
অনুষ্ঠানে আরো বক্তব্য রাখেন টিম ইঞ্জিনের ব্যবস্থাপনা পরিচালক সামিরা জুবেরী হিমিকা, বেসিসের সিনিয়র ভাইস প্রেসিডেন্ট রাসেল টি আহমেদ, অ্যামটবের সাধারণ সম্পাদক টিআইএম নুরুল কবীরসহ আরো অনেকে।
