রাজশাহীর বাগমারা উপজেলায় এসিল্যান্ড পদ দীর্ঘদিন শূন্য থাকার কারণে এই অফিসের কতিপয় কর্মচারী ও দালালদের বিরুদ্ধে বিভিন্ন অনিয়মের অভিযোগ পাওয়া গেছে।
জমি খারিজ, আপিল কেস, পাবলিক পিটিশন, অর্পিত সম্পত্তির নবায়ন ও খারিজ আপিলের কার্যক্রমসহ বিভিন্ন কাজকর্মের ব্যাপক সমস্যা সৃষ্টি হচ্ছে। এছাড়াও এসিল্যান্ডের অবর্তমানে এই অফিসে কাজ করতে আসা লোকজনেরা দালালচক্রের হাতে জিম্মি হয়ে পড়েছে। লোকজন ভূমি অফিসে নামজারি রেজিষ্ট্রি ও জমি খারিজ করতে গেলে কতিপয় দালালদের পাল্লায় পড়ে চরম দুর্ভোগের শিকার হতে হচ্ছে।
বাগমারা উপজেলা ভূমি অফিসের সহকারী কমিশনার (ভূমি) সারোয়ার জাহান গত ২০১৩ সালের নভেম্বর মাসে অন্যত্র বদলি হওয়ার সুবাধে জমা সহকারী শহিদুল ইসলাম ও চেইনম্যান রহিমা খাতুন ক্ষমতার দাপট দেখিয়ে কতিপয় দালাল দিয়ে জমি খারিজ, আপিল কেস, পাবলিক পিটিশন, অর্পিত সম্পত্তির নবায়ন ও খারিজ আপিলের কার্যক্রমসহ বিভিন্ন কাজকর্মে ব্যাপকহারে টাকা হাতিয়ে নিচ্ছে।
তাদের চাহিদা মত টাকা দিতে পারলে তার জমি খারিজ হচ্ছে। আর টাকা দিতে না পারলে তার জমি বছরের পর বছর ঘুরেও খারিজ হয় না বলে হামিরকুত্সার আব্দুর রহিম, একই গ্রামের এমদাদুল হক, কাচারীকোয়ালীপাড়ার আকরাম হোসেন এবং একই গ্রামের আব্দুল হামিদসহ বিভিন্ন এলাকার শত শত লোকজন ওই এসিল্যান্ড অফিসে বিভিন্ন কাজের জন্য দীর্ঘদিন ধরে ধরনা ধরে রয়েছেন।
হামিরকুত্সা ইউপি’র সদস্য মঞ্জুর রহমান অভিযোগ করে বলেন, এসিল্যান্ড অফিসের চেইনম্যান রহিমা খাতুন ইচ্ছা মত ফাইল আটকিয়ে টাকা আদায় করে থাকেন। সে মন্ত্রী এমপি’র ক্ষমতার দাপট দেখিয়ে দায়িত্বের বাইরে স্বেচ্ছাচারী কর্মকাণ্ড চালিয়ে যাচ্ছে।
এসব বিষয়ে কথা বলতে চেয়ে এসিল্যান্ডের দায়িত্বে থাকা উপজেলা নির্বাহী অফিসার সাদেকুল ইসলামের সাথে যোগাযোগ করলে তিনি অভিযোগগুলোর আংশিক সত্যতা স্বীকার করে বলেন, অচিরেই এসব খতিয়ে দেখে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে যাতে সাধারণ জনগণ এই অফিসে এসে হয়রানির শিকার হচ্ছে এমন অভিযোগ আর শুনতে না হয়। তার মতে, বাগমারা বিশাল উপজেলা।
এখানে সহকারী কমিশনার (ভূমি) পদ শূন্য থাকায় লোকজনের কিছু বিড়ম্বনা হয়। পদটি পূরণের জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে একাধিকবার চিঠি দেয়া হয়েছে বলে তিনি জানান।
