বাবুই পাখিরে ডাকি বলিছে চড়াই, কুঁড়েঘরে থেকে করো শিল্পের বড়াই। আমি থাকি মহাসুখে অট্টালিকার পরে, তুমি কত কষ্ট পাও রোদ বৃষ্টি ঝড়ে...কবি রজনীকান্ত সেনের কালজয়ী ছড়াটির নায়ক গ্রাম-বাংলার এ নিপুণ বাসা তৈরির কারিগর বাবুই পাখি আজ বিলুপ্তির পথে। সিলেটের ওসমানী নগরসহ আশপাশের উপজেলা এলাকায় বাবুই পাখির দৃষ্টিনন্দন বাসা আজ আর চোখে পড়ে না। কালের বিবর্তনে হারিয়ে যাচ্ছে এ শিল্পী, স্থপতি এবং সামাজিক বন্ধনের কারিগর বাবুই পাখি ও তার বাসা।
বাবুই একধারে শিল্পী, স্থপতি এবং সামাজিক বন্ধনের প্রতিচ্ছবি। বাবুই পাখির বাসা উল্টানো কলসির মতো দেখতে। বাসা বানানোর জন্য বাবুই খুবই পরিশ্রম করে। ঠোঁট দিয়ে ঘাসের আস্তরণ সারায়। যত্ন করে পেট দিয়ে ঘষে (পালিশ করে) গোল অবয়ব মসৃণ করে। শুরুতে দুটি নিম্নমুখী গর্ত থাকে। নিচের গর্তটি ডিম রাখার জায়গা, অন্যদিকটি লম্বা করে প্রবেশ ও প্রস্থান পথ হিসেবে রাখা হয়। কথিত আছে রাতে বাসায় আলো জ্বালানোর জন্য বাবুই জোনাকী ধরে এনে গোঁজে।
বাবুই দক্ষিণ এশিয়ার বাংলাদেশ, ভারত, নেপাল ও পাকিস্তান ছাড়া পৃথিবীর আর কোনো দেশে নেই। মানবাধিকার কর্মী শামছুল ইসলাম শামিম ও শিপন আহমদ বলেন- পাখিদের মধ্যে চুড়ই পাখির বাসা খুব সুন্দর কিন্তু আজ সমাজের মানুষদের অসচেতনতার জন্য হারিয়ে যাচ্ছে এ শিল্পী পাখিদের ঐতিহ্য। একসময় নতুন প্রজন্ম এ পাখিদের চিনতেও কষ্ট হবে। তাই আমাদের উচিত কোথাও চড়ুই পাখির বাসা দেখলেও তাদের সর্বাত্মক নিরাপত্তার সৃষ্টি করে পাখিদের অবাধ বিচরণ গড়ে তোলা।
