লিবিয়ায় বোমা হামলা
লিবিয়ায় বোমা হামলায় নিহত পাঁচ জনের বাড়িতে চলছে শোকের মাতম। নিহতদের মধ্যে মোঃ মুরাদ, শেখ মিলন ও মশিউর এ তিন জন খালাতো ভাই। অন্য দুই জন হলেন, ঝিনাইদহের মহেশপুর উপজেলা বাবলা মাথাভাঙ্গা গ্রামের মিলন হোসেন (৩০) এবং যশোরের ঝিকরগাছা উপজেলার বায়সা গ্রামের আরমনা (৩৫)। নিহতদের পরিবারের লোকজন পথ চেয়ে আছে কখন তাদের প্রিয় মানুষটির মৃতদেহ দেশে এসে পৌঁছাবে পরিবারের দাবি লাশগুলো অন্তত সরকার যেন দেশে এনে তাদের হাতে তুলে দেয়।
টেকেরহাট ও মুকসুদপুর সংবাদদাতা জানান, নিহতদের মধ্যে রাজৈর উপজেলার শ্রীরামপুর গ্রামের ছরোয়ার মোল্যার ছেলে মোঃ মুরাদ (২৫), আলী শেখের ছেলে মোঃ মিলন শেখ (২৪) এবং মুকসুদপুর উপজেলার দিগনগর ইউনিয়নের জোয়ারিয়া গ্রামের রফিকুল ইসলামের ছেলে মোঃ মশিউর রহমান সম্পর্কে খালাতো ভাই। তিন ভাই লিবিয়ার ত্রিপোলী শহরে নির্মাণাধীন ভবনে টাইলস ফিটিংস এর কাজ করতো। ত্রিপোলীতে তাদের মৃত্যুর খবরটি পরিবারের সদস্যদের জানান নিকটতম এক স্বজন। খবর পাওয়ার পর নিহতদের মা-বাবাসহ স্বজনরা কান্নায় ভেঙ্গে পড়েন। জোয়ারিয়া ও শ্রীরামপুর গ্রামে শুরু হয় শোকের মাতম।
ভাগ্য ফেরাতে মুরাদ ও মিলন শেখ তিন বছর আগে সর্বস্ব বিক্রি করে ৪ লক্ষ টাকা দিয়ে যান লিবিয়ায়। তিন মাস আগে তাদের কাছে কাজ করতে যান খালাতো ভাই মশিউরও। লিবিয়া যাওয়ার জন্য মশিউরও বিক্রি করেছিল ভিটেবাড়ি।
মহেশপুর (ঝিনাইদহ) সংবাদদাতা জানান, পরিবারের মানুষের মুখে হাসি ফোটাতে ৪ বছর পূর্বে লিবিয়ায় যান ঝিনাইদহের মহেশপুর উপজেলা বাবলা মাথাভাঙ্গা গ্রামের মিলন হোসেন (৩০)। কিন্তু তাদের মুখে হাসির বদলে এখন শুধু অশ্রুর বন্যা।
জানা গেছে, মিলন হোসেন দীর্ঘদিন লিবিয়ায় কাজ করে বাড়িতে টাকাও পাঠিয়েছিলেন। সেই টাকা দিয়ে একটি আধাপাকা বাড়িও নির্মাণ করা হয়েছে। কিন্তু সেই বাড়ি শেষ করে আর ফেরা হলো না মিলনের। তার একটি মেয়ে রয়েছে। মিলনের স্ত্রী বলেন, চারদিন আগে স্বামীর সাথে শেষ কথা হয়। তখনি সে আমাকে বলেছিল আমরা খুব কষ্টে আছি। এখানে খুব বোমা পড়ছে ও গোলাগুলিও হচ্ছে। বাইরে বের হতে পারছি না।
বুধবার সকালে মিলনের এক বন্ধুর মারফত মৃত্যু সংবাদ পায় পরিবারের লোকজন। চার ভাই বোনের মধ্যে তিনি ছিলেন সবার বড়।
যশোর অফিস জানায়, আরমানের মৃত্যুর খবরে মুষড়ে পড়েছেন তার পরিবারের সদস্যরা। আরমানের চাচা শ্বশুর শুকুর আলী জানিয়েছেন, বায়সা গ্রামের আরেক লিবিয়া প্রবাসী শওকত আলী ফোন করে তার মৃত্যুর খবরটি জানায়। তার মৃত্যুর খবরে গোটা পরিবারে শোকের ছায়া নেমে এসেছে।
শনিবার রাতেও আরমান পরিবারের সাথে ফোনে জানান, যুদ্ধ পরিস্থিতির কারণে তারা আতংকে রয়েছেন। দেশে ফিরে আসার ইচ্ছা থাকলেও কয়েক মাসের বেতন বকেয়া পড়ায় তিনি ফিরতে পারেননি।
তিন বোনের একমাত্র ভাই আরমান প্রায় আড়াই বছর আগে বৈধপথে লিবিয়া যান। শ্রমিক হিসাবে সেখানে কাজ করে তিনি বাড়িতে নিয়মিত টাকা পাঠাতেন। আরমানের নাইম নামে ৭ বছরের একটি ছেলে এবং আনিকা নামের আড়াই বছর বয়সের একটি মেয়ে রয়েছে।
