যখন ব্রেনে রক্ত সঞ্চালনের বাঁধা পায় বা ব্যহত হয় অথ্যাত্ রক্ত জমাট বেধে ধমনীকে ব্লক করে দেয়। ফলে 0২ এর অভাবে ব্রেণের কোষগুলো মারা যায় ও ব্রেনের কার্যকরী ক্ষমতাকে নষ্ট করে ফেলে। তখন স্ট্রোক বা ব্রেন এ্যাটাক হয়ে থাকে। স্ট্রোকের পরিনাম নির্ভর করে স্ট্রোক কোথায় হচ্ছে ও ব্রেনের কতটুকু আক্রান্ত হচ্ছে তার উপর। স্ট্রোক জাতি, ধর্ম নির্বিশেষে যে কোন বয়সের যে কোন মানুষের হতে পারে। একটি জরীপে দেখা গেছে যুক্তরাষ্ট্রে প্রতি বছর প্রায় ১,৩০,০০০ লোক স্ট্রোকে মারা যায়। মহিলাদের তুলনায় পুরুষেরা এরোগে বেশি আক্রান্ত হয়ে থাকে।
স্ট্রোকের পরিমাণ কম হলে শুধু মাত্র হাত ও পায়ে দূর্বল অনুভূত হয়। আর স্ট্রোকের পরিমাণ বেশি হলে শরীরের এক অংশ প্যারালাইসিস বা অবশ হয়ে রোগী কথা বলার ক্ষমতা হারিয়ে ফেলে। এমনকি রোগী মারাও যেতে পারে। স্ট্রোক দুই ধরণের। যেমন- ইস্কেমিক স্ট্রোক ও হেমোরেজি স্ট্রোক।
ব্রেনে 0২ রক্ত সঞ্চলানে ব্যহত হওয়ার কারণে ইস্কেমিক স্ট্রোক হয়। আবার রক্তের ভেসেরন ভেঙ্গে ব্লাড ব্রেনে চলে গেলে হেমোরেজি স্ট্রোক হয়।
স্ট্রোকের কারণ সমূহ:
বয়সের কারণে অথ্যাত্ ৫৫ বছর পর স্ট্রোকের ঝুঁকি বেশি হয়।
মহিলাদের চেয়ে পুরুষেরা বেশি আক্রান্ত হয়ে থাকে।
পরিবারের কারোর স্ট্রোকের হিস্টরি থাকলে।
উচ্চ রক্তচাপ থাকলে।
রক্তে খারাপ কোলেস্টেরল-এর পরিমাণ বেশি থাকলে।
বেশি বেশি ধূমপান করলে, মদ্য পান ও অ্যালকোহল সেবন করলে।
ডায়াবেটিস থাকলে।
অতীতে কোন স্ট্রোক অথ্যাত্ ট্রান্সসিয়েন্ট ইস্কেমিক অ্যাটাক হলে।
রক্তে অ্যামাইনো এসিড বেশি থাকলে।
স্বামী বা স্ত্রীর মধ্যে বিবাহ বিচ্ছেদ হলে স্ট্রোক হতে পারে।
হতাশা বা ডিপ্রেশনে থাকলেও স্ট্রোকে আক্রান্ত হতে পারে।
অনিয়ন্ত্রিত হূদপিন্ডের গতির কারণ ও হূদপিন্ডের বিভিন্ন রোগের কারণেও স্ট্রোক হতে পারে।
ক্যারটিড আর্টারী ডিজিজ, হাইপারটেনশন, ও বেশি ওজনের কারণেও স্ট্রোক হতে পারে।
স্ট্রোকের লক্ষণসমূহ
হাঁটার অস্বাভাবিকতা বা হাটতে না পারা।
শরীরের ভারসাম্য হারিয়ে ফেলা।
কোঅর্ডিনেশনের সমস্যা হওয়া ও কথা বলতে অসুবিধা হওয়া।
ঘুম ঘুম ভাব বা ঝিমুনি আসা, শরীর অবশ হয়ে যাওয়া।
শরীরের কিছু অংশ অবশ বা প্যারালাইসিস হয়ে যাওয়া।
মাথা ঘোরা, চোখে ঝাপসা দেখা ও ডাবল ডাবল দেখা।
জয়েন্টে ব্যথা অনুভব করা, হাত ও পা উপরে তুলতে না পারা।
দৈনন্দিন কাজ কর্ম করতে অসুবিধা হওয়া, মুখ একদিকে বেকে যেতে পারে। প্রস্রাব পায়খানা ধরে রাখতে না পারা। এমন কি রোগী মারাত্মক পর্যায় চলে গেলে রোগী কোমায় চলে যেতে পারে। অথবা রোগী মারাও যেতে পারে।
স্ট্রোকের রোগীদের করণীয়
পরিশেষে বলা যায় যে, স্ট্রোক হওয়ার সাথে সাথে রোগীকে জরুরি ভিত্তিতে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া উচিত এবং ডাক্তারের পরামর্শে চিকিত্সা শুরু করা উচিত। স্ট্রোকের রোগীকে ২৪ ঘন্টার মধ্যে ডাক্তারের পরামর্শে ফিজিওথেরাপি দেওয়া হলে রোগী তাড়াতাড়ি উন্নতির দিকে ফিরে আসে। রোগীর শারীরিক ক্ষমতা, দৈনন্দিন কাজ কর্ম ও সহায়তার জন্য ফিজিওথেরাপির গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করতে পারে। স্ট্রোকের রোগীদের নিয়মিত ব্যায়াম করা উচিত। তানা হলে কমপক্ষে সপ্তাহে তিন দিন ব্যায়াম করা উচিত। ফিজিওথেরাপির মাধ্যমে রোগী পুনরায় স্ট্রোক-এর ঝুকি মুক্ত থাকতে পারেন। ব্লাড প্রেসার ও ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণে রাখুন, লবণ কম খাওয়া ও পরিমিত খাবার গ্রহণের অভ্যাস করুন। প্রয়োজনে একজন অভিজ্ঞ ফিজিওথেরাপিষ্ট দ্বারা ব্যায়াম লিখে নিন এবং নিয়মিত চিকিত্সা ও ব্যায়াম চালিয়ে যান, সুস্থ থাকুন।
ডা:সুস্মিতা ঘোষ (পিটি)
পেইন এন্ড ফিজিওথেরাপি স্পেশালিস্ট
পেইন এন্ড ফিজিও সেন্টার
(যমুনা ব্যাংকের উপরে)
বাড়ি ১৭/১, রোড ৬, ধানমন্ডি, ঢাকা
